শনিবার ৩০ মে, ২০২০ ১৫:০৬ পিএম


সংকটে এমপিওভুক্ত কলেজের নন-এমপিও আইসিটি প্রদর্শকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:২৪, ২৯ এপ্রিল ২০২০  

করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে জাতির এ ক্রান্তিকালে হতভাগ্য ও পেশাগত বৈষম্যের শিকার এমপিওভুক্ত কলেজের উচ্চমাধ্যমিক স্তরের নন-এমপিওভুক্ত আইসিটি প্রদর্শকরা (শিক্ষক-শিক্ষিকা) মহাবিপাকে পড়েছেন। বিশ্বের আত্মমর্যাদাপূর্ণ চাকরি হলো শিক্ষকতা পেশা। শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়, আর সেই মেরুদণ্ড সোজা রাখার কারিগর হলেন শিক্ষকরা। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মতই তারা শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আদর্শ মানুষ হিসাবে গড়ে তুলেন। শত কষ্ট বুকে নিয়েও তারা দিব্যি তাদের কাজ আপন মনে করে যান। কখনো মুখ ফুটে চাহিদার কথা বলতেও পারেন না। দেশের এ সংকটময় মুহূর্তে বেশ বিপাকে পড়েছেন শিক্ষক নামের মানুষ গড়ার কারিগররা। এমপিওভুক্ত কলেজ গুলোতে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলেও নামের আগে তো শিক্ষক বলা হয়, তাই আত্মমর্যাদা তো অনেক বড়। কাউকে তারা নিজেদের কষ্টের কথা বলতেও পারেন না।

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে মানুষ কর্মহীন ও অসহায় হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বর্তমানে দেশে লক-ডাউন চলছে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ গৃহে অন্তরীণ থেকে এক দূ্র্বিসহ দিনাতিপাত করছে। দেশের প্রায় কয়েকশত এমপিওভুক্ত (উচ্চমাধ্যমিক ও ডিগ্রি) কলেজে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে আবশ্যিক বিষয়ে ১জন করে নন-এমপিও প্রদর্শক (শিক্ষক-শিক্ষিকা) আছে। এসব নন-এমপিওভুক্ত আইসিটি প্রদর্শক (শিক্ষক-শিক্ষিকা) গণ দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ পেশাগত বৈষম্যের শিকার। দীর্ঘ ১৬/১৮ বছর যাবত কর্মরত থাকলেও এমপিও হয়নি। শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ সন্তানদের শিক্ষা নির্বাহ, দৈনন্দিন ব্যয়, চিকিৎসা ব্যয়, পিতা-মাতা সহ পরিবারের অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তারা বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে গৃহে আছেন ও সরকারী সহযোগিতা (প্রণোদনা) যা রাষ্ট্রের নিকট নাগরির হিসাবে অধিকার তাও সরকারের নিকট হতে দেশের কয়েকশত এমপিওভুক্ত কলেজের নন-এমপিও আইসিটির প্রদর্শক (শিক্ষক-শিক্ষিকা) গণ চাইতে পারছেন না ও তাহাতে নামও লেখাতে পারছেন না।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিকট নিবেদন, তাদের বিষয়ে দ্রুত সদয় দৃষ্টি দিবেন ও তাদের সকলের এমপিওভুক্ত করার জন্য যোগদানের করার পরই রাষ্ট্রীয় তফশীল ব্যাংক (সোনালী/অগ্রণী/জনতা/রুপালী) যে কোন ১টি`তে নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র অনুলিপি সহ ব্যক্তিগত হিসাব (একাউন্ট) ও নম্বর খোলা আছে, সেখানে সরকারী সহযোগিতা (প্রণোদনার) ব্যবস্থা করবেন এবং করোনা ভাইরাস হতে দেশ স্বাভাবিক অবস্থা হলে যাতে কয়েকশত এমপিওভুক্ত কলেজের যে সকল নন-এমপিও আইসিটি প্রদর্শক (শিক্ষক-শিক্ষিকা) যারা ১৬/১৮ বৎসর যাবত এমপিওভুক্ত কলেজে কর্মরত আছেন কিন্তু এমপিও হয়নি (নন-এমপিও) তাদের  সকলকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) যাতে দ্রুত এমপিওভুক্ত করে তার নির্দেশ প্রদান করবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের সকল এমপিও ও নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীকে ডিজিটাল রেশন কার্ড প্রদান করা। মাস শেষে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ঠিকই তাদের মাসিক বেতন ব্যাংক একাউন্টে পেয়ে যান। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা? এমপিওভুক্ত কলেজ গুলোর নন-এমপিওভুক্ত আইসিটি প্রদর্শক শিক্ষকদের কথা একবার ভাবুন। খোঁজ নিয়ে দেখুন, এ সংকটময় সময়ে কেমন আছেন তারা? ক্ষুধার জ্বালায় মরে গেলেও তারা বলবেন না, একটু খাবার দাও। পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানের পেশায় আছেন তিনি, হোক না নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক। এ যে সম্মানের পেশা, মাথা নত না করার পেশা। হীন অবস্থায় থাকলেও শির কিন্তু টান করেই রাখে এ শিক্ষকরা। কারণ সরকারি, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেমন শিক্ষক, তেমনি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও শিক্ষক।

দেশের এমনি এক ক্রান্তিকালে জাতি বিনির্মাণের নিপুণ কারিগর এবং সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত শিক্ষক সমাজের এমন করুন চিত্র আজ সর্বত্র। যারা জীবন যৌবন উৎসর্গ করে জাতিগঠনে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছেন, সেই শিক্ষকদের সুখ-দুঃখ প্রকাশের নেই কোন নির্ভরশীল অভিভাবক। শুধুমাত্র কাগজে পত্রে শিক্ষকদের সম্মান-মর্যাদা দিলেই তা যথেষ্ট হয়না এ বোধ সকলের জাগ্রত হোক সেই প্রত্যাশায়।

লেখক: প্রদর্শক, আইসিটি (কম্পিউটার শিক্ষা),
জয়লাজুয়ান ডিগ্রী কলেজ, শেরপুর, বগুড়া।
সমন্বয়ক-১ "বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত বেসরকারী কলেজ নন-এমপিও প্রদর্শক (আইসিটি) শিক্ষক সমিতি", কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশ।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর