বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯ ৯:৫২ এএম


রাজশাহী পলিটেকনিকে ‘টর্চার সেলের’ সন্ধান

রাজশাহী প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২০:১৬, ৪ নভেম্বর ২০১৯  

ক্যাম্পাসের পুকুরের পশ্চিম পাশের একটি ভবনের ১১১৯ নম্বর কক্ষে টর্চার সেলের সন্ধান

ক্যাম্পাসের পুকুরের পশ্চিম পাশের একটি ভবনের ১১১৯ নম্বর কক্ষে টর্চার সেলের সন্ধান

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের একটি টর্চার সেলের সন্ধান পেয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে তুলে নিয়ে গিয়ে পুকুরের ফেলে দেওয়ার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটি।

ওই কমিটির আহ্বায়ক কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব ও পরিচালাক (পিআইডব্লিউ) এসএম ফেরদৌস আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, রোববার (৩ নভেম্বর) বিকালে তিনিসহ কমিটির সদস্যরা রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পৌঁছে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাস্থলের সিসি টিভির ফুটেজ দেখেন। পরে ছাত্রলীগের টর্চার সেলের সন্ধান পান তারা। তবে তদন্ত শুরু হওয়ার তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানান তিনি।

তদন্ত কমিটি জানায়, ক্যাম্পাসের পুকুরের পশ্চিম পাশের একটি ভবনের ১১১৯ নম্বর কক্ষে টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেখানে লোহার রড, পাত ও পাইপ মিলেছে। সেগুলো উদ্ধার করে পুলিশের হেফাজতে দেয়া হয়েছে।

টর্চার সেলের নিয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ফেরদৌস আলম বলেন, ওই কক্ষটি জোর করে নিয়ে ছাত্রলীগের ছেলেরা ব্যবহার করত। সেখানে বসে তারা বিভিন্ন সময় আড্ডা বা মিটিং করত। তবে শুনেছি তারা ওই কক্ষটি টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করত। তবে এ নিয়ে কেউ কোনদিন তার কাছে অভিযোগ দেয়নি। ছাত্রলীগের ছেলেদের বিরুদ্ধে শিক্ষক বা ছাত্র সবাই অভিযোগ দিতে ভয় পায়।

এর আগে কারিগরী শিক্ষা অধিদপ্তর এসএম ফেরদৌস আলমকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘোষণা করে। ওই কমিটিতে অন্য সদস্যরা হলেন- কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কারিকুলাম) মো. নূরুল ইসলামকে সদস্য এবং রাজশাহী মহিলা পলিকেনিটক ইনিস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওমর ফারুক।

এদিকে এ ঘটনায় রোববার রাতে আরো তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- মেহেদী হাসান আশিক, মেহেদী হাসান হিরা ও নবিউল উৎস। এ নিয়ে এ মামলায় আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগরীর চন্দ্রিমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ গোলাম মোস্তফা।

উল্লেখ্য, মিডটার্মে ফেল এবং ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের সদ্য বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন সৌরভকে ফাইনাল পরীক্ষায় অংশের সুযোগ দিতে অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিনের চাপ দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে শনিবার কার্যালয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে দুপুরে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার পর টেনেহিঁচড়ে ক্যাম্পাসের ভেতরের একটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়া হয়।

এ নিয়ে রাতে মামলা করেন অধ্যক্ষ। এতে সাতজনের নাম উল্লেখসহ ৫৭ জনকে আসামি করা হয়। পরে রাতেই পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। আর ঘটনা তদন্তে কারিগরি শিক্ষা অধিদফতর থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রোববার থেকেই তারা তদন্ত শুরু করেছেন। বিকালে তারা ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একটি টর্চার সেলের সন্ধান পান। সোমবার সকালেও তদন্ত কমিটির সদস্যরা ক্যাম্পাসে ছিলেন।

এদিকে ঘটনার জন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি মূল অভিযুক্ত কামাল হোসেন সৌরভকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে। রোববার রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এডুকেশন/কেআর

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর