সোমবার ১৫ জুলাই, ২০১৯ ২৩:৫৪ পিএম


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মানলেন না মাউশি ডিজি!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:২৮, ২০ জুন ২০১৯   আপডেট: ০৮:৫৪, ২১ জুন ২০১৯

আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের বেতন ভাতা বন্ধ সংক্রান্ত শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানেনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক। প্রথমবারের চিঠির নির্দেশ না মানায় দ্বিতীয়বার তাগিদ দিয়ে চিঠি দিতে হলো মন্ত্রণালয়কে।

গত মে মাসে আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ২য় ও ৩য় শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তরপত্রে ঘষামাজার অভিযোগ প্রমাণিত হবার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইডিয়ালের অধ্যক্ষের বেতন-ভাতা কেন বন্ধ করা হবে না।-এই মর্মে অধ্যক্ষের বক্তব্যগ্রহণ পূর্বক একটি প্রতিবেদন ১৫ দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু এই মর্মে কোন প্রতিবেদন পাঠায়নি মাউশি ডিজি গোলাম ফারুক।

এরপর গত ১৯ জুন পুনরায় মাউশির ডিজির কাছে একই বিষয়ে চিঠি পাঠায় শিক্ষামন্ত্রণালয়। চিঠিতে সাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আনোয়ারুল হক। চিঠিতে জরুরি ভিত্তিতে আবারো অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগমের বেতন ভাতা বন্ধ করে তার বক্তব্য গ্রহণপূর্বক মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশ দেয়া হয়।

২০১৮ সালের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় শ্রেণিতে প্রতিষ্ঠানটির বাংলা ও ইংলিশ ভার্সনে মোট একশজনকে ভর্তি করার অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন শাহান আরা বেগম। তবে উত্তরপত্রে ঘষামাজা নিয়ে তদন্তের সময় তদন্ত কর্মকর্তাকে দেয়া লিখিত জবাবে যেসব শিক্ষক খাতা মূল্যায়ন করেছেন তাদের দায়ী করেছেন অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম।

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/120-120190620143450.jpg

অভিভাবকদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগম সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছালাম খান, কর্মচারি ইঞ্জিনিয়ার আতিকুল ইসলাম আতিক এবং কয়েকজন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের মতিঝিল, বনশ্রী এবং মুগদা শাখায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্রে ঘষামাজা করে ভুল উত্তর রাবার দিয়ে মুছে সেই স্থানে শুদ্ধ উত্তর লিখে নম্বর দিয়ে ফেল করা ছাত্রছাত্রীকে পাস করিয়ে দিয়েছেন। অধ্যক্ষ শাহান আরা তার দলবল নিয়ে মাথাপিছু তিন লাখ টাকা ‘ঘুষ’ নিয়ে একশজন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করিয়ে মোট তিন কোটি টাকা আয় করেছেন।

এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ঢাকা জেলা প্রশাসন তদন্তে নামে। তদন্তে ১২২টি উত্তরপত্র পর্যালোচনা করে কমিটি প্রতিবেদনে সার্বিক মতামত দিয়ে জানায়, সার্বিক পর্যালোচনায় অভিযোগকারীর বক্তব্য, তার দাখিলকৃত জবাব ও রেকর্ডপত্র পরীক্ষা করে পরীক্ষার খাতায় ঘষামাজা সংক্রান্ত অভিযোগকারী শ্যামলী সিমুর আনীত অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা রয়েছে।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর