শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৩:১৬ পিএম


শিশু শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় বসেছেন ৬০ বছরের বৃদ্ধা

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৭:০৬, ৩০ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ০৯:০৭, ১ ডিসেম্বর ২০১৯

যশোরের নওয়াপাড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আলেয়া বেগম ৬০ বছর বয়সে শিশু শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।তার স্বামীর নাম মোহাম্মদ আলী শিকদার।

হতদরিদ্র পরিবারে স্বামী, এক ছেলের পরিবারে তার বসবাস। ইতোপূর্বে তার দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। স্বামীকে নিয়ে তিনি তার ছেলের সংসারে থাকেন। দারিদ্রতা ওই পরিবারের নিত্যসঙ্গী। অভাবের তাড়নাসহ নানাবিধ কারণে তিনি লেখাপড়া করতে পারেননি উপযুক্ত বয়সে।

এখন তার একমাত্র ছেলের ছেলেকে (পোতা ছেলে) লেখাপড়া করানোর জন্য প্রতিনিয়ত মাদরাসায় নিয়ে যান। পোতা ছেলে মুজাহিদুল ইসলামের পড়া দেখে তার মনে ইচ্ছা হয় যদি তিনি আবারও লেখাপড়া পড়তে পারতেন। তার সেই অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণ হতে চলেছে।

লেখাপড়ার প্রতি তার প্রবল ইচ্ছাশক্তির বহিঃপ্রকাশ হওয়ায় উপজেলার মহাকাল বিসিসি মোজাদ্দেদীয়া মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার আবদুল হক শিকদার ও সহকারী শিক্ষিকা শাহানাজ বেগমের অনুপ্রেরণায় তার পোতা ছেলে ( ছেলের ছেলে) মো. মুজাহিদুল ইসলামের (৭) সাথে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ওই মাদরাসায় শিশু শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে এবছরের বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছেন। খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীদের মধ্যে দারুণ কৌতুহলের সৃষ্টি হয়।

৬০বছরের ওই মহিলাকে একনজর দেখার জন্য মাদরাসা প্রাঙ্গণে ভীড় জমছে প্রতিদিন। শনিবার সকালে সরেজমিনে মাদরাসায় গিয়ে দেখা যায়, পোতা ছেলে মো. মুজাহিদুল ইসলামের সাথে বাংলা বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন আলেয়া বেগম।

পরীক্ষা শেষে ৬০বছর বয়সী আলেয়া বেগম বলেন, তার দেয়া পরীক্ষা ভালো হচ্ছে। তিনি অর্থাভাবে ছোট বেলায় লেখাপড়া করতে পারেননি, বাংলাসহ কোরআন, হাদিস পড়তে পারেন না। মনে বড় আফসোস ছিল-লেখাপড়া না শিখে কিনা ভুল করেছি? মাদরাসারা সুপার আনম আবদুল হক শিকদারের সহযোগিতায় আমাকে এই মাদরাসায় লেখাপড়া করানোর সুযোগ করে দেয়ায় আমি তাদের কাছে চির কৃতজ্ঞ।

মাদরাসার সুপার আনম আবদুল হক শিকদার জানান, শিশু শ্রেণিতে ১৯জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬০বছর বয়সের আলেয়া বেগমও একজন পরীক্ষার্থী। তার জীবনের অন্তিমকালে লেখাপড়া শেখার আগ্রহ দেখে তাকে তার পোতা ছেলের সাথে শিশু শ্রেণিতে ভর্তি করিয়েছি। শ্রেণিকক্ষে লেখাপড়ায় তার আগ্রহে আমিসহ মাদরাসায় কর্মরত সকল শিক্ষকেরা তার প্রতি অত্যন্ত খুশি।


এডুকেশন বাংলা / টিএ/ এসআই /

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর