শনিবার ২০ জুলাই, ২০১৯ ১৫:৫১ পিএম


শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে রাষ্ট্রপতির যে পরামর্শ

আফতাব তাজ

প্রকাশিত: ০৮:৩৮, ১৪ মে ২০১৯   আপডেট: ১৯:১৯, ১৪ মে ২০১৯

বঙ্গভবন থেকে বের হওয়ার পর দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি অনুসরণ করতে বলেছেন। তিনি শ্রেণীকক্ষে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য করণীয় সবকিছু করতে পরামর্শ প্রদান করেছেন।

এছাড়া রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও দুর্নীতি নির্মূলে কমিশনকে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড পেতে হলে স্বাস্থ্য এবং মানসম্মত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়া আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত কর্মীদের যদি কোনো দুর্নীতি বা অনিয়মের খবর আসে তাও যেন কমিশনের নজরে থাকে সে বিষয়েও রাষ্ট্রপতি পরামর্শ প্রদান করেছেন।

সোমবার দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের নেতৃত্বে কমিশনের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে দেয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বার্ষিক প্রতিবেদন (২০১৮) পেশ করার সময় রাষ্ট্রপতি দুদককে এ পরামর্শ দেন।

এদিকে, নিয়োগে আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতির ‘আঁতুড়ঘর’- এমন মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতির কাছে দেয়া দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ দুর্নীতি এখনই বন্ধ করতে হবে। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেয়া হলে যোগ্য ও মেধাবী সন্তানরা দেশের জন্য কিছু দিতে পারবেন। নিজেদের আত্মমর্যাদাশীল কর্মচারী হিসেবে প্রজাতন্ত্রের কর্মে আত্মনিয়োগ করতে পারবেন।

নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধে বেশকিছু সুপারিশ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সংবিধানের ১৩৭ অনুচ্ছেদ অনুসারে এক বা একাধিক সরকারি কর্মকমিশন গঠন করা যেতে পারে। এটা করা গেলে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠানে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের জন্য ‘উপযুক্ত’ ব্যক্তিকে মনোনয়নের উদ্দেশ্যে যাচাই ও পরীক্ষা পরিচালনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কারণে তারা আর্থিক এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। অভিভাবকরাও আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হন। বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে সমন্বিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভর্তি সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।

একইভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সমন্বিত একক পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন একটি সমন্বি^ত ভর্তি নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি : দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শিক্ষার মানদণ্ডে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সাফল্য অর্জন করতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের অতীত ঐতিহ্যও হারাতে বসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে দুর্নীতির ঘটনা ঘটছে।

শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ম্লান করে দিচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। সর্বোচ্চ মেধাবী এবং যোগ্য প্রার্থীরাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন।


এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর