শনিবার ৩০ মে, ২০২০ ১৫:০৯ পিএম


শিক্ষকদের হেয় প্রতিপন্ন করা রেওয়াজ হয়ে দাড়িয়েছে

বিশ্বজিৎ রায়

প্রকাশিত: ০৯:০৫, ৭ মে ২০২০  

সম্প্রতি  শিক্ষকদের হেয় প্রতিপন্ন করা রেওয়াজ  হয়ে দাড়িয়েছে। যেখানে বাদশাহ আলমগীর শিক্ষকদের সর্বোচ্চ মর্যাদার আসনে আসীন  করেছেন। সাবেক শিক্ষা সচিব এন আই খান মহোদয়  তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে সালাম করে তাকে সম্মান করেছেন তার  আর্শিবাদ নিয়েছেন, সেখানে বর্তমানে শিক্ষকদের নিয়ে এবং তাদের মান সম্মান নিয়ে ছিনি মিনি খেলা হচ্ছে।  অতি প্রাচীনকালের একজন কবি শাহ মুহম্মদ শগীর লিখেছিন প্রথমে প্রনাম করো মা - বাপ পায়ে দ্বিতীয়ে প্রনাম করো শিক্ষাগুরুর পায়ে। অর্থটা সবার বোধগম্য।   কবি  শিক্ষাগুরুকে মা- বাবার  পরে স্থান দিয়েছেন।। আর আজ আমাদের দেশের পরিস্থিতি অন্য রকম।

শিক্ষকদের কটুকথা বলা,  গালাগালি করা,  চড়াও হওয়া,  উপহাস করা, মানসম্মান নিয়ে চিনিমিনি খেলা করা একটা রীতি বা রেওয়াজে পরিনত হয়েছে। গত  ৩ মে "একটি" নামক একটি অনলাইন পত্রিকায় " ফাঁকিবাজ শিক্ষদের কাজ বাড়ালেন ইউএনও " শিরোনামে যে সংবাদটি  প্রকাশিত হয়েছে, তা বড়ই আপত্তিকর ও পীড়াদায়ক।  প্রকাশিত    সংবাদ এর মধ্যমে জানা যায় যে ইউএনও মহোদয় " শিক্ষকদের  শিক্ষার্থীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন"। এখানে প্রশ্ন হলো ইউএনও মহোদয় কতটা বিবেচনাপ্রসুত কাজের আদেশ জারি  করলেন। দেশে শিক্ষা  বিভাগ দেখার জন্য দুটি মন্ত্রানালয়  বিদ্যমান। একটি প্রাথমিকের জন্য অন্যটি মাধ্যমিকসহ উচ্চ শিক্ষার জন্য।  মন্ত্রানালয় পরিচালনা করার জন্য রয়েছেন মাননীয়  মন্ত্রী মহোদয় ও সচিব মহোদয় ।

 সর্বোপরি  রয়েছেন বঙ্গমাতা, মাদার আব দ্যা হিউম্যানেটি, যিনি   সম্প্রতি ফর্বস  জার্নালের জরিপে  করোনা মোকাবেলায় বিশ্বসেরা রাষ্ট্রনায়কের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন।  তার দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়গুলি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক  ফোরাম প্রসংশা করেছে। করোনার পরিস্থিতি নিয়ে  তিনি প্রতিনিয়ত  দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, জেলার কর্তাব্যক্তিদের সাথে কথা বলছেন।শিশুদের ঝুকির মধ্যে আনবেন না বলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর  পর্যন্ত ছুটি রাখবেন বলে এক বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেছেন। শিক্ষা  ডিপার্টমেন্টের মাননীয়   মন্ত্রী ও সচিব মহোদয়গণ পরিস্থিতির উপর সজাগ দৃষ্টি রেখে পরবর্তী  করণীয় নিয়ে ভাছেন।   প্রথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের সচিব এও বলেছেন  যে" আগে আমাদের সন্তান।পরীক্ষা   পরের বিষয় , আগে তাদের লেখাপড়ার দিকে নজর দিচ্ছি।  আমরা তো পরীক্ষাকেন্দ্রিক লেখাপড়া থেকে দূরে সরে আসছি।  তিনি  আরও বলেন পরীক্ষা মূখ্য বিষয় নয় , মূখ্য হচ্ছে আমরা   শিক্ষার্থীদের কতটা  শিখাতে  পারলাম"।  এমন কি সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করে শুধুমাত্র বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে পরবর্তী  ক্লাশে  শিক্ষার্থীদের উঠানোর চিন্তা ভাবনা চলছে । করোনার ভয়াবহতা সম্পর্কে সবাই জেনে গেছে।

সমগ্র বিশ্ব আজ  কোভিট  -১৯   এ পর্যদস্ত। এ পর্যন্ত ২০৮ টি দেশ এ ভাইরাসে আক্রান্ত । বাংলাদেশে এ ভাইরাস ১ম ধরা পড়ে ৮  মার্চ  ২০২০এবং ১ম মারা   যায় ১৮ মার্চ২০২০  । সরকার পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রনে আনতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,  বাজার, গার্মেন্টস্ গনপরিবহন  সাথে সাথে বন্ধ করে।  করোনা পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রণআনতে সারা দেশ লকডাউনে।   মানব দরদী মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী  জননেত্রী শেখ হাসিনা   দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন পরিস্থিতি  যেন নিয়ন্ত্রণের  বাইরে না যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রানালয়ের  মাননীয়  মন্ত্রী জনগন  স্বাস্থ্য মন্ত্রানালয় ও আই ই ডি সি আর জনগন কে সজাগ করছেন প্রতিনিয় ২৪ ঘন্টার তথ্য উপাত্ত   উপস্থাপন করে এবং বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে।  আইন শৃখলা বাহিনী ও কঠোর অবস্থানে আছে জনগণ কে ঘরে রাখতে।   

সেখানে বাংলাদেশ   জার্নালের প্রকাশিত সংবাদে জানা গেল যে "ইউএনও মহোদয় তার চিঠির মাধ্যমে  বাহ্মনবাড়ীয়ার শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার কথা বলছেন"।   ইউএনও মহোদয় করোনা মহামারির এ পরিস্থিতিতে   সকল শিক্ষক ও তাদের পরিবার পরিজনদের  দায়িত্ব নিলে বাহ্মনবাড়ীয়া কেন, দেশের  সমগ্র শিক্ষক সমাজ  এ কাজে অংশগ্রহণ করবে  তাতে সন্দেহ নাই।   দেশের (১) প্রধানমন্ত্রী,  মন্ত্রী,এম,পি মহোদয়গণ এই শিক্ষকের হাতেই হাতে খড়ি নিয়েছেন।  (২) দেশের শিক্ষকরাই কুটনীতিক, সচিব,  ডাক্তার   ইঞ্জিনিয়ার  তৈরি করেছেন। (৩)  দেশে শিক্ষার হার ক্রমবর্ধমান  হারে বাড়ছে তাও শিক্ষদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল।

 সকল শ্রেণি  পেশার মানুষ আজ করোনার ছোবলে আসহায়। বসে নেই  সমাজের  সর্বোচ্চ আসনে আসীন   শিক্ষক সমাজ।(১)  করোনার এ আতঙ্কের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারি  সাহায্য পাওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন পরিবারের তালিকা  করছে। (২) স্থানীয় চেয়ারম্যান  ও মেম্বরদের বিভিন্ন কাজে সহযোগীতা করছে। (৩) কোথাও কোথাও রিলিভ বিতরণ কাজে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্ব  পালন করছে। (৪) দেশের এ
 
দুঃসময়ে তারা মাননীয়  ডিজি মহোদয়ের  একাউন্টে একদিনের বেতন প্রদান করেছে মাননীয়  প্রধানমন্ত্রীর জনদরদী শেখ হাসিনার ত্রান তহবিলে দেওয়ার জন্য। তারা অনেকই বেশ অর্থিক সমস্যায় অাছে তার পরও তারা ত্রান তহবিলেআর্থিক সাহায্য করতে কুন্ঠা বোধ করেনি।  (৫)  শুধু তাই নয় স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন তহবিল গড়তে তারা সাহায্য সহযোগীতা করে যাচ্ছে।  মাননীয় উপজেলা নির্বাহী  অফিসারের  ত্রান তহবিলে  অর্থ  দান করে  তহবিল সমৃদ্ধ  করার কাজে ভুমিকা রেখেছে। (৬)  এমন কী  স্বচ্চল শিক্ষকের স্থানীয় গরীব লোকজনদের চাল, আলু, ময়দা, লবন , তেল,ও বিভিন্ন দ্রব্য সামগ্রী দিয়ে সাহয্য করছে।  

একজন শিক্ষনেতা তো প্রতিনিয়ত অসহায় জনগণের পাশে থেকে সাহায্য সহযোগীতা করছে যা ফেসবুবে পোস্ট হচ্ছে (৭) স্থানীয়  জনগন কে  করোনার ভয়বহতা সম্পর্কে বুঝিয়ে জনসচেনতা গড়তে ব্যাপক  ভুমিকা রাখছে। (৮)  করোনা মহামরীতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ  সম্পর্কে  জনগনকে বুঝাতে ভুমিকা রাখছে বেসরকারি শিক্ষক সমাজ। (৯) শিক্ষা কার্যক্রম একেবারে পর্যদস্ত।(!)মাউশি কর্তৃক বাস্তবায়নকৃত "আমার ঘর আমার স্কুল "কার্যক্রমে   অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীর লেখাপড়া একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচষ্টায় সদা ব্যপৃত (!!) এরই মধ্যে কিছু শিক্ষক অনলাইন মডেল প্রশ্ন  ফেসবুকে পোস্ট করে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করছে,  (!!!) কিছু শিক্ষক অনলাইন ক্লাশ নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করছে। (!v) কিছু শিক্ষক  লেখাপড়া সম্পর্কে বিভিন্ন ম্যাছেজ দিয়ে  শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করছে। ( v) ধান কাটার মৌসুমে ধান ঘরে কাজে ব্যাপৃত  রয়েছে।
( v!) কিছু শিক্ষক স্থানীয় ভাবে বানানো পিপি ই , যেমন : মাক্স বানিয়ে বিলি করে স্থানীয় জনগণ  কে সচেতন করছে ।  (v!!) শিক্ষা সংক্রান্ত অনলাইন পত্রিকা গুলো বিভিন্ন অঞ্চলের তথ্য উপাত্ত  উপস্থাপন ও বিভিন্ন বরেণ্য ব্যক্তিদের স্বাক্ষাৎকার নিয়ে জনসচেতনতার কাজ করছে।  

যে সংবাদ সংগ্রাহক সংবাদটি এমনভাবে বাংলাদেশ জার্নালে  প্রকাশ করেছেন  তিনি ঠিক কাজটি করেনি। যে পত্রিকা টি এটি ছেপেছেন, পত্রিকাটির কর্তৃপক্ষও কাজটি  ঠিক করেছেন বলে আমার মনে হয়না।  

ইত্যোমধ্যে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি( বিটিএ) এর সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ বজলুর রহমান  মিয়া   ও সম্পাদক  অধ্যক্ষ  মোঃ কাওছার আলী প্রকাশিত সংবাদের তীব্র  প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ বেসরকারি  শিক্ষক কর্মচারী  ফোরাম এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল ইসলাম মাসুদ প্রকাশিত সংবাদটির তীব্র   জানিয়েছেন। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা প্রতিবাদের  ঝড় তুলেছে।

আমিও  সকল শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে উক্ত সংবাদ প্রতিনিধি  ও  জনপ্রিয়  অনলাইন পত্রিকাবাংলাদেশ জার্নাল এর কর্তৃক পক্ষকে ভুল স্বীকার করে নিয়ে গঠনমুলক,সত্য,বস্তুনিষ্ঠ ও শিক্ষকদের কল্যাণে আরও বেশি  সংবাদ পরিবেশন করার আহ্বান  জানাচ্ছি।

লেখক : শিক্ষক, মৃজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়
তালা, সাতক্ষীরা।ও সম্পাদক, বিটিএ, সাতক্ষীরা, জেলা শাখা, সাতক্ষীরা।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর