মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ২১:০২ পিএম


‘সব স্কুল-কলেজ ও স্নাতক-স্নাতকোত্তর শিক্ষকদেরও এমপিও দিতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:৩০, ১১ মে ২০১৯   আপডেট: ১৯:৩৪, ১১ মে ২০১৯

শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডে অতিরিক্ত চাঁদার অতিরিক্ত চাঁদা কেটে নেওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণসহ আট দফা দাবিও উত্থাপন করেছে তারা।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি উত্থাপন করা হয়।


নন এমপিওভুক্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির পাশাপাশি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সব শিক্ষকদেরও এমপিওভুক্তির দাবিও উঠে এ সংবাদ সম্মেলনে।

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলম সাজু বেসরকারি শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা প্রদান, বাড়ি ভাড়া ও মেডিকেল ভাতা প্রদান, নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও, শিক্ষা প্রশাসন থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের অপসারণের দাবি জানান।

তিনি বলেন, দেশের ৯৮ শতাংশ শিক্ষার মূল দায়িত্ব পালনকারী বেসরকারি শিক্ষকরা আজ নানাভাবে উপেক্ষিত। সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় হচ্ছে শিক্ষা ব্যব্স্থা জাতীয়করণ।

তিনি বলেন, স্বল্প আয়ের শিক্ষকদের আর্থিক দিক বিবেচনা করে অতিরিক্ত চাঁদার বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের আগে কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের অতিরিক্ত চার শতাংশ চাঁদা কর্তনের জন্য শিক্ষক কর্মচারীদের চাঁদার হার অনুপাতে অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করতে হবে।


বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা বাতিল করে পূর্বের নীতিমালা বহাল রাখার দাবি জানান সাজু।

এছাড়াও মাউশি, কারিগরি ও মাদরাসা অধিদপ্তর, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, এনটিআরসিতে যোগ্যতার ভিত্তিতে বেসরকারি শিক্ষকদের নিয়োগ, এমপিও নীতিমালাসহ শিক্ষা সংক্রান্ত সব কমিটিতে বেসরকারি শিক্ষকদের নিয়োগ নিশ্চিতের দাবি জানান তিনি।

সাজু বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের উৎখাত করতে হবে। ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের অপতৎপরতা কঠোর হাতে দমন করতে হবে। আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে।”


সহকারী মৌলভীদের সহকারী শিক্ষকদের মতো ২২ হাজার টাকা স্কেলে বেতন প্রদানের পাশাপাশি সংযুক্ত এবতেদায়ী মাদরাসা প্রধানদের উচ্চতর বেতন স্কেলে ১২ হাজার ৫০০ টাকা প্রদানের দাবিও জানান সাজু।

সরকার ইতোমধ্যে শিক্ষকদের কল্যাণ ও অবসর বোর্ডের জন্য ৭৫৭ কোটি টাকা, ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্টের জন্য ৫০০ কোটি টাকা, ২০ শতাংশ বৈশাখী ভাতার জন্য ১৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।

বেসরকারি শিক্ষকদের এখন তাদের বেতনের ১০ শতাংশ কল্যাণ ট্রাস্টে দিতে হয়, আগে এর হার ছিল ৬ শতাংশ।

বেসরকারি শিক্ষকদের অবসরকালীন নানা সুবিধা নিশ্চিত করতে এর হার বাড়ানো হয়েছে বলে জানান সাজু।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির হারের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই এ হার বাড়ানো হয়েছে। “তবে চাঁদা বৃদ্ধির এ হার নিয়ে একটি মহল শিক্ষকদের অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে। আমরা এদের বিপক্ষে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মান্নান চৌধুরী, অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি কাজী মিজানুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ শিক্ষকদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

এডুকশন বাংলা/একে

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর