রবিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ২১:৪০ পিএম


যৌনতার বিনিময়ে ভালো রেজাল্ট, ভর্তি

এডুকেশন বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫০, ৭ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২০:৫৫, ৭ অক্টোবর ২০১৯

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির সমস্যা সারা বিশ্বেই কম-বেশি রয়েছে। বছর খানেক ধরে `বিবিসি আফ্রিকা আই` পশ্চিম আফ্রিকায় এই সমস্যা নিয়ে অনুসন্ধান করছে। তারা কয়েকজন ছাত্রীর সাথে কথা বলেছে যারা এই হয়রানির শিকার হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী যৌন হয়রানি থেকে বাঁচতে বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়েছে।

পশ্চিম আফ্রিকার দুটো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে - ইউনিভার্সিটি অব লেগোস এবং ইউনিভার্সিটি অব গানা - যারা যৌন হয়রানি করেন তাদের কাছে ছাত্রীর ছদ্মবেশে রিপোর্টার পাঠানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একছাত্রী বলেন, আমি উচ্ছল সুখী একটি মেয়ে ছিলাম। সুন্দর একটা জীবন পারি করছিলাম। ১৯ বছর বয়সে নাইজেরিয়ার সবচেয়ে নাম করা একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। কিন্তু যা ভাবছিলাম বিষয়টি তেমন ছিল না। একজন শিক্ষক পরীক্ষায় ভালো নম্বরের বদলে শারীরিক সম্পর্ক দাবি করলে তা প্রত্যাখান করি আমি। এমন অবস্থার শিকার হবো আমি কখনো ভাবতে পারিনি। আমি মাথা ঠান্ডা করলাম, কিছুই করলাম না। কিন্তু এই হয়রানির জন্য বাধ্য হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে হলো।

পশ্চিম আফ্রিকা জুড়ে অনেক নারী শিক্ষার্থীকে এমনই পরিণতি ভোগ করতে হয়।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন হয়রানি অনেকদিনের সমস্যা। এক বছরের বেশি সময় ধরে বিবিসি আফ্রিকা এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে। ইউনিভার্সিটি অব লেগোস বা ইউনিল্যাগের অনেক শিক্ষার্থীরা সাথে কথা হলে একটি নাম বার বার এসেছে। যীশুর নামে ড. বনিফেস ইগবেনেগু ফরাসী ভাষার একজন সিনিয়র লেকচারার এবং একই সাথে তিনি একজন যাজক। তার সাথে কথা বলে ছদ্মবেশে একজন সাংবাদিক পাঠানো হয়।

ওই সাংবাদিক ১৭ বছরের একজন শিক্ষার্থী সেজে ইউনিল্যাগে ভর্তির জন্য যায়। যে বয়সে কারো সাথে যৌস সম্পর্ক নিষিদ্ধ। তুমি কি জানো তুমি কত সুন্দর একটি মেয়ে। কয়েকদফা সাক্ষাতের সময় ওই শিক্ষক বার বার তার সাথে এ ধরনের অশোভন কথা বলেছে। তুমি কি জানো আমার বয়স পঞ্চাশের কোঠায়? তুমি অবাক হবে যে এই বয়সে এখনও আমি, বুঝলে? আমি যদি তোমার মত ১৭ বছরের একটি মেয়েকে চাই। আমাকে তার সাথে শুধু মিষ্টি করে কথা বলতে হয় এবং তার সাথে কিছু পয়সা রাখলেই আমি তাকে পাই।

ড. বনিফেস ইউনিল্যাগে তাকে ভর্তি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যদি সে তার পরীক্ষায় পাস করে আমি তোমাকে ভর্তি করিয়ে দেবো। আমি কি সত্য বলছেন? আমি একজন অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর।

ইউনিল্যাগের সিনিয়র স্টাফ ক্লাবে কীধরনের হয়রানি হয় তা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন তিনি। স্টাফ ক্লাবের ওপরে একটি জায়গা রয়েছে যেখানে শিক্ষকরা মেয়েদের নিয়ে যান এবং তাদের চুমু খান। আহ রোমান্স করেন। তারা তাদের কি করতে নিয়ে যান? চুমু খান,তাদের বুকে হাত দেন,শরীরের সব জায়গায় হাত দেন। তারা এটিকে ‘কোল্ড রুম’ বলে বিবেচনা করেন। পরে সেখানে গিয়ে গোপনে ছবি তোলেন ছদ্মবেশে থাকা সাংবাদিকরা।।বেশ কজন সিনিয়র শিক্ষক সেখানে পান সাংবাদিকরা। যারা মেয়েদের সাথে নাচছেন, সাংবাদিকদের বলা হয় ওই মেয়েরা ইউনিল্যাগের ছাত্রী জন্মদিনের উৎসব করছেন।


একই সময়ে ইউনিভার্সিটি অব গানার ক্যাম্পাসে প্রফেসর র‌্যান্সফোর্ড জ্যাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে একজন রিপোর্টার পাঠানো হয়। তিনি একজন রাষ্টবিজ্ঞানী এবং সুপরিচিত বিশ্লেষক। ওই শিক্ষক তার মেন্টর হতে রাজি হন। কয়েক সপ্তাহ পর, অধ্যাপক জ্যাম্পো এক রোববার বিকেলে তাকে ফোন করে বাসায় আসতে বলেন। কিন্তু বাসার বদলে একটি মার্কেটে দেখা করতে অধ্যাপককে রাজি করাতে সমর্থ হয়।

সাক্ষাতের পুরো সময়টা ওই শিক্ষক বার বার বার অশোভন কথা বলতে থাকেন। তোমাকে কি কখনো জোর করে চুমু খাওয়া হয়েছে। আমি কি কখনো জবরদস্তি চুম্বনের শিকার হয়েছি? তিনি তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। তোমার মাকে ফোন করে বলো যে স্কুল শেষ হওয়ার পর একজন আমাকে বিয়ে করতে চায়। ওই শিক্ষক তখন বলেন, তিনি তাকে চুমু খেতে চান।

তবে যৌন হয়রানি করার কথা জোরালোভাবে অস্বীকার করেন তিনি। রিপোর্টার বা যেকোনো ছাত্রীকে সম্মান করেন বলে তিনি জানান। তাদের ভালো-মন্দ বেচনা করেন, স্নেহ করেন। তিনি বলেন তাকে ফাসানো হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব গানা বলেছে, যে অভিযোগ উঠেছে অধ্যাপক জ্যাম্পোর বিরুদ্ধে তা খুবই গুরুতর। যৌন হয়রানি মোকাবেলায় তাদের কড়া বিধিনিষেধ রয়েছে।

ইউনিল্যাগ বলেছে ড. বনিফেসের আচরণের সাথে তারা কোনো সম্পর্ক রাখবে না। যৌন হয়রানির ব্যাপারে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। তথাকথিত কোল্ড রুম নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করেনি। সূত্র : বিবিসি বাংলা

এডুকেশন বাংলা/এসআই

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর