রবিবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১৬:২৭ পিএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পিতা-মাতার ভূমিকা

মাসুকা বেগম নিপু

প্রকাশিত: ১৯:২৯, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

সন্তান প্রতিপালন আজকাল মা-বাবার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সন্তানকে সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ আজকাল ছেলেমেয়েরা একটু বেশি স্বাধীনতা চায়, আর তারা একটু বেশি সংবেদনশীল।

তাই খুব সহজেই ঘটে যায় নানা বিপত্তি। এ কথা বলা হয়ে থাকে যে, একটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র হচ্ছে তার পরিবার। বড় হয়ে সে যে পরিবেশেই শিক্ষা নিতে যাক কেন পারিবারিক শিক্ষার একটা প্রভাব তার মধ্যে সবসময় পরিলক্ষিত হয়। তাই প্রত্যেক মা বাবারই সন্তান প্রতিপালনে কিছু কথা মেনে চলা উচিত। যেমন-

 

সন্তানকে নিয়ন্ত্রিত আবেগের সঙ্গে লালনপালন করা:

মা-বাবা সন্তানকে খুব বেশি ভালোবাসবে এটাই স্বাভাবিক। তবে সে ভালোবাসা যেন তার নিজের এবং অন্যের জন্য ক্ষতিকারক না হয় তা মনে রাখা উচিত। অতিরিক্ত আদরে সে যেন অন্যায় কোনো আবদার না করে বসে। তাই ছোটবেলা থেকেই তার এবং আপনার নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন।

অধিক শাসন করা থেকে বিরত থাকুন:

কখনোই সন্তানকে অতিরিক্ত শাসন করা উচিত নয়, কারণ অতিরিক্ত শাসন তাকে আপনার থেকে দূরে ঠেলে দেবে। আর সে আপনার কাছে সব কিছু লোকানোর চেষ্টা করবে, যা হয়তো আপনার সন্তানকে নিয়ে যেতে পারে কঠিন পরিণতির দিকে।

বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করুন:

আপনিই হতে পারেন আপনার সন্তানের সবচেয়ে প্রিয় আর বিশ্বস্ত বন্ধু। অবসর সময়ে তার সঙ্গে আড্ডা দিন। খোঁজখবর নিন তার লেখাপড়া আর সহপাঠীদের সম্পর্কে। মাঝে মাঝে তাকে নিয়ে ঘুরতে যান। তাহলে সে আপনার সঙ্গে সহজ হতে পারবে আর সব কিছু শেয়ার করতে পারবে।

বড়দের শ্রদ্ধা আর ছোটদের স্নেহ করতে শেখান:

আপনার সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই বড়দের সম্মান আর ছোটদের আদর করতে শেখান। আর এ শিক্ষাটা তার পরিবার থেকেই শুরু করুন। পরিবারের বড়দের কথা মেনে চলা, ছোট ভাই বোনদের সঙ্গে জিনিসপত্র শেয়ার করা।

শৃঙ্খলা মেনে চলতে শেখান:

সন্তানকে ছোটবেলা থেকেই উৎসাহ দিন নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে। অনেকেই এটাকে পরাধীনতা মনে করে। আসলে নিয়ম মেনে চলা পরাধীনতা নয়। শৃঙ্খলা মানে হচ্ছে জীবনকে গুছিয়ে চলা, যা জীবনকে আরও সুন্দর ও পরিপাটি করে তুলে।

সন্তানকে নীতিগত শিক্ষা দিন:

ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে নীতিগত শিক্ষা দিন। কখনোই সন্তানকে অন্যায় করতে উৎসাহ দেওয়া উচিত নয়। কারণ অন্যায়ের পরিণতি সব সময় খারাপ হয়।

সন্তানকে যথাযথ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন:

অনেক বাবা-মা আছেন যারা অতিরিক্ত আবেগে ভুলে যান যে, তার সন্তান শুধু পারিবারিক গণ্ডিতেই জীবন পার করবে না। তাকে বড় হয়ে অনেক কিছু সামাল দিতে হবে। তাই আপনার সন্তানকে স্বাবলম্বী ও যথাযথ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন।

টেকনোলজির শিক্ষা দিন সচেতনতার সঙ্গে:

বর্তমান সময়ে আধুনিক টেকনোলজি সম্পর্কে জানা খুব জুরুরি। কিন্তু আমাদের তরুণ সমাজ বেশির ভাগ সময়েই তার অপব্যবহার করে থাকে।তাই টেকনোলজির ব্যবহার সম্পর্কে আপনার সন্তানকে সচেতন করে তুলুন।

পরিশ্রমী হতে উৎসাহিত করুন:

অনেক মা-বাবাই ভাবেন আমার সন্তান কেন কষ্ট বা পরিশ্রম করবে। একটু ভেবে দেখুন, সে যে পরিশ্রম করবে বা করছে তার সুফল সে নিজেই উপভোগ করবে। যার ফলে সে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকবে আর মানসিক প্রশান্তি পাবে। তাই সন্তানকে পরিশ্রম করতে উৎসাহ দিন। তার জীবন তাকেই উপভোগ করতে দিন। আপনার ইচ্ছে আর স্বপ্ন সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেবেন না।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর