শনিবার ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০:২২ এএম


সমাবর্তন বক্তা নিয়ে বিতর্কের মুখে কুবি প্রশাসন

সজীব বণিক, কুবি

প্রকাশিত: ২১:০৮, ১৫ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২১:০৯, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন। প্রতিষ্ঠার ১৩ বছর পরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যাল (কুবি) ১ম সমাবর্তনকে ঘিরে তৈরী হয়েছে নতুন বিতর্ক।

জানা যায়, দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ থেকে নিতে যাওয়া ডিগ্রীধারীদের উৎসাহ ও উদ্দিপনায় পানি ঢেলেছে খোদ বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসন।

সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ,সমাবর্তনে কোনো নোবেল লরিয়েট’কে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে আনার স্বপ্ন দেখিয়ে নিজের রাজনীতিকে পাকাপোক্ত করতে স্থানীয় সাংসদকে এ সমাবর্তনের বক্তা হিসেবে মনোনিত করেছেন। এমন সিদ্ধান্ত প্রশাসনের পক্ষথেকে চূড়ান্ত করা হলেও শিক্ষার্থীদের রোষানলে পড়ার ভয়ে সমাবর্তন বক্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি বলে জানা যায়।

অন্যদিকে সমাবর্তনে নিবন্ধনের জন্য ধার্যকৃত অর্থের পরিমাণ কমানোর দাবিও করছেন ডিগ্রীধারীরা।

এদিকে অনুষ্ঠিতব্য সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির আচার্য মো. আব্দুল হামিদ সভাপতিত্ব করবেন। এ সমাবর্তনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারের এক প্রভাবশালী মন্ত্রীকে সমাবর্তন বক্তার জন্য মনোনীত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে বিষয়টি নিয়ে চলছে সাবেক শিক্ষার্থীদের সমালোচনা, ক্ষোভ ও অপ্রাপ্তির সুর।

সমাবর্তনে যাদেরকে আনুষ্ঠানিক ডিগ্রী দেওয়া হবে এমন কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সমাবর্তন হলো আনুষ্ঠানিক ডিগ্রী প্রদানের এক মহাউৎসব। শিক্ষা জীবনের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। শিক্ষার্থীরা সমাবর্তন বক্তার বক্তব্যে অনুপ্রাণিত হয়ে জীবনের গতিকে দৃঢ় করেন। বিশ্বে কীর্তিমান ব্যক্তিদেরকে সমাবর্তনের বক্তা করার রেওয়াজ রয়েছে। যারা সমাজকে মেরামত করেন এমন প্রখ্যাত ব্যক্তিদেরই এ অবস্থানের আসীন করা হয়।

কিন্তু উপাচার্য বা প্রশাসনের কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে স্থানীয় সাংসদকে সমাবর্তন বক্তার জন্য চূড়ান্ত করেছেন। স্থানীয় ঐ সাংসদ এমন অবস্থান পেতে পারেন কিনা তা নিয়ে উঠেছে গুঞ্জন।

তবে দেশে বিদেশে অনেক শিক্ষাবিদই রয়েছেন যাদের বক্তব্য শুনতে চান শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্নাতকোত্তর শেষ করা একজন শিক্ষার্থী বলেন, বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনে বান কি মুনকে বক্তা করা হয়েছে কিন্তু আমাদের? এটা আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেছি।

নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের প্রতি এটিও একটি নীরব প্রতিবাদ বলে জানান তিনি। নাম প্রকাশে অনিশ্চুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ভিসি যতটা না শিক্ষাবিদ তারচেয়ে বেশি রাজনীতিবিদ।

তিনি মন্ত্রী সাহেবকে খুশি করার জন্যই এমনটি করেছেন।এদিকে সমাবর্তনে নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফি কমানোর দাবি জানিয়েছেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। সমাবর্তনে স্নাতক ডিগ্রীধারীদের জন্য ৩৫৫০ টাকা এবং স্নাতক ও একই সঙ্গে স্নাতকোত্তর (দুই ডিগ্রী) জন্য ৪০৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে পূর্বে সমাবর্তন কমিটির আহবায়ক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. এ কে এম রায়হান উদ্দিনকে করা হলেও তাকে সরিয়ে দিয়ে উপাচার্য নিজেই আহবায়ক পদে আসীন হয়েছেন এবং রেজিষ্ট্রার ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহেরকে করেছেন সদস্য সচিব। ড. রায়হানকে আহবায়ক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়েও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি প্রশাসন।

জানা যায়, ১ নভেম্বর থেকে সমাবর্তনের জন্য নিবন্ধনের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও এর পূর্বেই শুরু করা হয় নিবন্ধন কার্যক্রম। সমাবর্তন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াদি নিয়ে ¯পষ্ট বিবরণ প্রকাশ করাও হয়নি। একই সঙ্গে সমাবর্তনে অংশ না নিলেও সকল ডিগ্রীধারীকে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে মূল সনদ নিতে হবে বলে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, নিবন্ধন শুরু হওয়ার পর গত বুধবার পর্যন্ত ১৬ দিনে নিবন্ধন করেছেন শতকেরও কম।

সমাবর্তনের এ সকল বিষয় ও সমাবর্তন বক্তার বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা স্থানীয় সংসদকে সমাবর্তন বক্তার জন্য প্রস্তাব করেছি। তিনি এখনও কোনো কিছু জানায়নি । তবে সকল কিছু ছাপিয়ে একটি শিক্ষার্থী বান্ধব সমাবর্তন উপহার দেয়ার আশাপ্রকাশ করেন তিনি।

এডুকেশন/কেআর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর