বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১৩:৩২ পিএম


শেরপুরে ছাত্রী নিবাসে ধর্ষণের পর হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:১৩, ৮ জুলাই ২০১৯  

শেরপুর শহরের সজবরখিলা এলাকার ফৌজিয়া মতিন পাবলিক স্কুলের ছাত্রী নিবাস থেকে আনুশকা আয়াত বন্ধন (১৪) নামে নবম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে।

শনিবার রাতে বন্ধনের বাবা আনোয়ার জাহিদ বাবুল মৃধা বাদী হয়ে সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলা গ্রহণের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ওই স্কুলের পরিচালক আবু ত্বাহা সাদী, তাঁর স্ত্রী নাজনীন মোস্তারি নূপুর ও তাঁর বড় ভাই শিবলী—এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের গতকাল রবিবার বিকেলে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে বন্ধন হত্যার বিচার দাবিতে গতকাল দুপুরে শ্রীবরদীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শহরের চৌরাস্তা মোড়ে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ, এপিপিআই উচ্চ বিদ্যালয় ও এমএনবিপি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীসহ স্থানীয়রা অংশ নেয়। পরে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি স্মারকলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রদান করা হয়। মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান এ ডি এম শহিদুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হামিদুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল্লাহ ছালেহ, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল হক জেনারেল প্রমুখ। শ্রীবরদী সরকারি কলেজ, এপিপিআই উচ্চ বিদ্যালয় ও এমএনবিপি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ স্থানীয়রা এতে অংশগ্রহণ করেন।

শেরপুর সদর থানার ওসি মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বন্ধনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি হত্যা মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলায় ফৌজিয়া মতিন পাবলিক স্কুলের পরিচালক, তাঁর স্ত্রী ও এক ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন উঠেছে, বন্ধন ধর্ষণের শিকার হয়ে থাকতে পারে। পরবর্তী সময়ে তার লাশ ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। ধর্ষণের শিকার হয়ে সে নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তবে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে যাবে। এ ঘটনায় যেহেতু একটি হত্যা মামলা হয়েছে, সেহেতু পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে কিছু বলা সম্ভব নয়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ফৌজিয়া মতিন পাবলিক স্কুলের পরিচালক আবু ত্বাহা সাদী জামায়াত সমর্থক। ছাত্রজীবনে তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও নাশকতার একাধিক মামলা বিচারাধীন।

উল্লেখ্য, ৬ জুলাই শনিবার দুপুরে জেলা হাসপাতাল থেকে পুলিশ বন্ধনের লাশ উদ্ধার করে। শ্রীবরদী উপজেলার পূর্ব ছনকান্দা গ্রামের ওমান প্রবাসী আনোয়ার জাহিদ বাবুল মৃধার মেয়ে বন্ধন ফৌজিয়া মতিন পাবলিক স্কুলের ছাত্রী নিবাসে থেকে ওই স্কুলে লেখাপড়া করত। শনিবার সকালে বন্ধনকে তার কক্ষে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলতে থাকতে দেখে এক ছাত্রী চিৎকার দিলে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে পাঠায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এডুকেশন বাংলা/একে

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর