বৃহস্পতিবার ২০ জুন, ২০১৯ ১৫:০৬ পিএম


রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রমে স্থবিরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৩৯, ৯ জানুয়ারি ২০১৯  

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, সচিব তরুণ কুমার ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল আমিন প্রামাণিক অফিশিয়াল কাজের কথা বলে প্রায় ১৫ দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বিশেষ করে চেয়ারম্যান ঢাকায় থাকায় শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন ফাইলের স্তূপ জমেছে। তিন কর্মকর্তা একযোগে ঢাকায় থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে বোর্ডের সার্বিক কার্যক্রম।

একদিকে দৈনিক হাজিরাভিত্তিক (অস্থায়ী) চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের আন্দোলন, অন্যদিকে প্রায় ১৫ দিন ধরে অফিস করছেন না চেয়ারম্যান ও সচিব। এ অবস্থায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ ফেলে যেন আয়েশে দিন পার করছেন। শিক্ষা বোর্ডে বিভিন্ন কাজে এসেও ঘুরে যেতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের। এ নিয়ে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে নানা কাজে আসা বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের মাঝে।

সোমবারের মতো গতকাল মঙ্গলবারও সকাল ১১টা থেকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে দৈনিক হাজিরাভিত্তিক (অস্থায়ী) কর্মচারীরা তাঁদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তাঁদের চাকরি স্থায়ীকরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কালো ব্যাচ ধারণসহ পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবেন। তাঁরা ২০-২২ বছর ধরে অস্থায়ী কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন। এতে তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাঁরা এ থেকে পরিত্রাণ চান। তাঁদের অস্থায়ী চাকরি অনতিবিলম্বে স্থায়ীকরণের দাবি জানান।

কর্মসূচিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের দৈনিক হাজিরাভিত্তিক (অস্থায়ী) কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মুকুল শেখ, সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম শাহীন, আল-মামুনসহ অনেকেই বক্তব্য দেন। কর্মচারীরা জানান, রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের ৬২ জন অস্থায়ী কর্মচারী রয়েছেন। তাঁরা দিনের পর দিন একইভাবে চাকরি করে যাচ্ছেন।

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা জানান, কর্মচারীরা তাঁদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে লাগাতার কর্মসূচি পালন করছেন। এ কারণে অধিকাংশ অস্থায়ী কর্মচারী অফিসে কোনো কাজ করছেন না।

রাজশাহীর দুর্গাপুরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, বিদ্যালয়ের জরুরি একটি কাজে কয়েক দিন ধরে তিনি ঘুরছেন। কিন্তু শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ তিন কর্মকর্তা না থাকায় প্রতিদিনই তাঁকে ঘুরে যেতে হচ্ছে।

পাবনা থেকে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এসেছিলেন আকবর হোসেন নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, তাঁর কিছু সনদ হারিয়ে গেছে। সেগুলো নতুন করে উত্তোলনের জন্য ঘুরছেন তিনি। বোর্ডের কর্মকর্তারা না থাকায় কর্মচারীরাও কোনো কাজ করছেন না। ফলে কয়েক দিন ধরে তিনি এসে ঘুরে যাচ্ছেন।

জানতে চাইলে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জরুরি অফিশিয়াল কাজে আমি ঢাকায় আছি। তবে শিক্ষা বোর্ডের কাজ স্থবির হওয়ার কথা নয়। ঢাকা থেকে ফিরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রসঙ্গত, বোর্ডের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকার অনিয়মের তদন্ত চলছে। সূত্র জানায়, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে এবং নিজেকে রক্ষা করতে চেয়ারম্যান নিয়মিত অফিস করছেন না। প্রায় মাসখানেক ধরে তিনি নিয়মিত অফিসে আসেন না।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর