সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২০ ১৩:৫২ পিএম


রাবিতে ‘অকৃতকার্য’ শিক্ষার্থীদের ভর্তি!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৪২, ১৩ মার্চ ২০২০  

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ‘অকৃতকার্য’ ৪৩ জন শিক্ষার্থীকে পোষ্য কোটায় ভর্তির সুযোগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একে ‘অনিয়ম’ ও ‘ক্ষমতার অপপ্রয়োগ’ উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা।

ছাত্রনেতারা বলছেন, উন্নয়নের নামে লুটপাট, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে কর্মকর্তাদের মুখ বন্ধ রাখতে অকৃতকার্যদের ভর্তি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২১ ও ২২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষায় ন্যূনতম পাস নম্বর ছিল ৪০। কিন্তু ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটায় পাস নম্বর কমিয়ে ন্যূনতম ৩০ নম্বর প্রাপ্তদের অনলাইনে ভর্তির জন্য বিভাগ পছন্দক্রম করতে বলা হয়।

পোষ্য কোটায় বিভিন্ন বিভাগে ‘অকৃতকার্য’ ৪৩ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। উল্লেখ্য, পোষ্য কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য বিভাগপ্রতি পাঁচ শতাংশ অতিরিক্ত আসন বরাদ্দ আছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, পোষ্য কোটার আসন খালি দেখে তারা পাস নম্বর শিথিল করেছেন। ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়েছে। জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা বলছেন, ভর্তি পরীক্ষায় ৫০-৬০ নম্বর পেয়েও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারছেন না। অথচ ভিসি তার একক ক্ষমতাবলে ‘অকৃতকার্য’ শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দিয়েছেন।

যারা ন্যূনতম পাস নম্বর ৪০ অর্জন করতে পারে না; বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য তাদের কোনো যোগ্যতা নেই।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, পোষ্য কোটায় অভ্যন্তরীণ কিছু চাপ থাকে। সবাই নিজেদের সন্তানদের ভর্তি করাতে চেষ্টা করেন। প্রশাসনের দায়িত্ব সে চাপ সামলানো। ভর্তির জন্য যে ন্যূনতম পাস নম্বর আছে সে অনুযায়ী ভর্তি করাতে হবে। কেউ সেই নম্বরটুকুও না পেলে তাদের কেন এ বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে? কেনই বা পাস নম্বর ৪০ থেকে ৩০-এ আনা হবে? এটি ক্ষমতার অপব্যবহার।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ইলিয়াস হোসেন বলেন, এটা একেবারেই অনুচিত। কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য এমন কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করছে। একজন শিক্ষার্থী ৫০-৬০ পেয়েও ভর্তির সুযোগ পাবে না আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানরা ৪০ নম্বরের কম পেয়ে ভর্তি হবেন, সেটি নীতিগতভাবে ঠিক নয়। এ সুবিধা তো আদিবাসী, প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায়ও দেয়া হচ্ছে না। তাহলে তাদের বেলায় কেন দেয়া হচ্ছে?

ছাত্রলীগের রাবি শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানোর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। ন্যূনতম পাস নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো উচিত।

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের আহ্বায়ক রিদম শাহরিয়ার বলেন, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছে। যেখানে পাস করেও অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারছেন না, সেখানে ফেল করেও ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সন্তানরা।


এডুকেশন বাংলা/এজেড

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর