শনিবার ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ৮:৩০ এএম


শিক্ষামন্ত্রীর ভায়রার খাই খাই স্বভাব!

এডুকেশন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৪৭, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮   আপডেট: ২৩:৪৬, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আপন ভায়রা আব্দুল লতিফ মিঞার ‘খাই খাই স্বভাব এবং নানা দুর্নীতির’ কারণে অচল হয়ে পড়েছে রংপুরের প্রখ্যাত বিদ্যাপীঠ কারমাইকেল কলেজ। কলেজটির সাধারণ শিক্ষকরা গতকাল শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট ডেকে বলেছেন, আব্দুল লতিফ মিঞার বিদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মন্ত্রীর আপন ভায়রা ভাই আব্দুল লতিফ মিঞা রংপুর কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ, অন্যদিকে, মন্ত্রীর শ্যালিকা কানিজ উম্মে নাজমা নাসরিন রংপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ। মন্ত্রীর কুটুম হওয়ার সুবাদে কলেজ দুটোতে এই দুজন ইচ্ছেমতো খবরদারি করছেন। এই খবরদারিতে অতিষ্ঠ হয়ে কারমাইকেল কলেজের সাধারণ শিক্ষকরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। তবে অভিযোগ বেশি আব্দুল লতিফ মিঞার বিরুদ্ধেই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, কলেজের শতবর্ষ উদযাপনের জন্য ১০ লাখ টাকা উঠেছিল। সেই টাকা ৯ জন মিলে ভাগ করে খেয়েছে। আমি ভাউচার চাইতেই আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপে গিয়ে এসব করছে। অন্যদিকে, সাধারণ শিক্ষকরা বলছেন আপনাকে টাকা দিতে হয়, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিভিন্ন কমিটির কাছ থেকে টাকা নিয়ে আমাকেই রাখতে হয়। কারণ কলেজে অডিট হয়। অডিটকারীদের সেই টাকা থেকে ঘুষ দেই। কমিটির কাছ থেকে নেয়া টাকা এভাবেই খরচ করি। সব কলেজেও এভাবে টাকা খরচ হয়। তবে মন্ত্রীর শ্যালিকা ও রংপুর কলেজের অধ্যক্ষ কানিজ উম্মে নাজমা নাসরিন বলেছেন, সবই ষড়যন্ত্র। তিনি নিজেকেসহ তার স্বামীকেও স্বচ্ছ মানুষ দাবি করে বলেন, সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের হোতা কারমাইকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আমার ভগ্নিপতি হওয়ায় আমরা ঢাকায় বড় বড় পদে চাকরি করতে পারতাম, রংপুরে পড়ে থাকতাম না। কিন্তু তিনি আমাদের সেখানে নেননি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৬ সালের নভেম্বরে কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন আব্দুল লতিফ মিঞা। এরপর থেকেই কলেজের বিভিন্ন ফান্ড থেকে দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি টাকা নিতে শুরু করেন। এমনকি কলেজে যত কমিটি হয় সেসব কমিটির আহ্বায়কদের কাছ থেকেও আলাদাভাবে টাকা নিতেন। যদি কোনো আহ্বায়ক টাকা না দেন, তাহলে তাকে শোকজ করতেন আব্দুল লতিফ মিঞা। পূজা ও ঈদে মিলাদুন্নবি-সংক্রান্ত কমিটির কাছ থেকেও টাকার ভাগ নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রীর এ ভায়রা। অন্যদিকে রংপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে বর্তমানে কাজ করছেন শিক্ষামন্ত্রীর শ্যালিকা কানিজ উম্মে নাজমা নাসরিন। গত চার বছর কলেজে আরো অন্যান্য সিনিয়র অধ্যাপক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও তাদের দায়িত্ব না দিয়ে মন্ত্রীর শ্যালিকাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়ে রাখা হয়। তবে কয়েক মাস আগে তাকে পদোন্নতি ঘটিয়ে পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ হিসাবেই নিয়োগ দেয়া হয়। এতে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে।

আব্দুল লতিফ মিঞা কারমাইকেলে কলেজের অধ্যক্ষ পদে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত থাকলেও হঠাৎ করে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনের কারণ সম্পর্কে সাধারণ শিক্ষকরা বলেছেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি কলেজের ইতিহাস বিভাগে একটি সেমিনার ছিল। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ মিঞা। তিনি তার বক্তৃতায় বলেন, একজন অযোগ্য, অকর্মণ্য ও অপদার্থকে শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। মূলত এমন অশোভন বক্তব্যের পরই সাধারণ শিক্ষকরা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষেপে ওঠেন। শিক্ষক পরিষদ দ্রুত তলবি সভা আহ্বান করে। এতে অধ্যক্ষকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। কিন্তু অধ্যক্ষ ক্ষমা না চেয়ে চলে যান। এর পরই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। তার দুর্নীতির বিষয়টিও সামনে চলে আসে। সামনে চলে আসে ভর্তি কমিটির কাছে দাবি করা ১ লাখ টাকা দেয়ার বিষয়টিও। সেদিনের রেশ ধরে গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কলেজের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষকরা। গতকাল বেলা ১২টার দিকে সরেজমিন দেখা গেছে, শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিভিন্ন ¯েøাগান দিয়ে বিক্ষোভ করে যাচ্ছেন। বন্ধ রয়েছে ক্লাস। সকাল থেকে ক্যাম্পাসে ছিলেন না অধ্যক্ষ লতিফ।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, গত বছরের ২২ অক্টোবর অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ মিঞাকে আল্টিমেটাম দিয়ে বলা হয়েছিল ঘুষ-দুর্নীতি ছাড়তে। কাউকে কটাক্ষ করেও কথা বলা যাবে না। কিন্তু তিনি তা মানেননি। বরং একতরফা ক্ষমতার অপব্যবহার করে সব সিদ্ধান্ত নেন। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, কলেজের অনার্স প্রথমবর্ষ পরীক্ষার জন্য টাকা রাখা হয়েছে ১৮ লাখ। সেই টাকা থেকে অধ্যক্ষ ১ লাখ টাকা চেয়েছেন। কিন্তু পরীক্ষা কমিটি টাকা দেয়নি। টাকা না পেয়ে রাগে-ক্ষোভে পরীক্ষা কমিটির সদস্যদের গণহারে শো-কজ করেছেন অধ্যক্ষ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক শামসুন্নাহার কে বলেন, যে নিয়মে টাকা বণ্টন করার কথা অধ্যক্ষ সেই নিয়মে না চেয়ে নিজের নিয়মে টাকা বণ্টন করতে বলেছেন। এতে অধ্যক্ষ ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হবেন। আমি এভাবে টাকা দেইনি। এ কারণে তিনি গণশোকজ করেছেন।

অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের খারাপ স্বভাবের কারণে কলেজে আন্দোলন চলছে বলে জানান কলেজের উপাধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক।

সৌজন্যে: ভোরের কাগজ

এডুকেশন বাংলা/এজে

 

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর