বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৫১ পিএম


সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:০০, ৭ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১২:২২, ৮ নভেম্বর ২০১৯

সমাপনী পরীক্ষা সামনে রেখে শিক্ষকদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন।

বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে সচিবালয়ে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের নেতাদের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ অনুরোধ জানান।

বৈঠকে শেষে শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দীন আহমেদ মাসুদ এডুকেশন বাংলাকে জানান, সচিব মহোদয় সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের মতো কর্মসূচি থেকে সরে আসার অনুরোধ করেছেন। আমরা আমাদের দাবির বিষয়টি ‍ তুলে ধরেছি। উনাকে অনুরোধ করেছি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিতে। সচিব মহোদয় বলেছেন, উনি চেষ্টা করবেন।

আরো পড়ুন:প্রাথমিক শিক্ষক আন্দোলন দুই বাংলায়, সমাধান কোথায়?

কোনো সিদ্ধান্তে এসেছেন কিনা এডুকেশন বাংলার এমন প্রশ্নের জবাবে শামছুদ্দীন আহমেদ মাসুদ বলেন, ১৩ নভেম্বরের মধ্যে আমাদের দাবি মেনে নেয়া না হলে সমাপনী ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের যে কর্মসূচি আছে তা প্রত্যাহের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেইনি। আমরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জানাবো

গত ২৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষরে ব্যানারে মহাসমাবেশ পুলিশের বাধায় পন্ড যায়। ওইদিনই ১৩ নভেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে প্রাথমিক সমাপনী ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়া হয়।

এরপর ৩১ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এ এফ এম মনজুর কাদিররে সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন শিক্ষক করেন শিক্ষক নেতারা। তবে সে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি।

এদিকে আন্দোলনরত প্রাথমিক শিক্ষকরা সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণে অস্বীকার করলে এ পরীক্ষা নিবেন মাধ্যমিকের শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) অধিদপ্তর থেকে সব জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন,প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জনের পর বার্ষিক পরীক্ষাও বর্জন করা হবে। পুলিশ বা মাধ্যমিকের শিক্ষক দিয়ে পরীক্ষা নেয়া এবং পরবর্তীতে খাতা দেখা ফল প্রস্তুত এবং ঘোষণা করা প্রাথমিকের শিক্ষক ছাড়া করা অসম্ভব হবে। বিষয়টি আলোচনার জন্য শুক্রবার ঢাকায় জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে প্রতিটি জেলা থেকে ঐক্য পরিষদের ৩ জন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের জন্য দশম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১১তম গ্রেডের ঘোষণা ২০১৭ সালে দেওয়া হয়েছিল। এখন পর্যন্ত সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকেরা ১৪তম গ্রেডে ও প্রশিক্ষণবিহীন শিক্ষকেরা ১৫তম গ্রেডে বেতন পান। আর প্রশিক্ষণ পাওয়া প্রধান শিক্ষকেরা ১১তম গ্রেডে এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকেরা ১২তম গ্রেডে বেতন পান।

এডুকেশন বাংলা / কেআর/ এসআই

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর