শনিবার ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০:৪০ এএম


এমপিওভুক্ত লক্ষাধিক শিক্ষক উচ্চতর স্কেল বঞ্চিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:২৮, ১৯ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২০:৪৯, ১৯ নভেম্বর ২০১৯

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা) কর্মরত শিক্ষকরা আগে চাকরির ৮ ও ১৬ বছর পূর্তিতে দুটি উচ্চতর স্কেলের সুবিধা পেতেন। ২০১৫ সালের অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল চালু হলে শিক্ষকদের এ সুবিধা বাতিল করা হয়। ২০১৮ সালের জুনে বেসরকারি এমপিওভুক্তির নীতিমালা ও জনবল কাঠামো নতুন করে প্রণীত হলে সেখানে ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে আবারও দুটি উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তির সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এমপিও নীতিমালা-২০১৮ জারির দেড় বছর পার হয়ে গেলেও শিক্ষকরা এই সুবিধা পাননি এখনও। কবে পাবেন, তাও জানা নেই কারও। সারাদেশের এমপিওভুক্ত অন্তত লক্ষাধিক শিক্ষক এটি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

আরো পড়ুন: পরকীয়া আসক্তি থেকে যেভাবে মুক্তি পাবেন

 এমপিও নীতিমালা অনুসারেই বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের সব ধরনের আর্থিক সুবিধাদি দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের এমপিওনীতিমালা জারির পর সেখানে থাকা অন্যসব আর্থিক সুবিধা কার্যকর করা হলেও অজ্ঞাত কারণে বেসরকারি শিক্ষকদের `উচ্চতর স্কেলে`র সুবিধা কার্যকর করা হয়নি। কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে কেন এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত, তার কোনো সদুত্তরও কারও কাছে মিলছে না।

শিক্ষকরা জানান, ২০১৮ সালের এমপিও নীতিমালায় নতুন কিছু বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের বিষয়ে নতুন শর্ত যোগ করা হয়েছে, যার বেশকিছু শর্তই বিতর্কিত। বিশেষ করে উপাধ্যক্ষ নিয়োগের ক্ষেত্রে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তিন বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু সহকারী কোনো যোগ্যতার পদ নয়। ৫:২-এর কোটায় না পড়লে শত যোগ্যতা থাকলেও কেউ সহকারী অধ্যাপক হতে পারবেন না। তারা প্রশ্ন তোলেন, যে পদে যাওয়ার পথ নেই, সেটাকে যোগ্যতার মাপকাঠিতে যোগ করা অধিকার হরণ ছাড়া আর কী?

প্রথম নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা কোটার দাপটে সহকারী অধ্যাপক হয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে বড় কলেজের অধিকাংশ শিক্ষকের চাকরিকাল প্রভাষক হিসেবে থেকেই অবসরে যাচ্ছেন। অথচ ওই শিক্ষকের ছাত্ররাই আবার নতুন কলেজে গিয়ে মাত্র আট বছর পরে কোটায় সহকারী অধ্যাপক হয়ে যাচ্ছেন। তারা বলেন, এটা কালো আইন, এটা বাতিল করা এখন সময়ের দাবি।

আরো পড়ুন: হাইস্কুলে বিনামূল্যে দেয়া হবে কনডম

কয়েকজন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এটি প্রদান বন্ধ আছে। মূলত ব্যয় সংকোচন করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। নাটোর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, `পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত উচ্চতর স্কেলের আবেদন অগ্রায়ন না করতে মৌখিকভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।`

পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান বলেন, `বেসরকারি শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেলের প্রাপ্যতা আছে। তারা এটি পাবেন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। এটি আগামী এমপিওভুক্তির সভায় উপস্থাপিত হবে। সেখানে উচ্চতর স্কেলসহ অমীমাংসিত আরও বিষয় মীমাংসিত হবে।`

 

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর