মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২০ ১৭:০২ পিএম


শিক্ষকদের বানান শেখাতে পরীক্ষা! প্রশ্ন করবেন জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৫৫, ৬ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৭:৫৪, ৬ জুলাই ২০২০

হবিগঞ্জ জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (সরকারি/বে-সরকারি) বাংলা বিষয়ের শিক্ষকদের অনলাইনে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা শিক্ষা অফিস। তবে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে শিক্ষকরা পড়েছেন অস্বস্তিতে। করোনার এই মহাসংকটে যেখানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নিয়মিত রাখা এবং পর্যবেক্ষণ করাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে সেখানে শিক্ষকদের দক্ষতার উন্নয়নে এই প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।  

জেলা শিক্ষা অফিসার এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা আজ তার অফিসিয়াল ফেসবুকে পোস্ট করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, `হবিগঞ্জ জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (সরকারি/বে -সরকারি) স্কুলের বাংলা বিষয়ের শিক্ষকদের অনলাইনে প্রতিযোগিতামূলক পরিক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। পরিক্ষা হবে আগামী ১৩ জুলাই বাংলা বিষয়ের উপর ৩০ নাম্বারের। হবিগঞ্জ জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক জনাব মোহাম্মদ কামরুল হাসান মহোদয় প্রশ্ন করবেন। প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ত্ব অর্জনকারিদের জেলা প্রশাসন থেকে পুরস্কৃত করা হবে। আগামী ১২ জুলাই তারিখের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে এবং সেদিন সবাইকে zoom cloud app`s এর লিংক/ আইডি পাসওয়ার্ড দেয়া হবে। সকল বাংলা বিষয় শিক্ষককে বিষয়টি গুরুত্ত্বের সাথে নিয়ে প্রস্তুতি গ্রহণ করার অনুরোধ রইল।`

এ সম্পর্কে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল্লাহ( ভারপ্রাপ্ত) এডুকেশন বাংলাকে জানান, জেলা শিক্ষা অফিসের উদ্যোগেই এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন `অনেক শিক্ষকই বাংলা বানান, বাংলায় চিঠি-পত্র, দরখাস্ত ইত্যাদি শুদ্ধ করে লিখতে পারেন না সেজন্য এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ডিসি পরীক্ষার প্রশ্ন করার ব্যাপারে তিনি বলেন, `ডিসি মহোদয় আন্তরিকতা দেখিয়ে প্রশ্ন করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।`

মাউশির একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন এ ধরণের পরীক্ষার নিতে গেলে মাধ্যমিক  ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের কনসার্ন নেয়া কথা। এভাবে শিক্ষকদের পরীক্ষা নেয়াটা হাস্যকর।

একজন সহকারি শিক্ষক বলেন `আমরা সারা বছরেই  বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকি। এভাবে বাংলা বানান শেখানোর জন্য পরীক্ষা নেয়াটা অপমানজনক। আমাদের প্রশিক্ষণ, বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়ার যথাযথ কর্তৃপক্ষ আছে তারাই পরীক্ষা নেয়ার এখতিয়ার রাখেন। তবে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ উদ্যোগে জড়িত থাকার কারণে কেউ সরাসরি এর বিরোধিতা করতে পারছেন না।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর