সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১২:৫৭ পিএম


রাবির সমাবর্তনে ভুলে ভরা সার্টিফিকেট প্রদান

মাহমুদুল হাসান, রাবি

প্রকাশিত: ১৫:৩০, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একাদশ সমাবর্তনে দেয়া সার্টিফিকেটে গ্র্যাজুয়েটের নাম, হলের নাম ও বিভাগের নামসহ বিভিন্ন ভুল রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্র্যাজুয়েটরা। গত ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সমাবর্তনে গ্র্যাজুয়েটদের ভুলে ভরা এ সার্টিফিকেট প্রদান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গ্র্যাজুয়েটরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের গ্র্যাজুয়েট বিপুল কুমার শীল এডুকেশন বাংলাকে বলেন, স্নাতকের ফলাফল ‘সিজিপিএ’ তে ও স্নাতকোত্তরের ফলাফল ‘জিপিএ’ তে হিসেব করা হয়। কিন্তু তার স্নাতকোত্তরের মূল সনদপত্রে লেখা হয়েছে ‘সিজিপিএ’। বিভাগের সকল গ্র্যাজুয়েটের এই ভুল হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া তার হলের নাম ‘শহীদ সোহরাওয়ার্দী’ কিন্তু সনদপত্রে দেয়া হয়েছে ‘হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী’। ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের গ্র্যাজুয়েট শিহাবুল ইসলাম সৈকত জানান, তার মূল সনদপত্রেও ‘জিপিএ’ এর স্থলে ‘সিজিপিএ’ লেখা হয়েছে।

আরবি বিভাগের সানাউল হক এডুকেশন বাংলাকে বলেন, ইংরেজি অক্ষরে তার নামের বানান ‘Sanaul Hoque’। তবে বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তনে দেয়া ম‚ল সনদপত্রে ‘Hoque’ এর স্থলে ‘Howue’লেখা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, বিভাগের নামেও ভুল রয়েছে বলে অভিযোগ করেন ফিন্যান্স বিভাগের এক গ্র্যাজুয়েট। তিনি জানান, ‘ফিন্যান্স বিভাগ’ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন তিনি। কিন্তু সমাবর্তনে দেয়া সনদপত্রে বিভাগের নাম দেয়া হয়েছে ‘ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং’।

ফলিত গণিত বিভাগের এক গ্র্যাজুয়েট ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি ২০১৬ সালে এমএসসি পাশ করেন। পরবর্তী বছরে মানোন্নয়ন পরীক্ষায় ফলাফল পরিবর্তন হলেও সমাবর্তনে তাকে আগের ফলাফলের সনদপত্র দেয়া হয়েছে।

ভুলে ভরা এ সার্টিফিকেটকে দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ। তিনি এডুকেশন বাংলাকে বলেন, এবারের সমাবর্তনে দেয়া সার্টিফিকেটে ভুলের পরিমাণ-ই বেশি। সমাবর্তনের আসল কাজইতো সনদপত্র বিতরণ। আর এই সনদপত্রে ভুল থাকা ‘দায়িত্বহীনতা’র পরিচয় দেয়। যেখানে গ্রাজুয়েটদেরকে সম্মান দেয়ার কথা, সেখানে তারা উল্টো ভোগান্তিতে পড়ছেন। এছাড়া গ্র্যাজুয়েটরা অনেক আশা নিয়ে সমাবর্তনে আসে অথচ তাদেরকে ছেঁড়া গাউন ও টুপি প্রদান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. বাবুল ইসলাম এডুকেশন বাংলাকে বলেন, ভুলগুলো আমরা সংশোধন করে দিচ্ছি এবং সেটার জন্য কোনো ফি নেয়া হচ্ছে না। ইতোমধ্যেই অনেকে সনদপত্র সংশোধন করে নিয়েছেন। আসলে কম্পিউটার অপারেটরের একটু ভুলের কারণে ফলাফলে ‘জিপিএ’এর স্থলে ‘সিজিপিএ’ ছাপা হয়েছে। বিভাগের নাম ভুল হয়েছে একটি। সেটি রেজিস্ট্রেশনের সময় ভুল করেছে গ্র্যাজুয়েট।

এডুকেশন বাংলা/ এমএইচ/ কেআর

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর