শনিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৮:৩৬ পিএম


সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে ইউজিসির খসড়া প্রস্তাব যা আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:০৩, ২৮ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ২৩:০৭, ২৮ জানুয়ারি ২০২০

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় একযোগে গুচ্ছ বা সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করতে একটি খসড়া প্রস্তাব প্রণয়ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করতে আগামী সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে আবারও বৈঠক করবে ইউজিসি।

ভর্তি পরীক্ষার খসড়া প্রস্তাবে দেখা গেছে, ভর্তি পরীক্ষার আয়োজক হবে ইউজিসি। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। আর ভর্তির আবেদনপ্রক্রিয়া হবে অনলাইনে। দেশজুড়ে একযোগে দুই দিনেই শেষ হবে সব পরীক্ষা। পরীক্ষার আয়োজন করা হবে সকাল-বিকালে।

প্রথম দিন সকালে বিজ্ঞান বিভাগের রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও গণিত এবং বিকেলে চিত্রাঙ্কন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরের দিন সকালে মানবিক ও ব্যবসায় বিভাগের বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞান পরীক্ষার আয়োজন করা হবে। আর বিকেলে শুধু ব্যবসায় বিভাগের জন্য অ্যাপটিটিউট (স্বাভাবিক জ্ঞান) বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হবে।

প্রস্তাবে না থাকলেও আবেদনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় আর একাধিক বিষয় নির্বাচনের অপশন রাখার চিন্তা করা হচ্ছে।

পরীক্ষার জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা নির্দিষ্ট করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিষয়ের অপশন চেয়ে আবেদন আহ্বান করা হবে। প্রতিটি গুচ্ছের জন্য অপশনসহ মেরিট লিস্ট তৈরি করা হবে। মডিউল সিস্টেমে দুই দিন পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর প্রতিটি গুচ্ছের মেরিট লিস্ট তৈরি করা হবে। তারপর অপশন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের প্লেসমেন্ট লিস্ট তৈরি করে সেন্ট্রাল মনিটরিং কমিটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। প্লেসমেন্ট লিস্ট প্রকাশ করার পর শিক্ষার্থীদের দুই দিনের মধ্যে বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারণ করে সেন্ট্রাল মনিটরিং কমিটিকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জানাতে বলা হবে। ডিপার্টমেন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত হলে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি শুরু হবে। ঢাকায় বড় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসংক্রান্ত একটি বুথ তৈরি করা হবে।

প্রস্তাবে পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, ভর্তি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান ইউজিসির সদস্য অথবা বড় কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি থাকবেন। অন্য ভিসিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন।

সদস্য সচিব ভিসিদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হবে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কমিটিতে প্রশাসনিক এবং কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে। ভর্তি প্রক্রিয়া শুরুর আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসন সংখ্যা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হবে। তার ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে।

উভয় কমিটির কয়েকজন সদস্য মিলে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হবে। এ কমিটি বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নপত্র তৈরি, ভিন্ন ভিন্ন গুচ্ছের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে আবেদনপত্র আহ্বান ও যাচাই-বাছাইকরণ, শিক্ষার্থীদের নামের পাশে কোড দেয়া, মেধাতালিকা তৈরি করবে।

এ ছাড়া স্থানীয় কমিটিতে খাতা দেখা এবং ফলাফল প্রক্রিয়ায় সাব-কমিটি গঠন করা হবে। কড়া নিরাপত্তার মাধ্যমে পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। পরীক্ষা গ্রহণের আগে এসব কমিটি গঠন করা হবে। অন্যদিকে স্থানীয় কমিটি পরীক্ষা নেয়া, খাতা মূল্যায়নে কোডিং, ফল প্রণয়ন প্রক্রিয়াকরণ ও তা যথাস্থানে পাঠানোর কাজ করবে।

বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত বা গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় ইউজিসি। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জানুয়ারি দেশের সব ক্যাটাগরির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে বৈঠক করে ইউজিসি।

সার্বিক বিষয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, এ মুহূর্তের অগ্রাধিকার হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে গুচ্ছ বা সমন্বিত পদ্ধতি প্রবর্তন। এটা সময়ের দাবি। গুচ্ছ বা সমন্বিত পদ্ধতির ব্যাপারে আরও আলোচনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। আমাদের লক্ষ্য যেহেতু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাশ্রয় ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি দেয়া হবে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর