শনিবার ২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ৭:৩৭ এএম


রাশেদ খান মেননের আসনে পুনঃনির্বাচন চাইলেন এনসিবি’র চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:০৪, ২৭ অক্টোবর ২০১৯  

রাশেদ খান মেননের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে ঢাকা ০৮ আসনের পুনঃনির্বাচন দাবি করেছেন এন.ডি.এফ জোট মনোনিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ¦ন্দী প্রার্থী ন্যাশনাল কংগ্রেস বাংলাদেশ (এনসিবি)’র চেয়ারম্যান ছাবের আহাম্মদ (কাজী ছাব্বীর)। এনসিবি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ১৯ শে অক্টোবর, শনিবার, বরিশাল নগরের টাউন হলে ওয়াকার্স পার্টির সম্মেলনে উপস্থিত জনতা এবং সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ্যে রাশেদ খান মেনন এম,পি অত্যন্ত জোরালো ভাবে বলেছেন “গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমিও নির্বাচিত হয়েছি, তারপরেও আমি সাক্ষী দিয়ে বলছি ওই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেন নাই। উন্নয়ন মানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ নয়, উন্নয়ন মানে গণতন্ত্রের স্পেস কমিয়ে দেওয়া নয়। আমার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে আসে নাই।” পরবর্তীতে চ্যানেল আই এর টু-দ্যা পয়েন্ট অনুষ্ঠানে এক স্বাক্ষাৎকারে তার ওই বক্তব্য মুখ ফসকে বেরিয়ে গেছে বলে তিনি স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। যাহা বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ফলাও ভাবে প্রচারিত হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিভিন্ন মিডিয়ায় হবুহু তার বক্তব্যের ভিডিও রেকর্ডসহ খবর প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়েছে। দেশ-বিদেশে সবাই দেখেছে।

ইহা প্রমাণের জন্য আর কোন তদন্তের প্রয়োজন নেই। তার এই বক্তব্য ও স্বাক্ষীদানের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত এমপি নন। সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার বিধান নাই। ওই আসনে ভোটারবিহীন নির্বাচনের বিষয়টি তিনি স্বেচ্ছায় সুস্পষ্টভাবে স্বীকার করেন। রাশেদ খান মেননের স্বপ্রণোদিত বক্তব্য ও স¦াক্ষীর আলোকে তিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় ইহা অকাট্যভাবে প্রমানীত হওয়ায় তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।

বিগত সংসদ নির্বাচনে আম প্রতীকের জয় জয়কার ছিল। কাজী ছাব্বীর নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের কাছে এগিয়ে ছিলেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে কাজী ছাব্বীরের আম প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত ছিল বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে এনসিবি’র চেয়ারম্যান আরো বলেন যে, তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পরাজয়ের ভয়ে রাশেদ খান মেনন তার ক্যাডার বাহিনী দ¦ারা আম প্রতীকের এজেন্টদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছিলেন। আম প্রতীকের কোন এজেন্ট দিতে দেয়নি। আম প্রতীকের ভোটারদেরকে ভোট কেন্দ্রে ডুকতে না দেওয়ায় ভোট কেন্দ্রগুলি ছিল জনশূন্য। যাহা রাশেদ খান মেননের বক্তব্যে সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে।

তাই কালক্ষেপণ না করে রাশেদ খান মেননের সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণা ও ঢাকা-০৮ আসনে পুনরায় নির্বাচন দিয়ে সংবিধানের আলোকে জনগনের প্রত্যাশিত প্রতিনিধি নির্বাচনের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের প্রতি সংবাদ সম্মেলনে আহবান জানিয়েছেন ন্যাশনাল কংগ্রেস বাংলাদেশ (এনসিবি)’র চেয়ারম্যান। পাশাপাশি অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা থেকে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তাই দেশবাসীর আস্থা অর্জন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাশেদ খান মেনন কে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবিও জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মোঃ ইউসুফ আলী চৌধুরী, মাহফুজা আক্তার (বীণা), ডক্টর সুভাস পাল, ইঞ্জিঃ আনোয়ার পারভেজ, অতিরিক্ত মহাসচিব অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব জি.এস.এম সেলিম রেজা সহ প্রায় শতাধিক নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এডুকেশন বাংলা/একে

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর