বৃহস্পতিবার ২৫ এপ্রিল, ২০১৯ ২৩:৪২ পিএম


রাস্তা পারাপারে অসতর্ক বড় শিক্ষার্থীরাও!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:৫২, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ০৮:৫৩, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

হাতে বই-খাতা, পরনে সাদা অ্যাপ্রন। সড়কে চলছে ব্যস্ত যানবাহন। সিগন্যালের অপেক্ষা না করেই রাস্তার অপর প্রান্ত থেকে হুটহাট একেকজন শিক্ষার্থী দৌড়ে এ গাড়ি-ও গাড়ির ফাঁক গলে পার হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের দেখা যায় এভাবেই রাস্তা পার হতে।

শুধু একটি-দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, প্রধান ও ব্যস্ত সব সড়কের পাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের এভাবেই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে দেখা যায় অহরহ। অথচ নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মাধ্যমে এমন শিক্ষার্থীরা বদলে দিয়েছিল রাজধানীর চিত্র। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে তাদের তৎপরতা প্রশংসা পেয়েছে সর্বমহলে। কিন্তু কয়েক মাস যেতেই উল্টো আচরণ দৃশ্যমান। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন ও এলোমেলো রাস্তা পারাপারে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দেখা যাচ্ছে এখন অগ্রভাগে। অনিয়মের ফাঁদে পা দিচ্ছে তারা নিজেরাই। সচেতনতা তৈরির নানা উদ্যোগের প্রতিফলন মিলছে না সড়কে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা গেল একদল শিক্ষার্থী রাস্তা পার হচ্ছে এলোমেলোভাবে। একটু দূরে জেব্রা ক্রসিং ও ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেলেও কমসংখ্যক শিক্ষার্থীর সেদিকে নজর। গণভবনের বিপরীত দিকের রাস্তায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাসসহ যানবাহন থামিয়ে রাস্তা পার হতে দেখা গেল আরো কয়েকজনকে। তাদেরই একজন সাদমান শফিককে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে জবাব দিল, ‘আংকেল, ভুল হয়ে গেছে। সামনে কলেজ গেট দিয়ে রাস্তা পার হতে গেলে বেশি সময় লাগে। বিপরীত পাশে গাড়ি ধরতেই দ্রুত রাস্তা পারাপার। অন্যরা যাচ্ছিল, তাই পার হয়ে এসেছি।’

বনানী ফুটওভার ব্রিজের আগে দৌড়ে রাস্তা পার হতে দেখা গেল কয়েকজন ইউনিফর্ম পরা কিশোরকে। তাদের সঙ্গে রাস্তা পার হচ্ছিল একদল পথচারী। অথচ সেখানে অত্যাধুনিক ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্য জানালেন, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের জন্য নানা রকম প্রচারণা চালানো হয়। এখানে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে অনেকবার। তার পরও মানুষ রাস্তা পার হয় ইচ্ছামতো। এ ক্ষেত্রে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের বেশি দেখা যায় নিয়মভঙ্গে। অথচ চেয়ারম্যানবাড়ি, আমতলী এলাকার গার্মেন্টকর্মীরা দল বেঁধে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তা নিয়ে রাস্তা পার হয়ে থাকে বেশির ভাগ সময়।

গত কয়েক দিন স্কুল শুরু ও ছুটির সময় বিভিন্ন স্কুলের সামনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে আতঙ্কজনক দৃশ্য। সড়কে বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীরাও রাস্তা পারাপারে চরম বিশৃঙ্খল আচরণ করছে। নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করছে তারাও। ধীরগতিতে চলা যানবাহনের ফাঁকফোকর গলে তারা পার হচ্ছে রাস্তা। সব স্কুলের সামনে ওভারপাস বা জেব্রা ক্রসিং না থাকলেও রাস্তা পার হতে নির্ধারিত কিছু জায়গা রয়েছে। সেখান দিয়ে অনেকেই হাত উঁচু করে গাড়ি থামার সংকেত দিয়ে পারাপার হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা পার হয় ইচ্ছামাফিক। ধানমণ্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ হাই স্কুল, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়সহ কয়েকটি স্থানে এ রকম দৃশ্য দেখা গেছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, ‘স্কুল-কলেজের সামনে ট্রাফিক পুলিশ থাকলে কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা থাকে। কিন্তু তা না হলে ছুটির সময় বা ক্লাস শুরুর আগে শিক্ষার্থীরা থাকে অস্থির। তারা কোনো কিছুর তোয়াক্কা করতে চায় না। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে তখন কয়েক দিন নিয়ম মানে। তাদের সচেতন করতে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, রোভার স্কাউট ও গার্লস গাইডের সদস্যদের কাজে লাগানো উচিত।’

গত বছরের ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় নিহত হয় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী দিয়া খানম মিম ও আবদুল করিম রাজীব। এর পরদিন থেকে রাজধানীতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে নিরাপদ সড়কের দাবি তোলে। কয়েক দিন সড়ক পরিস্থিতি ভালো থাকলেও রাস্তা পারাপারে নৈরাজ্য রয়ে গেছে আগের মতোই।

সৌজন্যে:কালের কন্ঠ

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর