মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ১৫:২০ পিএম


শিক্ষার্থীদের অপরাধ খুঁজে পাচ্ছেন না তদন্তকারী কর্মকর্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:০৩, ২৩ জুন ২০১৯  

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলার সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ২২ শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাড্ডা ও ভাটারা থানায় দায়ের করা মামলায় শিক্ষার্থীদের রিমান্ডে নেওয়াসহ প্রায় দশ মাস ধরে তদন্ত করেও শিক্ষার্থীদের অপরাধ খুঁজে পাচ্ছেন না তদন্তকারী কর্মকর্তারা। যে কারণে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারছেন না তারা। মামলায় গ্রেফতার হয়ে ১২ দিন কারাভোগের পর এ পর্যন্ত ৯ দিন আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। তাদের অভিযোগ, মামলায় পড়ে শিক্ষাজীবন ব্যাহত হচ্ছে।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আইনজীবীদের দাবি, মামলাগুলো হয়রানিমূলক ও অনেকাংশে রাজনৈতিক। ফলে এসব মামলা থেকে নিরপরাধ সাধারণ শিক্ষার্থীদের অব্যাহতি দেওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৯ জুলাই জাবালের নূর পরিবহনের একাধিক বাস যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে একটি বাসের চাপায় বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অপেক্ষমাণ যাত্রী। এ ঘটনার প্রতিবাদে ওইদিনই রাস্তায় নামে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় ‘হত্যার’ বিচারসহ নিরাপদ সড়কের জন্য ৯ দফা দাবিতে চলে টানা আন্দোলন। স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমর্থন দেন। ওই দিন সায়েন্স ল্যাব, জিগাতলা ও ধানমন্ডিতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় গুজব রটানো হয় আওয়ামী লীগ অফিসে ৪ শিক্ষার্থীকে মারধর করে হত্যা, একজনের চোখ উপড়ানো এবং আরও চার ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এই গুজব শুনে শিক্ষার্থীরা আওয়ামী লীগ অফিসের দিকে গেলে সেখানে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ ঘটে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলন চলার সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের পক্ষে নাশকতার মামলা দায়ের করা হয়। এরপরেই ধানমন্ডি, বনানী, বসুন্ধরা ও বনশ্রী এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে আন্দোলন চলার সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের হাতে আটক হন। আটকদের মধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থী ছিলেনও। আটকের পর ৬ আগস্ট বাড্ডা থানায় দায়ের করা মামলায় ১৪ শিক্ষার্থী ও ভাটারা থানার মামলায় ৮ জনকে আসামি করা হয়। তাদের গ্রেফতার দেখিয়ে ১২ দিন কারাভোগের পর ঈদের আগে তারা জামিনে মুক্তি পান।

পরদিন (৭ আগস্ট) এই ২২ শিক্ষার্থীকে আদালতে হাজির করে দুই দিনের রিমান্ডে আনা হয়। রিমান্ডের পর কারাগারে পাঠান আদালত। তারাও ১২ দিনের কারাভোগ শেষে জামিন পান।

কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও হয়রানি থেকে মু্ক্তি পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক।

 

এডুকেোশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর