মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:৩৮ পিএম


শ্রেণিকক্ষে অধ্যক্ষের আলিশান বাসভবন

শফিকুল ইসলাম ইরান, বেতাগী (বরগুনা)

প্রকাশিত: ১১:৪৭, ৮ অক্টোবর ২০১৯  

বরগুনার বেতাগী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নূরুল আমীন। যোগদান থেকেই সরকারি কলেজের বাণিজ্য বিভাগের পুরো দ্বিতীয় তলা দখল করে শ্রেণিকক্ষ কেটে নতুনভাবে তৈরি করেছেন নিজের আলিশান বাসভবন। কিন্তু বাসভবন হিসেবে দখল করে থাকলেও এক টাকাও ভাড়া দেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে অধ্যক্ষ বলেছেন এটি সাইক্লোন সেল্টার ভবন। আর থাকার কোনো ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তিনি এটি দখল করেছেন।

এছাড়াও সরকারি বিধিবিধান তোয়াক্কা না করে শিক্ষার্থীদের কাছে অতিরিক্ত টাকা আদায়, কলেজ ক্যাম্পাস থেকে গাছ বিক্রির টাকা আত্মসাৎ ও বাড়ি ভাড়ার টাকা জমা না দিয়ে নানাভাবে ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সূত্র যুগান্তর পত্রিকা

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১১ জুলাই বেতাগী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন অধ্যক্ষ মো. নূরুল আমীন। তখন থেকেই কলেজ ক্যাম্পাসের উত্তর পাশে বাণিজ্য ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিজের বাসভবন হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। তিনি ৫৬ হাজার টাকা স্কেলে চাকরি করছেন। সরকারি বিধিমোতাবেক মূল বেতনের ৪০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া হিসেবে পেয়ে থাকেন। সেই হিসেবে তিন বছর ৩ মাসে ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৬০০ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে পুরো টাকাই আত্মসাৎ করছেন।

সরকারি বিধান অনুসারে ২০১৯-২০২০ শিক্ষা বর্ষে একাদশ শ্রেণির জন্য উপজেলা পর্যায়ের কলেজ থেকে জনপ্রতি ১০০০ টাকার বিধান থাকলেও অধ্যক্ষ বিভিন্ন খরচের অজুহাত দেখিয়ে ভর্তিকৃত মানবিক বিভাগ, ব্যবসায় শিক্ষা শাখা এবং বিজ্ঞান বিভাগসহ মোট ৫৮৮ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা নিয়েছেন। এতে তিনি জনপ্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ১ হাজার ৪০০ টাকা হিসেবে মোট ৮ লাখ ২৩ হাজার ২০০ টাকা আদায় করছেন।

এছাড়া ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের অভ্যন্তরীণ ত্রৈমাসিক পরীক্ষার ফি বাবদ কোনো রশিদ ছাড়াই ২০০ টাকা করে আদায় করেছেন। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী হেলাল মল্লিক জানায়, ‘ভর্তির সময় কলেজের অভ্যন্তরীণ সব পরীক্ষার ফি’র জন্য টাকা নেয়া হয়েছে। এখন আবার অতিরিক্ত ২০০ টাকা করে নেয়াই অন্যায়। এটা ছাত্রছাত্রীদের ওপর জুলুম করা। অধ্যক্ষ নূরুল আমীন ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে টেন্ডার নোটিশ না দিয়ে ৭০ হাজার টাকার গাছ বিক্রি করেছেন এবং পুরো টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এভাবে কর্মস্থলের নির্দিষ্ট বেতন-ভাতা ছাড়াই তিন বছরে সব মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

এসব বিষয় অভিযুক্ত বেতাগী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নূরুল আমীন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য না। প্রতিষ্ঠান চালাতে অনেক কিছুই করতে হয়। আমি সরকারি নিয়মের আলোকেই চলি।’

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর