বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১৪:০৮ পিএম


সমন্বয়হীনই থাকিবে মাউশি ও এনটিআরসিএ?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:০২, ২২ জুলাই ২০১৯  

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এবং বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) এই দুইটি প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে মিলিয়া শিক্ষক নিয়োগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করিবার কথা। কিন্তু বাস্তবে তাহা না করিবার কারণে শিক্ষকরা নিয়োগ পাইয়াও ভোগান্তির শিকার হইতেছেন। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবর হইতে জানা যায়, মাওশি ও এনটিআরসিএর সমন্বয়হীনতার কারণে এমপিওভুক্ত হইতে পারিতেছেন না অনেক শিক্ষক।

তাহারা কাগজপত্রসহ আবেদন জমা দিতে গিয়াও ভোগান্তির মুখে পড়িতেছেন। মাউশি জানাইতেছে যে, শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে তাহারা কিছুই জানে না। উল্লেখ্য যে, সারা দেশের চার শতাধিক শিক্ষকপ্রার্থী নিয়োগ পাইয়াছেন এবং ছয় মাস ধরিয়া শিক্ষকতাও করিতেছেন, অথচ তাহারা এখন পর্যন্ত বেতন পাইতেছেন না।


বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিপূর্বে স্থানীয় স্কুল/কলেজ ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হইত। তবে বর্তমানে এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ করিতে সরকার, এনটিআরসিএকে দায়িত্ব দিয়াছে, যাহার সহিত যুক্ত থাকিবে মাউশি। কিন্তু দুঃখজনক হইলেও সত্য যে, নিবন্ধনকারীরা তাদের মেধা অনুযায়ী সঠিক সময়ে নিয়োগ পাইলেও এমপিও পাইতেছেন না। জানা গিয়াছে, দীর্ঘদিন ধরিয়াই এই দুই প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় হইতেছে না। ইহার ফল ভোগ করিতে হইতেছে নিরীহ শিক্ষক-কর্মচারীদের। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে শিক্ষকদের বেতন ফাইল লাটিমের মতো ঘুরিতেছে দীর্ঘদিন ধরিয়া।

অথচ মাউশি ও এনটিআরসিএ খুব দূরের কেহ নহে—খুবই কাছাকাছি এবং একটি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। সুতরাং ইহাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে নিরীহ শিক্ষকরা বেতন না পাইবার বিষয়টি অতীব দুঃখজনক। স্মর্তব্য যে, এমপিওভুক্তদের বেতন প্রদান করিয়া থাকে মাউশি। আর নিয়োগপ্রক্রিয়া পরিচালনা করিয়া থাকে এনটিআরসিএ। সুতরাং এই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সমন্বয় থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। ইহার বিপরীতে একে অপরের দিকে কাদা ছুড়াছুড়ি করাটা দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করে।

সুতরাং এই দুই প্রতিষ্ঠানের সত্বর সমন্বয়সাধনই পারে উদ্ভূত পরিস্থিতির সামাল দিতে। শূন্যপদসংক্রান্ত সঠিক নোটিশ আঞ্চলিক অফিস, আঞ্চলিক অফিস হইতে মূল অফিসে পাঠানোটাও অতীব গুরুত্বপূর্ণ—কেননা এই বিষয়ের ওপরই সিদ্ধান্ত লইতে হইবে মাউশি ও এনটিআরসিএকে। এই বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিড়ম্বনা এবং দীর্ঘসূত্রিতার অবসান ঘটাইতে হইবে অতি সত্বর।

দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদকীয় থেকে
এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর