বৃহস্পতিবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ১০:০৮ এএম

Sonargaon University Dhaka Bangladesh
University of Global Village (UGV)

রোভারিংএ দেশ সেরা আশিক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৪১, ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  

মো. আশিকুর রহমান রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট রোভার স্কাউট দলের একজন সদস্য। রোভারিং করার সুবাদে যোগ দিয়েছেন ইউনিট, জেলা, আঞ্চলিক, জাতীয় পর্যায়ের ত্রিশটিরও বেশি ক্যাম্পে। এসব ক্যাম্পে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা, স্যানিটেশন ও ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ক্যাম্পেইন করেন আশিক। এজন্য অন্য দশজনের চেয়েও তিনি অনন্য।

আর তাই কাজের প্রতি প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি আশিককে এনে দিয়েছে সফলতা। রোভারিংয়ের রঙে সাজিয়েছেন নিজেকে। সংগঠনের নিয়মতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে সুশৃঙ্খল জীবন গড়েছেন। অন্যদেরও এর ছায়া দিতে উৎসাহিত করছেন। তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। স্থানীয় বা জাতীয়- দু’টো পর্যায়েই। এ কাজের মিলছে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও।

গাইবান্ধা জেলা সদরের বোয়ালী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম মধ্যফলিয়াতে জন্ম আশিকের। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা হলেও পড়াশোনা চলছে রংপুরে। তিনি রংপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করেছেন। এখন পড়ছেন বিএসসি।

রোভারিং শুরুর গল্প তুলে ধরে আশিক বলেন, ‘বাবার অনুপ্রেরণায় ২০০৬ সালে স্কুল জীবনে গাইবান্ধা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে শুরু করি স্কাউটিং। এরপর ২০১২ সালে কলেজের রোভার স্কাউট গ্রুপ থেকে রোভারিং শুরু করি। আমার প্রথম জাতীয় ক্যাম্প ‘৮ম জাতীয় স্কাউট জাম্বুরী’র অভিজ্ঞতা অসাধারণ ছিল। ইউনিট পর্যায়ে করেছিলাম ২৫তম তাঁবু বাস ও প্রথম কমডেকা। যা কখনোই ভুলতে পারবো না।’

কীভাবে শ্রেষ্ঠ রোভারের যোগ্যতা অর্জন করলেন? আর কী কী পুরস্কার মিলেছে রোভারিং করে? জানতে চাইলে আশিক বলেন, ‘শ্রেষ্ঠ রোভার হওয়ার জন্য কিছুই করিনি। রোভার হিসেবে যা করেছি, তা-ই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। আর রোভারিং করে সবচেয়ে বড় পুরস্কার পেয়েছি অনেকের ভালোবাসা। তারপরও ইউনিট, উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ রোভার এবং রোভার অঞ্চলের ‘ইনোভেটিভ অ্যাওয়ার্ড’ উল্লেখযোগ্য।’

নিজের অর্জন সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ করে রোভারদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন আশিক। তিনি বলেন, ‘রোভারিং ভালো কাজ করার মুক্ত প্লাটফর্ম। এখানে কাজ করে বন্ধুত্ব আর সবার ভালোবাসায় পরিতৃপ্তি মেলে। আজকের এ অবস্থানে আসতে পেরে খুবই আনন্দিত আমি। রোভারিংয়ের নিয়ম মোতাবেক যথাযথ দায়িত্ব পালন আমাকে পথ দেখিয়েছে। রোভারিং করে কী পেলাম, কী পেলাম না- তা না ভেবে পড়াশোনার পাশাপাশি রোভার কার্যক্রম যথাযথ বাস্তবায়ন করলে সফলতা আসবেই। তবে ক্যাম্প-কোর্সের পেছনে পড়ে না থেকে রোভার কার্যক্রমকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

রোভারিংকে বুকে নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও স্বপ্ন নিয়ে আশিক বলেন, ‘রোভারিংয়ের সাথে থেকে নিজের ও সমাজের উন্নয়নের চেষ্টা করবো। সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে যেন ‘রাষ্ট্রপতি রোভার স্কাউট (পিআরএস) অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করতে পারি। এর জন্য আগামী বছর মূল্যায়নে অংশগ্রহণ করবো। ইনশাআল্লাহ।’

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর