বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৫:২৩ পিএম


যে কোনো বয়সে পলিটেকনিকে ভর্তির সুফল মেলেনি!

নিজামুল হক

প্রকাশিত: ১০:২৩, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০  

পলিটেকনিকে ভর্তির হার বাড়াতে যে কোনো বয়সে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন মহলের আপত্তির মুখে এমন বাড়তি সুযোগ দেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা যায়নি। বরং প্রথম ধাপে গতবারের চেয়ে এবার কম শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করেছেন।

সর্বোচ্চ পাঁচ বছর আগের এসএসসি পাশ শিক্ষার্থীদের ভর্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিভিন্ন পলিটেকনিক কলেজের অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্টরা। সে বিবেচনায় ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এসএসসি উত্তীর্ণদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে পলিটেকনিকে ভর্তির সুযোগ রেখে প্রস্তাবনা তৈরি করেছিল কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। কিন্তু বোর্ডের এই প্রস্তাবনা আমলে না নিয়ে বয়সের বারই তুলে দেওয়া হয়। এর ফলে ৭০ বছরের বৃদ্ধের জন্যও চার বছরের পলিটেকনিকে পড়াশোনার দ্বার উন্মুক্ত হয়। আর এতেই তীব্র আপত্তি ছিল কারিগরি সেক্টরের সব মহলের। ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করে। কিন্তু মন্ত্রণালয় ঐ সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে থাকে। বয়সের সীমাবদ্ধতার বার তুলে নীতিমালাও জারি করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তে নিয়মিত শিক্ষার্থীরা কারিগরিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। অন্যদিকে বয়স্ক শিক্ষার্থীও খুব একটা বাড়ছে না। ফলে নীতিমালার এই পরিবর্তনে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমবে। বাস্তব চিত্রও এমন।

সূত্র জানিয়েছে, গত বছর পলিটেকনিক কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য ৮৯ হাজার শিক্ষার্থী আবেদন করেছিল। কিন্তু এবার প্রথম ধাপে আবেদন পড়েছে ৮৮ হাজার, যা গতবারের চেয়ে ১ হাজার কম। আর নীতিমালা পরিবর্তনের মাধ্যমে বয়সের বার তুলে দেওয়া ‘বেশি বয়সের’ শিক্ষার্থী পেয়েছে মাত্র ৯৮০ জন। এরা ২০১৫ বা এর আগের এসএসসি উত্তীর্ণ। একজন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন যিনি ১৯৯৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।

এছাড়া বরাবরের মতো নারী কোটাও পূরণ হয়নি। পলিটেকনিকে ২০ শতাংশ নারী কোটা রয়েছে। এবার মোট আবেদনকারী ৮৮ হাজার হলেও নারী আবেদন করেছে ১০ হাজারেরও কম। ৪৯ হাজার ৬০০ আসনে নারী কোটা পূরণ করতে হলে সব শিক্ষার্থীকে ভর্তি করতে হবে। নারীদের জন্য চারটি বিশেষায়িত পলিটেকনিক রয়েছে। যেখানে ১ হাজার আসন রয়েছে। এই আসনই পূরণ হয় না। অন্য পলিটেকনিকে নারী কোটা পূরণ না হওয়ায় ঐ কোটা পুরুষ আবেদনকারীর মধ্য থেকে পূরণ করতে হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারিগরি শিক্ষায় সরকারের বিনিয়োগ বাড়ছে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার বাড়াতে পারছে না কারিগরি শিক্ষা বিভাগ।

টেকনিক্যাল এডুকেশন কনসোর্টিয়াম অব বাংলাদেশের (টেকবিডি) সভাপতি প্রকৌশলী আবদুল আজিজ বলেন, পলিটেকনিকে ভর্তি বাড়াতে হলে প্রথমেই চার বছরের কোর্স দুই বছর করতে হবে। আর এটা এইচএসসি সমমান করতে হবে যেন চাইলে যে কোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে। অথবা তাদের জন্য চার বছর কোর্স ঠিক রেখে দুই বছরের গ্র্যাজুয়েশন রাখা যায়। কিংবা স্নাতক মর্যাদাসহ পাঁচ বছরের কোর্স করতে হবে। তাহলে ভর্তি বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, বেশি বয়সিরা এলে পরিবেশ আগের মতো নষ্ট হবে। হোস্টেল দখল, নির্যাতন, রাজনীতি ইত্যাদি বেড়ে যাবে। এমন সমস্যার কারণেই বয়সের বাধা তৈরি করা হয়েছিল। ।

বয়সের বার তুলে দেওয়ার পরও শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়েনি কেন—এমন বিষয়ে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোরাদ হোসেন মোল্লা বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করার সময় এখনো হয়নি। এখনো দ্বিতীয় তৃতীয় ধাপে ভর্তির সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ভর্তি আরা বৃদ্ধির সুযোগ আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর