রবিবার ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ২০:৫৩ পিএম


শিক্ষক প্রতিনিধিত্ব ছাড়া নীতিমালা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৪৫, ৫ আগস্ট ২০১৯   আপডেট: ০৯:৫৮, ৫ আগস্ট ২০১৯

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়োগ ও পদোন্নতির নীতিমালায় শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ কিংবা অন্তত প্রতিনিধিত্ব থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। অথচ তাদের `না রাখা` সংক্রান্ত যে প্রতিবেদন রোববারের সমকালে প্রকাশ হয়েছে, তাতে আমরা বিস্মিত।

এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়ে ইতিমধ্যে সহস্রাধিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক বিবৃতি দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আমরা বহুলাংশে একমত। দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা বিশ্বজনীন। জাতীয় জীবনেও যে কোনো সংকটে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী ও সৃজনশীলরাই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েরই নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। এটা সত্য যে, বিদ্যমান নীতিমালায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে।

পদোন্নতির ক্ষেত্রেও অভিযোগ কম নয়। এ অবস্থায় বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা কিংবা নতুন নীতিমালা গ্রহণ করা যেতেই পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষক ও দায়িত্বশীলরাই তা ঠিক করবেন। বিবৃতিতে শিক্ষকরা যে দাবি করেছেন, প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরেণ্য গবেষক ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে সুপারিশ গ্রহণ এবং তার আলোকে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে শিক্ষক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে নীতিমালা, সেটিও ন্যায্য। স্বস্তির বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংক্রান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত নীতিনির্ধারণী সভা রোববার অনুষ্ঠিত হয়নি বলে জানা যাচ্ছে।

আমরা মনে করি, এটা বরং সে সুযোগটিই এনে দিয়েছে। নীতিমালা গ্রহণে অবশ্যই শিক্ষকদের প্রতিনিধিত্ব থাকা দরকার। সবার অংশগ্রহণে ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা চাই। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের নিয়োগ ও পদোন্নতির বিষয়টি এমন সময়ে আলোচিত হচ্ছে যখন আমরা দেখছি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। যখন বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে স্থান হারাচ্ছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালার অনুসরণেও আমাদের নীতিমালা হতে পারে। পদোন্নতির ক্ষেত্রে গবেষণাকে প্রাধান্য দেওয়া চাই। তবে সব ক্ষেত্রে আমাদের দেশি প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নেওয়া চাই। মনে রাখা দরকার, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনও মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু। জাতির ভরসার প্রতীক বিশ্ববিদ্যালয়কে সব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে রাখতেই হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা শিক্ষকদের অংশগ্রহণ ছাড়া প্রণীত হলে প্রশ্ন উঠবে, এটাই স্বাভাবিক। আমরা চাইব, এ সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই শিক্ষকদের যথাযথ সংখ্যায় প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেবে।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর