বৃহস্পতিবার ২০ জুন, ২০১৯ ২১:২৪ পিএম


শিক্ষকদের ছুটি না কমিয়ে পরীক্ষা ও বইয়ের পরিমার্জন করা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৪১, ১১ জুন ২০১৯  

বছরে শিক্ষকরা মোট ৮৫ দিন ছুটি পান। আর সরকারি কর্মচারীরা শুধু সাপ্তাহিক ছুটিই পান ১০৪ দিন।সরকার যদি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েই থাকেন তবে আমি অনুরোধ করবো এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে।আসলে কিছু মানুষ সব সময়ই সরকারকে বিপাকে ফেলতে ও নিজেদের বাঁচাতে শিক্ষকদের জিম্মি করতে চায় কারণ শিক্ষকরা তো অসহায়।আর শিক্ষকরাও এসবের জন্য বিরুপ মন্তব্যও করে যা অনেক ক্ষেত্রেই সরকারে বিপক্ষে যায়।এর জন্য আসলে তারাই দায়ী যারা এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারকে বিপাকে ফেলে।

আমাদের মূল সমস্যাটা নিশ্চয়ই শিক্ষকদের ছুটি নয়।সমস্যা রয়েছে শিক্ষাব্যবস্থায়।আমাদের পরীক্ষা পদ্ধতিতে যে সময় যায় আমরা কিন্তু ইচ্ছে করলে সেটিতে একটি আমূল পরিবর্তন এনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি।পিইসি,জেএসসি পরীক্ষার বর্তমানে তেমন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।এগুলো বাদ করলে ক্লাস সংখ্যা বেড়ে যাবে।রাজনৈতিক প্রভাবে অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহৃত হওয়ার কারণে ক্লাস বা পরীক্ষা বন্ধ থাকে যেটির ব্যবহার বন্ধ করলে ক্লাস সংখ্যা বেড়ে যাবে।
একাডেমিক বেশ কিছু অপ্রয়োজনীয় বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে যেগুলো বাদ দিলে ক্লাস সংখ্যা বেড়ে যাবে।
বইগুলোকে নতুনভাবে সত্যিকারের মানসম্মতভাবে ঢেলে সাজাতে পারলে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট/কোচিং করতে হবে না।ফলে গাইড বইগুলোর প্রভাবও থাকবে না।এতে শিক্ষার্থীরা কম ক্লাসেই ভালোভাবে সব বুঝতে পারবে।
আমাদের সিলেবাস দুর্বল মানের।এটির মূল কারণ বর্তমানের শিক্ষাব্যবস্থা।এই শিক্ষাব্যবস্থায় বছরের শুরুতে সিলেবাস প্রণয়ন করা হয় না,বেশ পড়ে সেটি করা হয়।আবার বছরের মাঝখানেও হুটহাট সিদ্ধান্ত।এ যেন মামার বাড়ির রাজত্ব আর মায়ের হাতের মুয়া খাওয়া।দেশের বর্তমানে ইংরেজি শিক্ষার কথাই বলি।একাডেমিক এমন একটি কমন গ্রামার বই কি আমরা করতে পেরেছি যেটি সারা বাংলার শিক্ষার্থীরা পড়তে পারবে এবং নতুন কোনো লেখকের গ্রামার বই তারা কিনবে না?পারিনি।এজন্যই যার যেমন ইচ্ছে তারমত করে মানহীন গ্রামার বইও স্কুলে পড়তে বাধ্য করছে।শিক্ষার্থীরাও সেগুলো গিলছে।এত এত গলধঃকরণের পরেও কিন্তু শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর ধরে ইংরেজিতে কথা বলতে পারছে না।অর্থাৎ তারা ইংরেজি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য থেকেই সরে যাচ্ছে।কেন যাচ্ছে?কারণ আমরা তাদের বাধ্য করছি সরে যেতে।এখানে শিক্ষার্থীদের গতানুগতিক কিছু নিয়ম করানো হয় ও কমন/আনকমন কম্প্রিহেনসিভ প্যাসেজ থেকে কাজ করতে দেওয়া হয়।তারা বোবার মত চুপ করে বছর বছর কাজ করে।ফলে তারা বোবাই থেকে যায়।কথা বলার সামর্থ্য অর্জন করতে হলে তাদের শব্দভান্ডারের দিকে অধিক নজর দিতে হবে ও ইংরেজিতে কথা বলানোর চেষ্টা করতে হবে।শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতি শব্দভান্ডারের ওপর বেশি জোর দিলে ও সেই শব্দগুলোর মৌখিক ব্যবহার শেখাতে পারলে কিন্তু তারা ধীরে ধীরে অনর্গল কথা বলার অভ্যাসে পরিণত হতো।একজন শিক্ষার্থী ছয় মাসের স্পিকিং কোর্স করে ইংরেজিতে কথা বলতে পারলেও ছয় বছর ধরে একাডেমিক ইংরেজি শিখে ইংরেজিতে কথা বলতে পারে না।এই ব্যর্থতা আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার।এটিকে কোনোভাবে অস্বীকার করা যায় না।সুতরাং শিক্ষার্থীদের ক্লাস বাড়িয়ে দেওয়ার নাম করে আমরা শিক্ষকদের ছুটি কমিয়ে আনতে পারি না।শিক্ষার্থীদের ক্লাস বেশি লাগলে অবশ্যই আমরা সেটি সমর্থন করি।তবে পদ্ধতিটা পরিবর্তন করা বাঞ্চনীয়।

সুতরাং আমাদের মূল সমস্যা হলো শিক্ষা সংস্কার না করা।আমরা সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছি।আর এজন্যই শিক্ষকদের ওপর হুটহাট সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে যা শিক্ষক সমাজের জন্য বড় বেদনাদায়ক।

লেখক: সাধারণ সম্পাদক,বাংলাদেশ টিচার্স কাউন্সিল

এডুকেশন বাংলা/এজেড

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর