শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:০৬ পিএম


রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বাংলাদেশি কিশোরের ৩০ হাজার ডলার

মহিউদ্দিন রাসেল

প্রকাশিত: ১৮:৫৮, ১২ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ০২:২১, ১৩ জানুয়ারি ২০২০

মায়ানমার থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন সাদাকাত ওমর নামের এক বাংলাদেশি কিশোর। মাত্র ১৪ বছর বয়সী এ বিস্ময় বালক সম্পূর্ণ নিজের একক প্রচেষ্টায় রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য ৩০ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ করেছেন । এ টাকা তিনি জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা সংক্রান্ত শাখা ‘বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি’ নামক সংস্থাকে দিয়েছেন। আর এ সংস্থাটি রোহিঙ্গাদের সার্বিক সহায়তায় কাজ করছে।

জাতিসংঘের  এ সংস্থাটি  সাদাকাত ওমরকে নিয়ে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি প্রামাণ্য চিত্র তাদের পেইজে প্রকাশ করেছে।

এদিকে সাদাকাত ওমরের এমন মহতী উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকে তার এ মহৎ কাজের জন্য তাকে তরুণদের আইডল বলে প্রশংসায় ভাসাচ্ছেন। তার এ উদ্যোগ তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে অনেকে বলছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাদাকাতকে নিয়ে Salma Akhter Mission লিখেছেন, So proud of you Sadaqat baba! Wish your continuous effort in humanitarian activities to be successful and meaningful for making a better Bangladesh and World. Love and Doa always.

Mohsin Haider ফেসবুকে লিখেছেন, আমরা গর্বিত । আশা করি আগামী দিনে ও তুমি মানব কল্যাণে নিয়োজিত থাকবে এবং সাফল্যতা অর্জন করবে। অনেক অনেক শুভেচ্ছা, আন্তরিক ভালবাসা ও দোয়া রইলো।

Anwar Islam লিখেছেন, তার এমন মহতী, জন হিতৈষী কাজের জন্য প্রথমে সালাম জানাই তার গর্বিত বাবা-মাকে। এমন কাজে তার মত সকলের এগিয়ে আসা উচিৎ। আল্লাহ ছেলেটির সর্বাঙ্গীক মঙ্গল করুন।

রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার বিষয়ে সাদাকাত বলেছেন, বাংলাদেশ এক মিলিয়ন শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমি এ কাজের জন্য বেশ গর্বিত। অন্য কোথাও জন্মগ্রহণ করলে আমার ক্ষেত্রেও এটি ঘটতে পারতো।রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত গড়তে সহায়তায় এ টাকা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশি এ বিস্ময় বালক বলেন, “আমি যদি না হই, তবে কে? এখন যদি না হয়, তবে কখন?”

জানা যায়, রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য স্থানীয় এবং বহুজাতিক আন্তর্জাতিক কর্পোরেশনগুলোতে চিঠি লিখেছিলেন সাদাকাত ওমর। আর এভাবে তিনি ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যবস্থা করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী বা উদ্বাস্তু বলতে মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থী বা উদ্বাস্তুদের বুঝানো হয়ে থাকে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের হিসেব অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট ২০১৭ সালে মায়ানমারের সামরিক বাহিনীর দ্বারা শুরু হওয়া গণহত্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রায় ৬ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ৭ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বিগত তিন দশক ধরে মায়ানমার সরকারের সহিংস নির্যাতন থেকে ৩ লাখ এর অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে অবস্থান করছে। এ মুহূর্তে কক্সবাজারে সব মিলিয়ে অন্তত ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

এডুকেশন বাংলা/ এমআর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর