বৃহস্পতিবার ১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ১৩:১২ পিএম


শিক্ষা উপবৃত্তিতে অব্যবস্থাপনা বন্ধ করুন

এডুকেশন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২৪, ১ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১১:৩৪, ১ নভেম্বর ২০১৯

অর্থের অভাবে শিক্ষাবঞ্চিতদের শিক্ষায় আকৃষ্ট করা ও শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ১৯৮২ সাল হইতে পরীক্ষামূলকভাবে ছাত্রী উপবৃত্তি প্রকল্প চালু হইয়াছিল। মূলত একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা যেন অর্থ আয়ের দিকে ঝুঁকিয়া না পড়িয়া পড়াশোনায় নিয়োজিত থাকে সেই লক্ষ্যে এই ভাতা প্রদান করা হইতেছে।

বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাঁচটি প্রকল্পের আওতায় দেশের ষষ্ঠ শ্রেণি হইতে স্নাতক (পাস) ও সমমান পর্যায়ে দরিদ্র ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান অব্যাহত আছে। তবে এই উপবৃত্তি কার্যক্রমে বড়ো ধরনের গাফিলতির নজিরও রহিয়াছে।

সহযোগী একটি সংবাদপত্র মারফত জানা গিয়াছে, একটি প্রকল্পের অধীনে ২৫০টি উপজেলায় তিন বছর ধরিয়া উপবৃত্তি বিতরণ বন্ধ রহিয়াছে। প্রকল্প কর্মকর্তার অদক্ষতায় অপর একটি প্রকল্পের আওতায় ১৮৭টি উপজেলায় গত বছরের উপবৃত্তি বিতরণ করা সম্ভব হয় নাই। ইহার ফলে প্রায় ২০ লক্ষ শিক্ষার্থী, যাহার বড়ো অংশ অসচ্ছল—তাহারা বিপাকে পড়িয়াছে।

খোদ শিক্ষামন্ত্রী এই ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করিয়াছেন। উপবৃত্তি প্রকল্পগুলিসহ অন্য প্রকল্পগুলিকে ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি)’-এর অধীনে নেওয়ার কারণেই উপবৃত্তি বিতরণ কার্যক্রমে নৈরাজ্য সৃষ্টি হইয়াছে বলিয়া প্রকল্প কর্মকর্তারা জানাইয়াছেন।

উপবৃত্তি বিতরণ বন্ধ থাকায় অনেক শিক্ষার্থী অর্থের কারণে লেখাপড়া করিতে না পাড়িয়া ঝরিয়া পড়িতেছে বলিয়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হইয়াছে। সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্টের (সেকায়েপ) অর্থায়নে ‘উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তি প্রকল্পের’ অধীনে সারাদেশের ২৫০টি উপজেলায় উপবৃত্তি বিতরণ করা হইত।

২০১৭ সালের জুন হইতে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এ কার্যক্রম বন্ধ রহিয়াছে। ২০১৭ সালের জুনে সেকায়েপ প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষ হইলেও ২৫০টি উপজেলায় উপবৃত্তি বিতরণের জন্য কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ঐসব উপজেলার শিক্ষার্থীরা কোনো উপবৃত্তি পাইতেছে না।

এই প্রকল্পের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জনপ্রতি ১৭৫ টাকা ও অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা জনপ্রতি ১২৫ টাকা করিয়া মাসে উপবৃত্তি পাইয়া আসিতেছিল। ইহা ছাড়া বই কেনা বাবদ বছরে এককালীন বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ৭০০ টাকা ও অন্য বিভাগের শিক্ষার্থী ৬০০ টাকা পাইত।

উপবৃত্তি কার্যক্রমের গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ করিতে একটি ‘সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচি’ গ্রহণের যে উদ্যোগ সরকার লইয়াছে তাহাকেই আমরা যথাযথ পদক্ষেপ বলিয়া মনে করি। ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ড গঠনকালে সিদ্ধান্ত ছিল, ষষ্ঠ থেকে স্নাতকের ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া সরকারি উপবৃত্তি কার্যক্রম প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে সমন্বিত করা হইবে।

ষষ্ঠ থেকে স্নাতকে ৪০ লাখের বেশি ছাত্রছাত্রী উপবৃত্তি পাইতেছে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উপবৃত্তির জন্য চারটি প্রকল্প আছে। এইগুলি হইতেছে—এসইএসপি, এইচএসএসপি, সেকায়েপ ও সেসিপ। এই প্রকল্পগুলি সমন্বিত করিলে অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা অনেকাংশে বন্ধ করা যাইবে। পাশপাশি বন্ধ থাকা উপজেলাগুলিতে অতিসত্বর উপবৃত্তি প্রদান করিতে হইবে। সম্পাদকীয়, দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর