সোমবার ১৩ জুলাই, ২০২০ ১৪:৫৯ পিএম


সফটওয়্যারের মাধ্যমে গরিবদের ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:২৩, ১ জুন ২০২০   আপডেট: ০৮:২৮, ১ জুন ২০২০

সেন্ট্রাল এইড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিএএমএস) সফটওয়্যারের মাধ্যমে গরিবদের ডিজিটাল ডাটাবেস তৈরি করছে সরকার। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৫০ লাখের বেশি দরিদ্র পরিবারের ডাটাবেস করা হয়েছে। সেখানে তথ্য গরমিল থাকায় ১০ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শুরুতে কিছু ভুল হতেই পারে। সফটওয়্যারটি উন্নত করা হচ্ছে। এরপর ভুলের পরিমাণ অনেকটা কমে আসবে। কর্মকর্তারা বাকি ডাটাবেস এই সফটওয়্যারের মাধ্যমেই করতে চান বলে জানান।

ইতোমধ্যে ওই ডাটাবেস ধরেই প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, সিএএমএসের মাধ্যমে নামের দ্বৈততা এবং অন্যান্য ভুল পরিহারসহ সব ধরনের সমস্যা সমাধান করা যাবে। পর্যায়ক্রমে এই সফটওয়্যার আরও উন্নত করা হবে। তখন এতে ভুল কমে আসবে।

জানা যায়, ওয়ার্ড পর্যায়ে নির্বাচিত সাধারণ সদস্যদের নিয়ে গঠিত কমিটি প্রাথমিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করছে। এরপর উপকারভোগীদের ২৪ ধরনের তথ্য এক্সেল ডাটাবেসে লিপিবদ্ধ করা হয়। উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেই ডাটাবেস সিএএমএস সফটওয়্যারে আপলোড করছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ডাটা অনুমোদন করছেন। এরপর সেই তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেসে কেন্দ্রীয়ভাবে যুক্ত হচ্ছে। এ কাজে কারিগরি সহায়তা করছেন ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান  বলেন, সারাদেশের পাঁচ কোটি দরিদ্র মানুষকে ডিজিটাল ডাটাবেসের আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ তালিকাভুক্ত পরিবারকে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় দেখভাল করছে। ত্রাণ মন্ত্রণালয় দরিদ্রদের তালিকা করার বিষয়টি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং অর্থ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম বলেন, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন থেকে এ ধারণাটি এসেছে। এরপর তারা সেটি যাচাই-বাছাই করে দেশব্যাপী কাজ করছেন। সময়ে সময়ে আইসিটি বিভাগের ল্যাবে এর কোয়ালিটি পরীক্ষা করা হবে। কাজ করতে গিয়ে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন, তা সংশোধনের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে এই সফটওয়্যার আরও উন্নত করা হবে।

জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলামের নির্দেশনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (আইসিটি) বজলুর রশিদের নেতৃত্বে টাঙ্গাইল, বরগুনা, নরসিংদী, গাজীপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলার আইসিটি বিভাগের ৫ জন প্রোগ্রামারের সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়। ওই টিম সিএএমএস সফটওয়্যার তৈরি করে। এরপর টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক সেই সফটওয়্যার দেশব্যাপী ব্যবহারের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে চিঠি পাঠান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সেটি আইসিটি বিভাগে পাঠায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গত ২ মে দেশব্যাপী তা ব্যবহারের জন্য নির্দেশনা দেয় আইসিটি বিভাগ।
টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, সিএএমএস সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা যাবে। প্রকৃত উপকারভোগীকে তার সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব। ডিজিটাল এই পদ্ধতির কারণে অল্প সময়ের মধ্যে দরিদ্র মানুষের তালিকাও সংগ্রহ করা যাবে।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, করোনাভাইরাসের দুর্যোগকালে এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে সঠিক উপকারভোগীর মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা সহজ হবে। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে সন্তোষজনক ফলাফল পেয়েছেন তারা। এখন আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিস্টেমটি আরও আপগ্রেড করা হবে। এ পদ্ধতির মাধ্যমে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। কারও নাম দু`বার আসবে না। সার্বিকভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ হবে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ছয় বছর আগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জাতীয় খানা জরিপ (এনএইচডি) প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রতিটি জেলায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি তালিকা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। জরিপের কাজও শেষ। কিন্তু তালিকাটি এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। ওই তালিকা হলে দুর্যোগের এই সময়ে ত্রাণ বিতরণ খুবই সহজ হতো। বিবিএসের মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পটির কাজ এখনও শেষ হয়নি।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের সিস্টেমস ম্যানেজার মোহা. মাসুম বিল্লাহ  বলেন, যে কোনো প্রযুক্তির কাজে শুরুতে কিছু সমস্যা হয়। কাজ করতে গিয়ে ঠিক হয়ে যাবে। কিছুদিন কাজ করলে ডিজিটাল মাধ্যমের অনেক সুবিধা পাওয়া যায়।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর