মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৪:১৭ পিএম


সন্তানের বয়ানে একজন মায়ের জয়ীতা হওয়ার গল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৫২, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৩:৪৪, ১০ ডিসেম্বর ২০১৯

গতকাল (৯ ডিসেম্বর)আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধপক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস-২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে `জয়ীতা অন্বেষণে বাংলাদেশ` কার্যক্রমের আওতায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে হবিগঞ্জ জেলা পর্যায়ে ৪ জন `নারী` শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন।

এর মধ্যে `সফল জননী নারী` ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ জয়ীতা নির্বাচিত হয়েছেন মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের আহম্মদপুর গ্রামের নুরুন্নাহার বেগম। এই জয়ীতার বড় সন্তান গোবিন্দপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মো.কামরুল হাসান ফেসবুকের নিজস্ব টাইমলাইনে তার মায়ের জয়ীতা হওয়ার গল্প বলেছেন। গল্পটি কিছুটা সম্পাদনা করে `এডুকেশন বাংলা`র সম্মানিত পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

`আমাদের আম্মা "সফল জননী নারী" ক্যাটাগরিতে হবিগঞ্জ জেলায় শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায় (ধর্মঘর) থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্মানিত সকল নির্বাচক সদস্যবৃন্দের প্রতি থাকলো আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতিজ্ঞতা।

আম্মার একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড এর কথা লিটারেলি বললে বেশি বলার সুযোগ নেই, কিন্তু আম্মাকে লক্ষ্য করেছি তাঁর রয়েছে অসাধারণ ম্যানেজিং ক্যাপাবিলিটি। আব্বা (গোবিন্দপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব মো. হরমুজ আলী)গভঃ হাই স্কুলের শিক্ষক ছিলেন বিধায় এমনিতেই একটা পড়াশুনাবান্ধব পরিবেশ ছিল ঠিক, কিন্তু আম্মা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখার মাধ্যমে আমাদেরকে আগলে রেখে পড়াশুনার পথকে অধিকতর মসৃণ রেখেছেন।

আম্মা তৎকালীন সময়ে ৫ম শ্রেণিতে স্কলারশিপ পেয়েছিলেন। আমি বিশ্বাস করি আমদের মত সুযোগ পেলে নিজের ক্যারিয়ার অন্যভাবে গড়তে পারতেন। হয়ত বর্তমানের এটাই আল্লাহর ইচ্ছা।

আমরা চার ভাইবোন। আমি (কামরুল হাসান-বড় সন্তান) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স মাস্টার্স করে বর্তমানে সরকারি হাই স্কুলে শিক্ষকতা করছি। একমাত্র বোন ইসরাত জাহান সুমি ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ম্যানেজমেন্টে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে এখন সে একজন সুগৃহিণী। ইমিডিয়েট ছোট ভাই মহিবুল হাসান সোহাগ বুয়েট থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এ পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে বহুজাতিক কোম্পানি `গ্রামীণ ফোন` এ `লিড ইঞ্জিনিয়ার` হিসেবে কর্মরত। তার পরেরজন মাহমুদুল হাসান সুজন চুয়েট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংএ পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে সড়ক ও জনপদ বিভাগে সহকারি প্রকৌশলী( ক্যাডার) হিসাবে কর্মরত। আমাদের পড়াশুনার স্থানের ক্ষেত্রে কোন মিল না থাকলেও এক জায়গায় আমাদের অসাধারণ মিল আছে অর্থাৎ আমরা সবাই হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন গোবিন্দপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেছি।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর