বৃহস্পতিবার ২৩ মে, ২০১৯ ১১:৪৭ এএম


শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি বন্ধে হাইকোর্টের নীতিমালা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৩৮, ১৪ মে ২০১৯   আপডেট: ১৬:৫১, ১৪ মে ২০১৯

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে।

ভূমিকা

সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের জন্য প্রতিরোধমূলক বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি হওয়ায় এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সংμান্ত কোন সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি বাদী হয়ে হাইকোর্টে ০৭ আগস্ট ২০০৮ একটি জনস্বার্থমূলক মামলা দায়ের করেন।

১৪ মে ২০০৯ মহামান্য হাইকোর্ট এ মামলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ নারীর সার্বিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিতকরণ এবং নারী-পুরুষ সমতা প্রতিষ্ঠায় একটি যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন।

কর্মক্ষেত্রে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রায়ে প্রদত্ত নীতিমালার ব্যাপক প্রচার, প্রসার এবং এর যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য এই প্রকাশনা।

 

রায় কোন কোন স্থানে কীভাবে ব্যবহার করা যাবে?

বাংলাদেশে কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানি প্রতিকারের সুষ্পষ্ট কোন আইন নেই যা রক্ষাকবচ হিসেবে আমাদের সংবিধানে উল্লেখিত জেন্ডার সমতাকে নিশ্চিত করতে পারে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে নারীর প্রতি যৌন নিপীড়নমূলক ঘটনা। এর প্রেক্ষিতে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কিছু দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয় যা কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং যতদিন পর্যন্ত যথাযথ এবং পর্যাপ্ত আইন প্রণয়ন না হয় ততদিন পর্যন্ত এ নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

পুরো নীতিমালা দেখতে ক্লিক

 

প্রসার

এই নীতিমালা বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে সকল সরকারি এবং বেসরকারি কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কার্যকর হবে।


লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য

ক) যৌন হয়রানি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা;

খ) যৌন হয়রানির নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা
সৃষ্টি করা;

গ) ‘যৌন হয়রানি শাস্তিযোগ্য অপরাধ’- এ বিষয়ে সচেতনতা
বৃদ্ধি করা।


নিয়োগদাতা ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কী কী?

রাষ্ট্রীয় সংবিধান এবং আইন মেনে চলা সকল নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীদের কর্তব্য। যেহেতু প্রজাতন্ত্রের সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদে জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণের বিষয়ে বলা হয়েছে এবং যেহেতু সকল ধরনের জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণে রাষ্ট্র দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং যেহেতু সংবিধানে রাষ্ট্র এবং গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার এবং সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান ও আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী বলে বলা হয়েছে; সেহেতু যৌন হয়রানি এবং নিপীড়নমূলক অপরাধের ঘটনাকে প্রতিরোধ এবং নিবৃত্ত করার জন্য একটি কার্যকরী পন্থা গ্রহণ করা এবং প্রচলিত আইন ও সম্ভাব্য প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপের মাধ্যমে যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিকারের উদ্দেশ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিগণের উপর বর্তায়।

লিঙ্গ বৈষম্য এবং যৌন হয়রানির বিষয়ে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। এটা খুবই জরুরি পদক্ষেপ। যৌন হয়রানিমুক্ত শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ তৈরিতে মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত নীতিমালা ৬

 

যৌন হয়রানির সংজ্ঞা

১) যৌন হয়রানি বলতে বোঝায়-
ক) অনাকাক্সিক্ষত যৌন আবেদনমূলক আচরণ। যেমন: শারীরিক স্পর্শ বা এ ধরনের পরোক্ষ প্রচেষ্টা;

খ) প্রাতিষ্ঠানিক এবং পেশাগত ক্ষমতা ব্যবহার করে কারো সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করা;

গ) যৌন হয়রানি বা নিপীড়নমূলক উক্তি;

ঘ) যৌন সুযোগ লাভের জন্য অবৈধ আবেদন;

ঙ) পর্নোগ্রাফি দেখানো;

চ) যৌন আবেদনমূলক মন্তব্য বা ভঙ্গি;

ছ) অশালীন ভঙ্গি, অশালীন ভাষা বা মন্তব্যের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করা বা অশালীন উদ্দেশ্য পূরণে কোন ব্যক্তির অলক্ষ্যে তার নিকটবর্তী হওয়া বা অনুসরণ করা, যৌন ইঙ্গিতমূলক ভাষা ব্যবহার করে কৌতুক বলা বা উপহাস করা;

জ) চিঠি, টেলিফোন, মোবাইল, এসএমএস, ছবি, নোটিশ, কার্টুন, বেঞ্চ, চেয়ার-টেবিল, নোটিশ বোর্ড, অফিস, ফ্যাক্টরি, শ্রেণীকক্ষ, বাথরুমের দেয়ালে যৌন ইঙ্গিতমূলক অপমানজনক কোন কিছু লেখা; এই ভিডিওটা দেখ, আনন্দ পাবে! আমায় টাচ্ক রবেন না!

৭ যৌন হয়রানিমুক্ত শিক্ষা ও কর্মপরিবেশ তৈরিতে মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক প্রদত্ত নীতিমালা

ঝ) ব্লাকমেইল অথবা চরিত্র হননের উদ্দেশ্যে স্থির বা ভিডিও চিত্র ধারণ করা;

ঞ) যৌন হয়রানির কারণে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং শিক্ষাগত কার্যμমে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা;

ট) প্রেম নিবেদন করে প্রত্যাখাত হয়ে হুমকি দেয়া বা চাপ প্রয়োগ করা;

ঠ) ভয় দেখিয়ে বা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বা প্রতারণার মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপন বা স্থাপনের চেষ্টা করা।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর