বৃহস্পতিবার ২০ জুন, ২০১৯ ২১:২৬ পিএম


শেষ কর্মদিবসে ববি উপাচার্যের ‘গোপন’ সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৫০, ২৮ মে ২০১৯  

ছাত্র আন্দোলনের মুখে মেয়াদ শেষের এক দিন আগে পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে ছিলেন। গতকাল সোমবার চার বছর মেয়াদের শেষ কর্মদিবসে এসেই সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এস এম ইমামুল হক। তড়িঘড়ি করে মোবাইল ফোনেই ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে এই সভা আয়োজনের বিষয়টি সদস্যদের জানানো হয়। কিন্তু ১৫ সদস্যের সিন্ডিকেটের সেই সভায় নেই রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার, শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় কমিশনারসহ আটজন সদস্য।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত ১১ এপ্রিল থেকে ২৬ মে পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে যান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এস এম ইমামুল হক। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসানকে উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়। উপাচার্য ড. এস এম ইমামুল হক গতকাল কাজে যোগদান করেন। সোমবারই ছিল উপাচার্য হিসেবে তাঁর চার বছর মেয়াদের শেষ কর্মদিবস। শেষ কর্মদিবসে মোবাইল ফোনে তিনি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। ট্রেজারার, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় কমিশনার তিনজনই এই সিন্ডিকেটের সদস্য। তাঁরা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাস্তি দিতেই শেষ কর্মদিবসে এসে উপাচার্য সভা আহ্বান করেন। পাশাপাশি উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে যেসব শিক্ষক-কর্মকর্তা অংশ নেননি, তাঁদের পদোন্নতি দেওয়াও একটি বড় উদ্দেশ্য ছিল। বিষয়টি আগেভাগে জেনে শিক্ষকরা তাঁদের কাগজপত্র তৈরি করেন। কিন্তু শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ফাইল বরিশালে থাকায় শেষ পর্যন্ত পদোন্নতি আটকে যেতে পারে। তবে নতুন করে ফাইল তৈরি করে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

জানা গেছে, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত ফাইল ঢাকায় নেওয়ার জন্যই উপাচার্য ছুটিতে থেকেও পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার উপপরিচালক হুমায়ুন কবীরকে পরিচালকের পাশাপাশি রেজিস্ট্রারের চলতি দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনিও দুটি পদে যোগদানের জন্য পত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা ট্রেজারার ড. এ কে এম মাহবুব হাসান তাঁর যোগদানপত্র অনুমোদন করেননি। একইভাবে উপাচার্য ছুটিতে থেকেও আরো তিনজনকে চলতি দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তাঁদেরও যোগদানপত্র ট্রেজারার অনুমোদন করেননি। ফলে উপাচার্য ইমামুল হক যে পরিকল্পনা করেছিলেন তা প্রাথমিকভাবে ভেস্তে যায়। পরে নতুন ফাইল তৈরি করে কর্মকর্তাদের শাস্তি আর পদোন্নতির উদ্যোগ নেন তিনি।

ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসান বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় আজ সোমবার (গতকাল) ঢাকার লিয়াজোঁ অফিসে যোগদান করেছেন। শুনেছি, তিনি ঢাকায় সিন্ডিকেটের সভা করছেন। উপাচার্যের নির্দেশক্রমে রেজিস্ট্রার সভা আহ্বান করেন। সে অনুযায়ী এজেন্ডা উল্লেখ করে সদস্যদের কাছে অন্তত ১৫ দিন আগে চিঠি পাঠানো হয়। রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহকারী রেজিস্ট্রার খান সানজিয়া সুলতানা বরিশালে অবস্থান করছেন। আমিও সভার ব্যাপারে দাপ্তরিকভাবে অবগত নই। যদি বিশেষ সভা হয় সে ক্ষেত্রেও ২৪ ঘণ্টা আগে একটা এজেন্ডায় সভা আহ্বান করার কথা। উপাচার্য মহোদয় আজ সোমবার সকাল ৯টায় যোগদান করেছেন। আর সভা শুরু হয় বিকেল ৩টায়।’

আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে ট্রেজারার বলেন, ‘জরুরি সভা হলে তা-ও আমার আহ্বান করার কথা। কারণ ২৪ ঘণ্টা আগে আমিই উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলাম।’ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতি কিংবা শাস্তির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী যাদের পদোন্নতি কিংবা শাস্তি দেওয়া হবে তাদের ফাইল সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করতে হয়। ফাইল ছাড়া পদোন্নতি কিংবা শাস্তি দেওয়ার বিধান নেই। বিধি ভেঙে যেহেতু সভা আহ্বান করা হয়েছে, সভায় শাস্তি কিংবা পদোন্নতির ঘটনা ঘটতেও পারে।’

বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার রামচন্দ দাশ পদাধিকারবলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিন্ডিকেটের সভা আহ্বানের বিষয়টি রেজিস্ট্রার চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেন। আজ সোমবার (গতকাল) সিন্ডিকেটের সভা আহ্বান করা হয়েছে মর্মে কোনো চিঠি পাইনি। জরুরি সভা হলে মোবাইল ফোনে নিশ্চিত করার কথা। কিন্তু সে তথ্যও পাইনি।’

এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম ইমামুল হকের মন্তব্য জানতে গতকাল তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে ঢাকায় সিন্ডিকেটের সভা শেষে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা ১৫ সদস্যের মধ্যে সাতজন নিয়ে সিন্ডিকেট সভা করার ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সৌজন্যে: কালের কণ্ঠ

 

এডুকেশন বাংলা/ এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর