মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ১৪:৫৮ পিএম


শিক্ষকতার অর্থ কেবল ক্লাসে পড়ানো নয়

সজীব সরকার

প্রকাশিত: ১২:৪৮, ৮ জুলাই ২০১৯  

শিক্ষকতা আর দশটা পেশার মতো নয়। একজন প্রকৃত শিক্ষক পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়াবেন, তাদের জীবন গড়ে তুলতে সহায়ক হবেন, সেটিই কাম্য। এজন্যেই শিক্ষকতাকে যতটা না পেশা হিসেবে দেখা হয়, তারচেয়ে বেশি ভাবা হয় এক মহান ব্রত হিসেবে : অগুণতি মানুষের জীবন গড়ার ব্রত, তাদের জীবনকে আলোকিত করার ব্রত।

আমরা আজকাল এমন মহানুভব শিক্ষক কমই দেখি যারা শিক্ষার্থীদের নিতান্ত একাডেমিক প্রয়োজনের বাইরে গিয়েও তাদের জীবন গড়ার সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। অনেকে মনে করেন, শিক্ষক হিসেবে তাদের কাজ কেবল ক্লাসে পড়ানো, পরীক্ষা নেওয়া আর পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করা। অনেকে আবার এমনকি ক্লাসের ব্যাপারেও যথেষ্ট যত্নশীল নন এবং কেবল অফিসে নিয়মতান্ত্রিক হাজিরা নিশ্চিত করতে পারলেই ‘চাকরি ঠিকঠাক চলছে’ ভেবে নিশ্চিন্ত বোধ করেন। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়- সর্বত্রই এই দুই ধরনের চর্চা আমরা শিক্ষকদের মধ্যে দেখি।

শিক্ষকতা কেবল একটি ‘চাকরিমাত্র’ নয়; শিক্ষকতা কেবল ক্লাসরুমে লেকচার দেওয়ার মধ্যে সীমিত নয়। একজন শিক্ষক যখন প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির গণ্ডিতে এবং ক্লাসরুমে নিজেকে সীমিত না রেখে শিক্ষার্থীদের জীবনের ক্যানভাসে প্রবেশ করবেন, তখনই কেবল তিনি একজন ভালো শিক্ষক এবং প্রকৃত অর্থেই একজন শিক্ষক হয়ে ওঠার দুর্লভ সুযোগ পাবেন।

শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন বুঝতে হবে, তাদের সুবিধা-অসুবিধা বুঝতে হবে। শিক্ষার্থীদের মনের ও জীবনের চাহিদা শিক্ষককে বুঝতে হবে। কেবল ক্লাসরুমে নয়, ক্লাসরুমের বাইরেও জীবনকে দেখার ও জরুরি বিষয় সম্বন্ধে শেখার সুযোগ একজন শিক্ষককে তৈরি করে দিতে হবে। একজন শিক্ষক কেবল ‘অফিস আওয়ার’ পর্যন্ত শিক্ষক নন, চব্বিশ ঘণ্টাই তিনি শিক্ষক; তাই শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রয়োজনে একজন শিক্ষককে সবসময়ই উৎসাহী ও প্রস্তুত থাকতে হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষক ক্লাসরুমে কী পড়াচ্ছেন বা কী বলছেন, তা শিক্ষার্থীদের খুব বেশি আগ্রহী করে না; বরং একজন শিক্ষক ক্লাসরুমে যা বলছেন, ব্যক্তিজীবনে যদি তিনি সেই বিশ্বাস ও নৈতিকতার চর্চা করেন, তাহলে তা দেখেই শিক্ষার্থীরা বরং বেশি অনুপ্রাণিত হয়, শিক্ষককে অনুসরণ করে নিজের জীবনেও সেই নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করতে বেশি আগ্রহী হয়। তাই শিক্ষককে তার পাঠের ব্যাপারে সততার পরিচয় দিতে হবে।

সর্বোপরি, একজন শিক্ষককে তার শিক্ষার্থীদের মঙ্গলাকাক্সক্ষী হতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নাতীতভাবে আস্থাভাজন হয়ে উঠতে হবে। তাহলেই কেবল একজন প্রকৃত শিক্ষক- একজন সত্যিকার শিক্ষাগুরু হয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে।

লেখক : সজীব সরকার : সহকারি অধ্যাপক; জার্নালিজম, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ; স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। লেখক ও গবেষক।

ই-মেইল: [email protected]

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর