শনিবার ২৫ মে, ২০১৯ ১৭:৪৫ পিএম


শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে বটে, মানুষের স্বভাব কি বদলাল?

হাসান আজিজুল হক

প্রকাশিত: ০৮:৩৩, ২৩ এপ্রিল ২০১৯  

আসলে মানুষের স্বভাব সহজে বদলায় না, যদি শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন না হয়। শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নের কথা বলা হয়। হয়েছেও বটে। তাতে কী? মানুষের স্বভাব কি বদলাল?

আবার প্রকৃত শিক্ষার হার নিয়েও নানা কথা। মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, উচ্চ শিক্ষায় কতজন ঝরে গেল, তার কী আসল কোনো চিত্র আমাদের কাছে আছে? আবার শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানেরও একটা সম্পর্ক আছে। কিন্তু মানুষ তার শিক্ষার আলো নিয়ে সঠিক কর্মসংস্থানে যেতে পারছে না। স্বভাবগত পরিবর্তন তো এসবের সঙ্গেও জড়িত।

পদার্থ বিজ্ঞানের ছাত্ররা ব্যাংকে বা কোম্পানিতে চাকরি করছে। আবার ব্যাংক বিষয়ে পাস করে স্কুলে শিক্ষকতা করছে। তার মানে এখানে অবশ্যই গড়মিল আছে।

আবার যেখানে কর্মসংস্থান হচ্ছে সেখানে সত্যিকার মূল্য পাচ্ছে না। গ্রামের গরিব নারী শ্রমিকদের আয় ভোগ করছেন মধ্যস্বত্বভোগী পোশাক কারখানা মালিকরা। উৎপাদিত মূল্যের সঙ্গে শ্রমিকদের দেয়া মূল্যের কোনো সম্পর্ক নেই। তার মানে, শ্রমের জায়গাটা এখনও বৈষম্যে ভরা।

আবার পরনির্ভরতাও আমাদের সমাজকে ঠিক এগোতে দেয়নি। জন্মলগ্ন থেকে অন্যের কাছে হাত পেতে চলতে হয়েছে। রাস্তা, কালভার্ট, ব্রিজ বানানোর জন্য কারও কারও কাছে হাত পাততে হয়েছে। শাসন ও শোষণের এটাও একটা হাতিয়ার। কারণ যে ভিক্ষে দেয়, সে খবরদারিও করে। আমাদের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছে। দাতাসংস্থাগুলো তো মাত্রাতিরিক্ত মাতব্বরি করল। এ কারণে বাঙালি এখনও নিজেদের শাসন করা শিখল না।

বাঙালি মানসিকতায় এগোতে পারেনি। স্বনির্ভর হওয়ার জন্য শিক্ষার অর্জন ও প্রয়োগ জরুরি। আমরা সেটা করতে পারছি না।

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোর মধ্যে গলদ আছে। গরিব হওয়ার কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থী প্রাইমারি স্তর থেকে ঝরে পড়ছে। এখন হয়তো পরিবর্তন হয়েছে কিছুটা। কিন্তু কত সংখ্যক শিক্ষার্থী ঝরে গেল, তার কোনো খবর আছে? বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেধাবীরা বের হচ্ছে। কাজ দিতে পারছে না সরকার। বাইরে চলে যাচ্ছে। বাইরে গিয়ে শ্রম দিয়ে ওইসব দেশের উন্নয়নে কাজ করছে। দেশের কিছুই করতে পারছে না। শিক্ষার এ বিষয়গুলো ভাবলে ইতিবাচক ও নেতিবাচক- উভয় বিষয়ই সামনে আসে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর