সোমবার ০৬ জুলাই, ২০২০ ৪:১৮ এএম


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে ঘুরে বঙ্গবন্ধুর কথা বলেন গিয়াস উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৩৩, ৯ মার্চ ২০২০  

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার ভাইটকান্দি ইউনিয়নের ছোট্ট গ্রাম রঘুরামপুর। এই গ্রামে রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি টিনশেডের বাড়ি। মালিকের নাম গিয়াস উদ্দিন। নিজ গ্রাম ও ফুলপুর-তারাকান্দার মানুষের কাছে তিনি গেসু পাগলা নামে পরিচিত। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি বুকে ঝুলিয়ে ১৬ বছর ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। আওয়ামী লীগের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে তাঁর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিউবওয়েলের পানিতে স্নান করছেন তিনি। পাশে একটি চেয়ারের ওপর রাখা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি। স্নান শেষে বঙ্গবন্ধুর ছবি বুকে ঝুলিয়ে নেন। এ সময় তিনি জানান, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রতিদিন তিনি কোনো না কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বক্তব্য দেন। যাতে নতুন প্রজন্ম বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতে পারে। ওই দিনই তিনি দেওলা প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ে যান শিক্ষার্থীদের সামনে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বক্তব্য দিতে। তাঁর ভাষায়, ‘স্কুল পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ তুলে ধরছি। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ছাত্র-ছাত্রীদের ধারণা দিতে আহ্বান জানাচ্ছি।’

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অন্তপ্রাণ কিছু মানুষ। তাঁদের একজন গিয়াস উদ্দিন ওরফে গেসু পাগলা। বঙ্গবন্ধুর প্রতি অন্তহীন শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জড়িয়ে আছে তাঁর দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে। বঙ্গবন্ধু অন্তপ্রাণ গিয়াস উদ্দিনের জন্ম ১৯৫৮ সালে রঘুরামপুর গ্রামে। বাবা মৃত ফজর আলী ছিলেন কৃষক। মুক্তিযুদ্ধের সময় গিয়াস উদ্দিন ছিলেন ১২-১৩ বছরের কিশোর। বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেন আর বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনেন। সে সময় বঙ্গবন্ধুর বেশ কিছু ভাষণ শুনে জাতির জনকের প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা-ভালোবাসা জন্ম নেয়। এভাবে ক্রমে বঙ্গবন্ধুর অন্ধভক্ত হয়ে ওঠেন তিনি।

ফুলপুর, তারাকান্দা, নকলা, শেরপুর, জামালপুর, ময়মনসিংহসহ আশপাশের যেখানেই আওয়ামী লীগের সভা হয়, গিয়াস উদ্দিন বুকে বঙ্গবন্ধুর ছবি ঝুলিয়ে সেখানে হাজির হন। কখনো সাইকেল চালিয়ে, কখনো পায়ে হেঁটে হাজির হন এসব সভায়। এ অঞ্চলে আওয়ামী লীগের এমন কোনো সমাবেশ নেই, যেখানে গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত হননি। অভাবের সংসারে এক ছেলে তিন মেয়ে। কিন্তু সেদিকে তাঁর খেয়াল নেই। রাগ করে একবার স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যান।

ছোট ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভাইয়ের সংসার, ছেলে-মেয়েদের প্রতি নজর নেই। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি বুকে ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়ান প্রতিদিন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজারে মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বক্তব্য দেন। আওয়ামী লীগের সব মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেন। মানুষ তাঁকে পাগল ডাকে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য আশরাফুল ইসলাম সফর জানান, প্রায় ১৬ বছর ধরে বঙ্গবন্ধুর ছবি বুকে ঝুলিয়ে চলাফেলা করছেন গিয়াস। আওয়ামী লীগের সব মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নেন তিনি। দলের প্রতি এমন নিবেদিতপ্রাণ একজন কর্মীর মূল্যায়ন দরকার।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আলাল উদ্দিন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু অন্তপ্রাণ গিয়াস উদ্দিন জাতীয় নির্বাচন এলেই বঙ্গবন্ধু ও নৌকার ইতিহাস গ্রামের মানুষের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর বুকে ঝুলানো থাকে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি।’

গ্রামের শিক্ষক ওয়াহিদুল্লাহ জানান, এ ধরনের লোক সমাজে কম জন্মায়। আসলে সে পাগল না। বঙ্গবন্ধুর প্রতি অকৃতিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরিবার নিয়ে দুঃখ-কষ্টে জীবন চলে গিয়াস উদ্দিনের। অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ গিয়াস উদ্দিন। তাঁর এই দুরবস্থা দেখে ফুলপুর-তারাকান্দার সংসদ সদস্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী সরকারিভাবে একটি ঘর করে দেন গিয়াসকে।

গিয়াস উদ্দিনের জীবন টানাপড়েনের হলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে আগলে রেখেছেন তিনি। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটি বার হলেও বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে দুটি কথা বলতে চাই। এটিই আমার শেষ ইচ্ছা।’

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর