শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২০ ৩:১৭ এএম


যে স্কুলের শিক্ষার্থী শুধু পুতুল!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৮:২৬, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯  

দুর্গম গ্রাম নাগোরোতে শেষ শিশুটির জন্ম হয়েছিল ১৮ বছর আগে। মাঝ দিয়ে নদী বয়ে যাওয়া জাপানের শিকোকু দ্বীপের এ গ্রামটিতে এখন দুই ডজনের চেয়ে সামান্য বেশি পূর্ণবয়স্কের বাস। শেষ দুই শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেণি পাস করার পর ২০১২ সালে গ্রামটির প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরজাও বন্ধ হয়ে যায়। তবে সম্প্রতি শরতের এক উজ্জ্বল দিনে সুকিমি আয়োনো স্কুলটিতে শিশুদের ফিরিয়ে এনেছেন। না, মানুষ নিয়ে নয়; পুতুল দিয়ে।

৭০ বছর বয়সী এ বৃদ্ধা চল্লিশটিরও হাতে তৈরি পুতুল বন্ধ স্কুলটির মাঠে সাজিয়ে রেখেছেন। দৌড় প্রতিযোগিতা, দোলনা আর বল ছোড়া খেলার মাধ্যমে ফিরিয়ে এনেছেন জাপানি ক্যালেন্ডারে থাকা স্কুল স্পোর্টস ডে, ‘উনদোকাই’।

আয়ানো বলেন, ‘আমরা এখানে আর শিশু দেখি না। আমি চাইতাম, অনেক বেশি শিশু থাকলে এটা আরো আনন্দদায়ী হতো, যে কারণে আমি শিশুদের (পুতুল) তৈরি করেছি।’

জাপানের জনসংখ্যা দিন দিন কমে আসছে ও অবশিষ্টরা বুড়িয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতির ধাক্কা এখন এমনকি দুর্গম এলাকাগুলোতেও টের পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে নিম্ন জন্মহার উৎসাহিত হচ্ছে কর্মসংস্থানের অভাব এবং সমস্যাসংকুল জীবনযাপনের কারণে।

আয়ানোর ভাষ্য, ‘তরুণদের জন্য এখানে কোনো সুযোগ নেই। তারা এখানে বাঁচতে পারবে না। নাগোরোতে একসময় হাসপাতাল, পাচিনকো গ্যাম্বলিং পার্লার ও খাওয়ার দোকান ছিল। কিন্তু এখন একটিও নেই।

আয়ানো ও তার বন্ধুরা এখানে ৩৫০-এর বেশি পুতুল বানিয়েছেন, যা এখানকার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ গুণ। কাঠ আর তারের কাঠোমো দিয়ে বানানো, খবরের কাগজ ও জাপানের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া পুরনো কাপড় দিয়ে বানানো এ পুতুলগুলো নাগারোর বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শিত হচ্ছে।

আয়ানো এখন মাঝেমধ্যে কাছের শহরগুলোতে কিংবা গ্রামের পুরনো নার্সারি স্কুলে বানানো তার স্টুডিও দেখতে আসা লোকজনকে পুতুল বানানোর প্রশিক্ষণ দেন। স্পোর্টস ফেস্টিভালের কাছাকাছি শহরের বেশ কিছু শিশু তাদের দাদা-দাদির হাত ধরে ‘উনকোদাই’ দেখতে আসে। শিশুদের সংখ্যা বেশি না থাকায় বৃদ্ধ অনেকেই সে খেলায় যোগ দেন।

এঁদেরই একজন হিরোয়ুকি ইয়ামামোতো। পাহাড়ের নিচে একটি সদনে বসবাস করা ৮২ বছর বয়সী এ ব্যক্তি একটি পুতুলের গালে হাত দিয়ে পুলক অনুভব করছেন। তিনি বলেন, ‘সে খুবই সুন্দর। আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাই।’

এসেছেন ৬৭ বছর বয়সী কায়াকো মোতোকাওয়া, যার নিজেরই পুতুলের মতো দেখতে একটি নাতি আছে। নাগোরো যে এখন মানুষের বদলে পুতুলের জন্য বিখ্যাত হতে চলেছে, তাতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এ বৃদ্ধা। পুতুলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে মোতোকাওয়া বলেন, ‘যদি এরা মানুষ হতো, তাহলে এটি সত্যিকারের সুখী স্থান হতো।’ সূত্র : বিডিনিউজ।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর