মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০:২৪ এএম


শিক্ষা ও জীবন উভয়ই বাঁচাতে হবে

মো. আরিফুল ইসলাম

প্রকাশিত: ১১:৪৪, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০  

অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো শিক্ষাক্ষেত্রেও বর্তমান বিশ্ব একটি বিশেষ পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি শিক্ষার্থী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে।

অদূর ভবিষ্যতে এ স্থবিরতা কেটে যাবে, এমন সম্ভাবনাও ক্ষীণ। এমন পরিস্থিতিকে ‘গ্লোবাল এডুকেশনাল ইমার্জেন্সি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। স্মরণকালে এমন জরুরি অবস্থা দেখেনি মানুষ। ইতিহাসের পাতা উল্টালে স্মরণাতীতকালের কতিপয় মহামারী সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। ধারণা করা হয় তখনও এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। করোনা মহামারীর ধকল কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে ইউরোপের কোনো কোনো দেশ।

স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গেও পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়েছে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় অনেক দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হচ্ছে। তবে তাদের নিরাপত্তার জন্য বাড়তি সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হচ্ছে।

স্কটল্যান্ডের কথাই ধরা যাক। স্কটল্যান্ডের পরিস্থিতি মোটামুটি স্থিতিশীল। সেখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে বাড়তি নজরদারিতে রাখা হচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন। জোর দেয়া হয়েছে ‘অন-ডিমান্ড টেস্টিংয়ে’র ওপর।

উপসর্গ না থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যে কোনো ব্যক্তি যে কোনো সময়ে বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষা করাতে পারবেন। চিকিৎসাক্ষেত্রেও তাদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে। জীবনের সুরক্ষার ব্যাপারে খেয়াল রেখে তারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের দিকে নজর দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে সংক্রমণ এখনও উর্ধ্বমুখী। এ সময়কেই সংক্রমণের ‘পিক টাইম’ ধরা হয়। এ অবস্থার মাঝেও জীবিকা নির্বাহের জন্য অধিকাংশ জনগোষ্ঠীকে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। অনেকে স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না, আবার অনেকের পক্ষে মানা সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে অন্যান্য দেশের উপমা টেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে নিতান্তই বালখিল্যতা।

ইসরাইল সর্বপ্রথম দেশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে পড়েছে নিদারুণ বিপাকে। সংক্রমণের হার কম থাকায় খুলে দেয়া হয় সেদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পুনরায় তা বন্ধ করতে বাধ্য হয় ইসরাইল। কারণ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায় চক্রবৃদ্ধি হারে। তারা এটিকে তাদের জন্য বড় ব্যর্থতা হিসেবে মনে করছে।

ইসরাইলের মহামারীবিষয়ক জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভাপতি ও ইয়েজমান ইন্সটিটিউট অব সায়েন্সের অধ্যাপক এলি ওয়াক্সম্যান অন্যান্য দেশকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটি একটি বড় ব্যর্থতা ছিল, নিশ্চয়ই আমরা যা করেছি তারা তা করবে না।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে দীর্ঘ সময় বিলম্ব ঘটার ক্ষতিকর দিকও রয়েছে। এ দেশের অনেক শিশু-কিশোরের দু’বেলা আহার করে উদরপূর্তি করার সাধ মেটে না। ‘ফ্রি স্কুল মিল’ থেকে বঞ্চিত হয়ে কষ্টে পড়তে হয় তাদের। নিঃসঙ্গতায় মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ছে অনেকের। এছাড়া দীর্ঘ বিরতির কারণে শিক্ষা কার্যক্রমে অনভ্যস্ত হয়ে উঠছে অনেক শিক্ষার্থী। জীবিকা নির্বাহে অনেক শিক্ষার্থী কাজে নেমেছে। পরিবারের হাল ধরেছে। দীর্ঘ সময় পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে তাদের অনেকে ঝরে যেতে পারে। পুনরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসতে অনীহা প্রকাশ করতে পারে। পৃথিবীর অনেক যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে এমন নজির রয়েছে।

সুতরাং খেয়াল রাখতে হবে যাতে অকালে শিক্ষাজীবন ঝরে না পড়ে। এক্ষেত্রে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। সন্তান ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকতে হবে। নিয়মিত তদারক করতে হবে। বাড়িতে বসে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য চাঙ্গা রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে। জীবনকে অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হবে। শিক্ষা ও জীবন উভয়ই বাঁচাতে হবে।

মো. আরিফুল ইসলাম : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

[email protected]

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর