মঙ্গলবার ০২ জুন, ২০২০ ৪:৩২ এএম


শিক্ষায় অনলাইন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় ১০টি মাধ্যম

ডক্টর মোঃ মাহমুদুল হাছান

প্রকাশিত: ০৮:৩৫, ৯ মে ২০২০  

নোভেল করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বজুড়ে যে সংকট তৈরি করেছে  তাতে মানুষের জীবন যাপন প্রণালীতে নেমে এসেছে এক ঘোর অমানিশার তীব্র যাতনা। জাতীয় অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার উপর   যতটা প্রভাব পড়েছে তার থেকে বেশী  ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরে। করোনার ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় সকল ক্ষেত্রে লকডাউন, শাটডাউন ও সংগনিরোধ বিধি জারি করা হলেও সেক্ষেত্রে রয়েছে কিছুটা শিথিলতা এবং আংশিকভাবে হলেও স্বাভাবিক কার্যক্রম রক্ষণশীলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেহেতু ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ম মাফিক পড়াশোনা করার এক আবশ্যকীয় মিলন ক্ষেত্র এবং সামাজিক দুরত্ব পালন বিধির অন্তরায়, তাই জাতীয়ভাবেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কঠোরভাবে লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। কাঠামোবদ্ধভাবে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে  উপস্থিত হয়ে শিক্ষাদান বা শিক্ষাগ্রহন কার্যক্রম পরিচালনা করাকে কঠিনভাবে  নিষেধ করা হয়েছে। কোন প্রতিষ্ঠান এ জাতীয় কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের সরকারি হুশিয়ারি প্রদান করা হয়েছ।

বাংলাদেশে এ লকডাউন ও সামাজিক দুরত্ব অবলম্বন বিধি ঘোষনা করা হয়েছে গত ২৫ মার্চ ২০২০ তারিখ থেকে, কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে তারও পূর্বে  ১৬ মার্চ ২০২০ তারিখ থেকে। অথচ শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনায় এটি এমন একটি সময় যখন শিক্ষার সকল স্তরে টার্ম/সেমিষ্টারের শুরু কিংবা শেষ। আমাদের  দেশের  শিক্ষা ধারার এ সংকটে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা। স্কুলগুলিতে ন্যাশনাল  শিক্ষাক্রমে শিক্ষাবর্ষের কেবল শুরু এবং  ইন্টারন্যাশনাল শিক্ষাক্রমে শিক্ষা বর্ষের প্রায় শেষ। কলেজেগুলিতেও এমনই অবস্থা। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে নেমে এসেছে দুশ্চিন্তার এক ভারী পাহাড়। অভিভাবকদের মাঝে ভীষণ সংশয়  ও তীব্র আশংকা যে কি হবে তাদের সন্তানের শিক্ষার ভবিষ্যৎ এবং কেমন হবে পরীক্ষা পদ্ধতি। এদিকে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যেও নানা কৌতুহল যে তারা আদৌ পরীক্ষা দিতে পারবে কি না, স্কুল কতদিন এভাবে চলবে, পড়াশোনার কি হবে ইত্যাদী।         

এ সকল জল্পনা-কল্পনা ও আশংকার কিছুটা অবসান ঘটাতে আমাদের সরকার ইতিমধ্যে শিক্ষাধারা অব্যাহত রাখার বিকল্প পদ্ধতির উপর বেশ জোর দিয়েছেন। চালু করেছেন `আমার ঘরে আমার বিদ্যালয়` স্লোগান নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমের বিকল্প ধারা। ইতিমধ্যেই সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুশ্চিন্তার কিছুটা অবসান ঘটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা ইউ জি সি কর্তৃক কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করা হলেও স্কুল কলেজগুলিতে বিকল্প পদ্ধতি তথা অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা ধারা অব্যাহত রাখার স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

সকল ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ এর ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে সত্য। কিন্তু জাতির এ  সংটকালীন মুহুর্তে ছাত্র ছাত্রীদেরকে পড়াশোনায় সক্রিয় রাখতে অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব যে অনেক বেড়েছে তাতেও কোন সন্দেহ নেই। এটি আমি মনে করি করোনার ইতিবাচক প্রভাব।

অনলাইন শিক্ষা আসলে কি? অনলাইন শিক্ষা হলো এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা যা সাধারণ শ্রেণি শিক্ষা থেকে  ব্যতিক্রম এবং এটি একটি ডিজিটাল শিক্ষা পদ্ধতি যা বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন হয় আধুনিক প্রযুক্তি তথা কম্পিউটার বা  মোবাইল কিংবা এ জাতীয় কোন ডিভাইস ও ইন্টারনেট সংযোগ তা হতে পারে নেট ডাটার মাধ্যমে বা ওয়াই-ফাই বা ব্রডব্যান্ড সংযোগের মাধ্যমে সংযোগকৃত।  

মোটকথা, ইন্টারনেট নির্ভর এ যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে কোন ক্লাশ পরিচালনা করাই হলো অনলাইন ক্লাশ যেখানে একজন শিক্ষক ক্লাশরুমের বাইরে সুবিধাজনক যে কোন স্থান থেকে পাঠদান করেন এবং শিক্ষার্থীগণ নিজ নিজ বাড়ীতে থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লাইভ ক্লাশে অংশগ্রহন করে ও পারস্পারিক মতবিনিময় করে থাকে। শুধুমাত্র স্বশরীরে উপস্থিতি ছাড়া একাডেমিক বাস্তব ক্লাশের সাথে অনলাইন ক্লাশের কোন পার্থক্য নাই। এখানে অনুমতিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থী একই প্লাটফর্ম ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকেই ক্লাশে অংশগ্রহন করতে পারে। শিক্ষক সরাসরি ক্লাশ নেন আর শিক্ষার্থীর কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রীনই হবে তার ক্লাশ। শিক্ষার্থী বাস্তব ক্লাশের মতো এখানেও শিক্ষককে প্রশ্ন করে তাৎক্ষনিক সমাধান পেতে পারে। এ যেন ফেইচ টু ফেইচ ক্লাসের মতই। এমনকি, এ ক্লাশসমূহ সেভ করা যায় বলে নোট করার প্রয়োজন হয় না এবং কেউ লাইভে উপস্থিত হতে না পারলেও পরে তা দেখতে পাবে। এছাড়াও ইমেজ, ভিডিও আপলোড, গ্রাফিক্স কিংবা এনিমেশনের মতো জীবন্ত উপস্থাপনা পাঠদান প্রক্রিয়াকে   আরোও প্রাণবন্ত ও হৃদয়গ্রাহী করে তোলে।    

আমরা জানি গতানুগতিক শিক্ষা ধারায় আমাদের ছেলে মেয়েরা বই গুছিয়ে ও কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয় দলবল বেধে একসাথে স্কুলে যাওয়ার মাঝে অনেক আনন্দ পায়। একই শ্রেণিকক্ষে বসে সরাসরি শিক্ষকদের কাছ থেকে বিদ্যা নেয়ার তৃপ্তিই আলাদা। কিন্তু, করোনা সংকট যদি চলতে থাকে দীর্ঘকাল তাহলেতো আমাদেরকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হবে। তাই আবশ্যক হয়ে উঠেছে অনলাইনে শিক্ষা ধারা অব্যাহত রাখার।

আপদকালীন এ সময়ে অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি যে অতি গুরুত্বপুর্ণ তা ইতিমধ্যেই প্রমানিত হয়ে গেছে। পৃথিবীর সকল দেশই এখন এ পদ্ধতির উপর ভর করে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রথম দিকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও এখন অধিকাংশ ছাত্র ছাত্রীরা এতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। কারন, কোন বাঁধাই যেন আমাদের শিক্ষা ধারাকে ব্যাহত করতে না পারে তা আজ কোভিড-১৯ ভালোভাবেই বুঝিয়ে দিয়েছে।

কোভিড-১৯ এর ফলে সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক  ও অভিভাবক যেখানে ঘরবন্দি,  শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানসমূহও তালাবদ্ধ এবং কাঠামোবদ্ধ শিক্ষার পরিবেশ একেবারে অসম্ভব, সেক্ষেত্রে অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থাই এখন অন্যতম উপায়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছেলে মেয়েরা ঘরে বসে অনায়াসেই সামনা-সামনি শ্রেণি কার্যক্রমে অংশ গ্রহন করতে পারে।

অনলাইনে শিক্ষা ধারার সবচেয়ে বড় উপকার হলো শিক্ষার্থী ও শিক্ষক তাদের পাঠদান ও গ্রহন ব্যবহৃত ডিভাইস এ  সেভ করে রাখতে পারেন, যা পরবর্তীতে পুনরায় ডাউনলোড করে পাঠ অনুস্মরণ করতে পারে।         
              
আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন লালন করি তার পূর্ণ বাস্তবায়নের পথ আরো সহজ করে দিয়েছে বর্তমানের এ মহাসংকট। যেহেতু এখন আর স্কুল-কলেজে যাওয়ার সুযোগ নেই এবং বাসাতেই পড়তে হবে, তাই অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থাই এখন গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন। এ জন্য প্রয়োজন আবশ্যকীয় কিছু শিক্ষাদানের মাধ্যম যা ব্যবহার করে পড়াশোনার ধারা অব্যাহত রাখা যায়।    নিম্নে এ ধরনের  কিছু অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা পোর্টাল বা সাইটের নাম উল্লেখ করা হলো যা ছাত্র ছাত্রীদের ঘরে বসে লেখা পড়া চালিয়ে যেতে বেশ সহায়ক হবেঃ
জাগো অনলাইন স্কুলে/www.jaago.com.bd, টেন মিনিট স্কুল/www.10minuteschool.com, শিক্ষক ডটকম/ (www.shikkhok.com),
এডুটিউববিডি ডটকম/www.edutubebd.com, সৃজনশীল ডটকম/www.srijonshil.com,   ই-ইশ্কুল/  http://eshkul.com/। এছাড়া সরকারি উদ্যোগে নির্মিত কয়েকটি ওয়েব সাইট রয়েছে যা থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রমের সিলেবাস অনুযায়ী পাঠগ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন; শিক্ষা বাতায়ন/www.teachers.govt.bd,  ই-বুক/wwe.ebook.govt.bd এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত  শিক্ষা অধিদপ্তর ও শিক্ষাবোর্ডের  ওয়েবসাইটসমূহ।

জাতীর এ ক্রান্তিলগ্নে আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে পড়াশোনার সংস্পর্শে রাখতে অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা হলো একমাত্র মাধ্যম। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন গবেষনা প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন নামে নানাবিধ অ্যাপ্লিকেশনস আবিষ্কার করেছেন যা অনলাইন শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। নিম্নে এ ধরনের কিছু মাধ্যম সম্পর্কে অবহিত করা হলোঃ

১।  জুম (ZOOM )
 অনলাইন লাইভ ক্লাশ পরিচালনায় বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় সেবা হচ্ছে জুম। মিটিং বা শ্রেণি ভেদে ১০০ হতে ১০০০ জন পর্যন্ত ৪০ মিনিট ব্যাপ্তির একটি ক্লাশে  অংশগ্রহণ করতে পারে। অংশগ্রহনকারীরা পরস্পরকে দেখতে ও শিক্ষককে প্রশ্ন করতে পারবে। এখানে ব্যক্তিগত মিটিং এবং গ্রুপ মিটিং এর সুবিধা আছে। এ ছাড়া ক্লাস চলাকালীন সময়ে কেউ কিছু লিখে বোঝাতে চাইলে প্রতিটি স্ক্রিনে একটি হোয়াইট বোর্ড ভেসে উঠে, যেখানে প্রাসংগিক যে কোন প্রশ্ন করা যেতে পারে।

২।  গুগল ক্লাসরুম (Google Classroom)
এটি অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থায় বহুল প্রসিদ্ধ একটি পাঠদান মাধ্যম।   বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক শিক্ষকই এখন গুগল ক্লাসরুম (classroom.google.com/) ব্যবহার করে ক্লাস নিচ্ছেন। বিনা মূল্যে কোনো শিক্ষক চাইলে গুগল স্যুটে নিবন্ধন করতে পারেন। তারপর নির্ধারিত কোড দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রবেশ করতে পারেন ওই ক্লাসে। একটি কোর্সে অসংখ্য ক্লাসের পাশাপাশি ২০ জন শিক্ষক তাঁদের ক্লাস যুক্ত করতে পারবেন। অ্যাসাইনমেন্টের জন্য গুগল ফরম, গুগল ডক, গুগল ড্রাইভ ও ইউটিউব ভিডিও যুক্ত করার সুবিধা রয়েছে। ক্লাসরুমে থেকে যাওয়া ক্লাসের ভিডিওগুলো পরেও দেখা যাবে। শুধু কম্পিউটার নয়, যেকোনো ডিভাইস থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন অনলাইন ক্লাসে। কোন শিক্ষার্থী ক্লাস মিস করলে পরে তার সুবিধামত সময়ে পাঠ গ্রহন করতে পারে।

৩।  কোর্সেরা (Coursera)
এটি একটি উন্নতমানের প্লাটফর্ম যা ব্যবহার করে   
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী-শিক্ষক এক হওয়ার সুযোগ পান।  কোর্সেরা (www.coursera.org) প্ল্যাটফর্মটির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিস্বের নামী দামী শিখক ও প্রফেসরদের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করতে পারে।

৪।  ইউটিউব লাইভ (You Tube Live)
এটি একটি সরাসরি কোন শিক্ষা পদ্ধতি না হলেও শিক্ষক তার বক্তব্য রেকর্ড  করে আপলোড কর‍লে শিক্ষার্থী তার পছন্দমত সময়ে দেখে নিতে পারে।   পারেন।  এটি ভিডিও শেয়ারিংভিত্তিক সবচেয়ে বড় সাইট। কেউ চাইলে তাঁর নির্ধারিত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একটি চ্যানেল তৈরি করতে পারেন। এটিতে একটি  প্রাইভেট অপশন আছে যা দিয়ে শুধু নির্ধারিত শিক্ষার্থীদের দেখানো যায়। আবার একবারে সব ভিডিও আপলোড করে কোর্সের নির্ধারিত সময়ে ভিডিও প্রিমিয়ার করা যায়। এটি অনলাইন ভিত্তিক চমৎকার একটি শিক্ষাদানের মাধ্য।    

৫।  ফেসবুক লাইভ ক্লাস (Facebook Live class)
 এটি খুবই সহজভাবে ব্যবহার উপযোগী একটি   
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যা প্রয়োগ করে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা  পড়াশোনার ক্লাসরুম বানাতে পারে। কোর্সভিত্তিক আলাদা আলাদা গ্রুপে লাইভ ক্লাস নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া যেকোনো ডকুমেন্ট, প্রেজেন্টেশন, নোটস বিনিময়ের সুবিধা তো থাকছেই। লাইভ ক্লাস চলাকালে কমেন্টে শিক্ষার্থীরা জানাতে পারবেন তাঁদের সমস্যার কথা। ঠিক ওই সময়ে ক্লাসে উপস্থিত না থাকতে পারলেও পরে গ্রুপে ভিডিও হিসেবে থেকে যাবে এই লাইভ ক্লাসগুলো। তাই কোনো শিক্ষার্থী লাইভ ক্লাস মিস করে গেলেও পরে আবার গ্রুপের ওয়াল থেকে জেনে নিতে পারবেন। এ মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে পাঠ গ্রহন করে তা আয়ত্ব করতে পারে। এমনকি হোমওয়ার্ক,  ক্লাসওয়ার্ক  বা যে কোন প্রজেক্ট জমা দিয়ে শিক্ষার্থী তার ফিডব্যাক নিতে পারে।  

৬।  টিম ভিউয়ার ( Team Viewer)
এটি অনলাইন ভিত্তিকক্লাশ পরিচালনার জন্য ছোট পরিসরের একুটি মাধ্যম। এটি ব্যবহার করতে শিক্ষককে নির্ধারিত পাসকোড দিয়ে ছাত্র ছাত্রীদেরকে আমন্ত্রণ  জানাবেন এবং সুবিধামত পদ্ধতিতে ক্লাস নিতে পারেন।

৭।   গুগল অ্যাপ্লিকেশনস (google applications)
গুগল ক্লাসরুম ছাড়াও গুগলের রয়েছে আরো বেশ কিছু জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশনস যা ব্যবহার করে খুব সহজেই সরাসরি শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। এদের মধ্যে প্রসিদ্ধগুলি হলো,  G-suit, G-meet, Hangout, Duo ইত্যাদি।

৮।  কে টু এডুকেশন (k-12 education)
এটি অ্যাপেলের একটি  অ্যাপ্লিকেশন যা ব্যবহার করে ফলপ্রসু পাঠদান করা যায়। এটি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রিয় একটি অ্যাপ্লিকেশন।

৯।  ফ্লাশব্যাক এক্সপ্রেস ( Flashback Express) তৈরিকৃত কন্টেন্ট স্ক্রীনে উপস্থাপনার পাশাপাশি এ বিষয়ে শিক্ষকের লেকচারও সরাসরি  দেখা যাবে ফ্লাশব্যাক এক্সপ্রেস নামক অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাশে।

১০।  সোশ্যাল মিডিয়া  অ্যাপ্স (Social Media Apps) বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি অন্যতম প্রধান মাধ্যম যা ব্যবহার করে   শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আরামদায়কভাবে শ্রেণি কার্যক্রম চালাতে পারেন। এ মাধ্যমগুলোর মাঝে প্রধান হলো,  Messenger, imo, Linkedin, Instagram, Skype, Whats Apps প্রভৃতি।

সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে বুঝা গেলো যে, করোনা আঘাত বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ যা থেকে নিজেদেরকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার একটি মহান শিক্ষা তারা গ্রহন করতে পারে। শিক্ষার ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ যে কোন বাধাই নয়, বরং তা আমাদেরকে শিক্ষা ধারায় একটি নব দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। ইতিমধ্যে শিক্ষা ধারাকে অব্যাহত রাখতে যে অত্যাধুনিক শিক্ষার মাধ্যম ও উপকরণ আবিস্কৃত হয়েছে তার সঠিক ও সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের ছেলেমেয়েরা একবিংশ শতাব্দীর যে কোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্মার্টভাবে সফল হতে পারবে। একটি সুখের বার্তা হলো যে, আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে ঢাকাতে অবস্থিত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান অনলাইন ভিত্তিক ক্লাস চালু করেছে। তম্মধ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অন্যতম। এ প্রতিষ্ঠানের সকল শাখাতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং ইতিমধ্যে তারা ক্লাস টেস্ট ও ফাষ্ট টার্ম পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষা শেষ করেছে। তারা গুগল মিট, হোয়াটআপ্স, মেসেঞ্জার, নিজস্ব মডিউল SaaS ও গুগল ক্লাসরুমের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে বেশ সফলতা অর্জন করেছে বলে জাতীয় কয়েকটি নিউজ মিডিয়াতে প্রকাশিত  হয়েছে।   আমি আশাকরি,  আমাদের দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি এক সাথে একই পদ্ধতিতে অনলাইন শিক্ষার সুবিধাজনক যে কোন   মাধ্যম ব্যবহার করতে পারে, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থায় আর কোন সংকট থাকবে না। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সকল সংশয় দূর হবে এবং শিক্ষার স্বাভাবিক ধারা অব্যাহত থাকবে। ফলে জাতি হবে শিক্ষায় উন্নত এবং করোনার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে হবে সম্পূর্ণ নিরাপদ।        

লেখক" প্রাবন্ধিক, গবেষক ও
প্রিন্সিপাল, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, ঢাকা  

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর