রবিবার ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ৪:৫৪ এএম


শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান শিক্ষকদের কাছে এক কলঙ্কের নাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৪৭, ২১ মে ২০১৯   আপডেট: ১৫:২৯, ২১ মে ২০১৯

শিক্ষকদের সাথে অসাদাচরণ, কটুক্তি, নারী শিক্ষকদের সাথে অশোভন আচরণ, নারী কেলেঙ্কারী, আর্থিক দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সহকারি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে।

গতকাল অনুষ্ঠিত মাসিক শিক্ষক সমন্বয় সভার আলোচ্যসূচী অনুযায়ি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষকরা উপর্যুক্ত অভিযোগগুলো তুলে ধরেন এবং তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত বিচার দাবি করেন। এমনকি সভায় অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিচার না হওয়া পর্যন্ত উপজেলায় সব ধরনের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখাসহ মানববন্ধন করারও ঘোষণা দেন উপস্থিত শিক্ষকরা। এক পর্যায়ে মিটিংয়ে উত্তেজনাকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে সভার পরিস্থিতির কথা শুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মল্লিকা দে সভায় উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের অভিযোগ শুনেন এবং উপযুক্ত বিচারের আশ্বাস প্রদান করলে শিক্ষকরা শান্ত হন। অবশ্য এ সভায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান উপস্থিত ছিলেন না।

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/masiksomonnoy20190521024326.jpg

এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন কিন্তু জিল্লুর রহমান ফোন রিসিভ করেননি। উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( শিক্ষা) এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেন । পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ওই সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার মৌখিক নির্দেশ প্রদান করে যান।

এ সম্পর্কে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র আচার্য জানান, আজকে (গতকাল) আমাদের মাসিক সমন্বয় সভা ছিলো। মিটিংয়ে সারা উপজেলার সকল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ অথবা তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন। এই মিটিংয়ে শিক্ষকরা সহকারি শিক্ষাকর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ, দূর্নীতি, নারী কেলেংকারি, শিক্ষকদের গালিগালাজ, অসাদচরণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। এসময় শিক্ষকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিবেশের সৃষ্টি হলে ইউএনও ম্যাডাম এসে শিক্ষকদের শান্ত করেন। পরে ইউএনও ম্যাডাম এডিসি স্যারের সাথে কথা বলে অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তাকে দাপ্তরিক কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। তবে এর আগে কোনো শিক্ষক এ সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দেননি। আজকের সমন্বয় সভায় প্রথম আমি শিক্ষকদের অভিযোগ জানতে পেরেছি।

http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/up420190521024529.jpg

তবে একজন সহকারি শিক্ষকের করা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবহিত। এই অভিযোগের এখনো তদন্ত হয়নি। জিল্লুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের আনা অন্যান্য অভিযোগ সম্পর্কে তদন্ত ছাড়া কিছু বলতে পারবেন না বলে জানান এই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা । 

মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মল্লিকা দে জানান, এই সহকারি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের অনেক অভিযোগ। শিক্ষকরা আমাকে জানিয়েছেন সে উর্দ্ধতন কর্মকর্তার কোনো নির্দেশ মানেনা, শিক্ষকদের বাস্টার্ড বলে গালি দিয়ে কথা বলে।

শিক্ষকরা তার এধরণের আচরণের বিরুদ্ধে আজকের (গতকাল) মাসিক সমন্বয় সভায় বিচার দাবি করে মানববন্ধন করার প্রস্তুতি নেয়। আমি তাদের বিচারের আশ্বাস দিয়ে শান্ত করি। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা)কে বিষয়টি অবহিত করি।বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত ওই শিক্ষা কর্মকর্তাকে দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়েছে।সমন্বয় সভায় উপস্থিত হয়ে আমি নিজে তাকে কয়েকবার ফোন দিয়েছি সে আমার ফোন ধরেননি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নিবেন।

অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান জানান, তিনি জ্বরে আক্রান্ত এজন্য মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থিত থাকতে পারেন নি।তিনি শিক্ষকদের বাস্টার্ড বলে গালি দেয়ার বিষয়ে কান্না জর্জরিত কণ্ঠে বলেন, আমি হজ্ব করেছি দুইবার। এই শব্দ আমি কখনোই মুখে আনিনি। আমি মুসলমান হিসাবে হজ্বের কসম দিয়ে বলছি কোনো শিক্ষককে আমি বাস্টার্ড বলিনি। দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে কিছু শিক্ষক গভীর ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্তে লিপ্ত।

শিক্ষকদের সাথে আপনার কিসের শত্রুতা বা তারাই কেনো আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকবে? এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। বরং এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা উল্টো অভিযোগ করে বলেন `আমার বিরুদ্ধে কিছু শিক্ষকের নাম ব্যবহার করে ভূয়া কিছু অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে দিচ্ছে। এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।` তবে পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার বিষয়ে তিনি অবহিত হননি বলে জানান এই শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি গতকালই জেলা শিক্ষা অফিসারের সাথে দেখা করে এসেছেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাতে (গতকাল) মোবাইলে কথা বলবেন বলে তাকে বলেছেন।

গত ২৩ এপ্রিল উপজেলার মৌজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম সেলিম সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের দূর্নীতি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড, বদলী বাণিজ্য, অসদারচনসহ বিভিন্ন অপকর্মে র বিচারের দাবি করে হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কমকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

 http://www.educationbangla.com/media/PhotoGallery/2019March/up520190521024619.jpg

 

লিখিত অভিযোগে মাধবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমানের বিভিন্ন অপকর্মের কারনে মাধবপুর উপজেলার শিক্ষকরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন, যার ফলে মাধবপুর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন ।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ০৫ মে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. আব্দুর রাজ্জাক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান কে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশও দিয়েছিলেন।

কিন্তু এই অভিযোগের বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কিংবা উপযুক্ত বিচার না পাওয়ায় মাসিক সমন্বয় সভায় জিল্লুর রহমানের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি আলোচ্য বিষয় হিসাবে রাখা হয়।


এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর