মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ৭:২৬ এএম


যে কারণে সরকারি চাকরি আইন নিয়ে বিতর্ক

মো. ফিরোজ মিয়া

প্রকাশিত: ০৮:৪৪, ২ অক্টোবর ২০১৯  

সরকারি চাকরি আইন রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর ১৪ নভেম্বর গেজেটে প্রকাশ করা হলেও ধারা ২-এর উপধারা (৫)-এর বিধান অনুযায়ী কার্যকরের গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় আইনটি কার্যকর হচ্ছিল না।

আইনটি প্রকাশের পরপরই আইনটিতে কতিপয় ভুল ও বিতর্কিত বিধান থাকায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়। যার কারণে কার্যকরের গেজেট প্রকাশে বিলম্ব ঘটে। এ বিলম্বের কারণে স্বাভাবিকভাবেই ধারণা জন্মেছিল, আইনটিতে যেসব ভুল ও বিতর্কিত বিষয় রয়েছে, তা সংশোধন করে বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে আইনটি কার্যকর করা হবে।

কারণ অনেক সময় অনেক ভালো ও প্রশংসনীয় উদ্যোগও কিছু কিছু ভুল বা বিতর্কিত বিষয়ের কারণে সমালোচিত হয়, প্রশংসার পরিবর্তে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি করে এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আমলাদের স্বচ্ছতা ও দক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সংবাদমাধ্যমে যতদূর জানা যায়, আইনটি গেজেটে প্রকাশের পর এর ভুলভ্রান্তি ও বিতর্কিত বিষয় সম্পর্কে সমালোচনার ঝড় উঠলে আইনটি পর্যালোচনার জন্য ওয়ার্কিং গ্রুপ করা হয়। এতে জনমনে আশা জেগেছিল আইনটির ভুলভ্রান্তি ও বিতর্কিত ধারা সংশোধন করে আইনটি কার্যকরের গেজেট প্রকাশ করা হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটল এর উল্টো। আইনটির ভুলভ্রান্তি ও বিতর্কিত বিষয় সম্পর্কে জনমনে যেসব প্রশ্ন জেগেছিল, তার সমাধান না করে অর্থাৎ ওইসব ভুলভ্রান্তি ও বিতর্কিত বিষয় রেখেই প্রায় এগারো মাস পর আইনটি কার্যকরের গেজেট প্রকাশ করা হল।

ভুলভ্রান্তি ও বিতর্কিত বিষয় সংশোধন না করে তড়িঘড়ি ১ অক্টোবর থেকে আইনটি কার্যকর করায় জনমনে এরূপ ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে, বর্তমানে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সবচেয়ে আলোচিত টেন্ডার জালিয়াতি, বালিশ-কাণ্ড, পর্দা-কাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্নীতিতে জড়িত সরকারি কর্মচারীদের গ্রেফতারের হাত থেকে রক্ষা করাই এর উদ্দেশ্য।

আইনটির যেসব ভুল ও বিতর্কিত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এর সবই কি অমূলক! আমি আইনজ্ঞ নই, আইন বিশারদও নই। সমালোচনার উদ্দেশ্যে নয়, সরকারি চাকরি আইনটি যাতে সত্যিকার প্রয়োগযোগ্য একটি ভালো আইনে পরিণত হতে পারে, সে উদ্দেশ্যেই আমার এ লেখা। সাদা চোখে যা ধরা পড়েছে এবং আইন বিষয়ে তেমন জ্ঞান না থাকায় যেসব বিষয় ভুল ও বিতর্কিত মনে হয়েছে, তা তুলে ধরা হল। আশা করি, আইনটি প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞ ব্যক্তিগণ এসব যাচাই করে দেখবেন।

আইনের ৪৮ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে- ‘কোনো কর্মচারীর অবসর গ্রহণের পর তাহাকে, ধারা ৫১-এর বিধান অনুসরণ ব্যতীত, প্রজাতন্ত্রের বা রাষ্ট্রের অন্য কোনো কর্তৃপক্ষে কোনো উপায়ে পুনরায় নিয়োগ করা যাইবে না।’

আইনের ৫১ ধারাটি হল ‘অবসর সুবিধা স্থগিত, প্রত্যাহার ইত্যাদি’ সংক্রান্ত। অর্থাৎ ৪৮ ধারায় ৪৯ ধারার পরিবর্তে ৫১ ধারার উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে, যা ভুল। এ ভুল সাদা চোখে ধরা পড়ার কথা। এরকম ভুল রেখে আইনটির কার্যকরতা দেয়ায় ১ অক্টোবর থেকে এ আইনের আওতাভুক্ত কোনো সরকারি কর্মচারীকে অবসর গ্রহণের পর ৪৯ ধারার অধীন সরকারি চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা হলে ওই নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে বা আইনগত জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

আইনের ৪৮ ধারায় অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীকে প্রজাতন্ত্রের কর্ম বা রাষ্ট্রের অন্য কোনো কর্তৃপক্ষে পুনর্নিয়োগে নিষেধাজ্ঞার উল্লেখ করা হয়েছে, অথচ ৪৯ ধারায় শুধু সরকারি চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের উল্লেখ করা হয়েছে। আইনে সরকারি চাকরির কোনো সংজ্ঞা না থাকায় এবং দুটি ধারায় পরস্পরের সহিত সঙ্গতিপূর্ণ চাকরির উল্লেখ না করে ভিন্নরূপ চাকরির উল্লেখ করায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের এ আইনের আওতাবহির্ভূত কোনো প্রজাতন্ত্রের কর্মে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে আইনগত জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

আইনের ৫০ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকারি কর্মচারীর অবসরে গমন বা অন্য কোনো উপায়ে চাকরির পরিসমাপ্তির ক্ষেত্রে সুবিধাদির প্রাপ্যতা, শর্তাদি ও অন্যান্য বিষয়, এই আইনের বিধানাবলি এবং ধারা ১৭-এর অধীন জারিকৃত আদেশসাপেক্ষে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।’

আইনের ১৭ নম্বর ধারাটি প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত। ৫০ ধারার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধারা হল ১৫নং ধারা। অর্থাৎ ১৫নং ধারার পরিবর্তে ১৭নং ধারার ভুল উদ্ধৃতি দেয়া হয়েছে, যা সাদা চোখে ধরা পড়ার কথা। এ ভুলটিও সংশোধন না করে আইনটির কার্যকরতা দেয়ায় অবসর সুবিধাদি সংক্রান্ত কোনো সরকারি আদেশ জারি ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনগত জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে।

আইনের নবম অধ্যায়ে সরকারি সেবা প্রদান নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত বিধান সংযোজনের ফলে এ আইনের আওতাধীন কর্মচারীদের সেবা প্রদানে স্বচ্ছতা আসবে এবং জনগণের সরকারি সেবা প্রাপ্তিতে ভোগান্তি অনেকাংশে হ্রাস পাবে। কিন্তু বিধিবদ্ধ সংস্থার কর্মচারীসহ এ আইনবহির্ভূত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য না হওয়ায়, তাদের কাছ থেকে সেবা প্রাপ্তিতে জনগণ আগের মতোই হয়রানির শিকার হবে।

আইনের সবচেয়ে বিতর্কিত ও সমালোচিত বিধান হল একাদশ অধ্যায়ের সরকারি কর্মচারীর ফৌজদারি অপরাধ সংক্রান্ত ৪১ ও ৪২ ধারার বিধান। আইনের ৪১ ধারার বিধানমতে, কোনো সরকারি কর্মচারীর দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে দায়েরকৃত ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার পূর্বে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সরকার বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে।

নির্ভয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য সরকারি কর্মচারীদের অবশ্যই সুরক্ষা প্রয়োজন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ নম্বর ধারায় সরকারি কর্মচারীদের সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধান রয়েছে। উক্ত ধারামতে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো অপরাধ করার অভিযোগ থাকলে উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো আদালত সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া অভিযোগ আমলে নিতে পারে না। ফৌজদারি কার্যবিধিতে সুরক্ষা সংক্রান্ত এরূপ বিধান থাকা সত্ত্বেও এ আইনে গ্রেফতারের হাত থেকে রক্ষার জন্য পৃথক বিধান সংযোজন করায় জনমনে প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক।

ধারাটি সংযোজনের ফলে জনমনে কী বার্তা পৌঁছবে, জনগণের সরকারি কর্মচারীদের প্রতি কিরূপ ধারণা জন্মাবে তা হয়তো ভেবে দেখা হয়নি। কোনো কর্মচারী যদি অনৈতিক সুবিধা বা অনৈতিকভাবে আর্থিক লাভবান হয়ে কোনো কাজ করে অথবা দায়িত্ব পালনের সুযোগে কোনো নারীর অমর্যাদাসহ ফৌজদারি অপরাধ করে বা দণ্ড বিধিতে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক যেসব অপরাধ সংঘটনের জন্য শাস্তির বিধান আছে, ওইসব অপরাধ করে, তাহলেও কি গ্রেফতারের এ সুরক্ষাপ্রাচীর ওই কর্মচারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে? অবশ্যই না।

তবে অপপ্রয়োগ বা অপব্যাখ্যা হবে এবং এর সুবিধা অপরাধী সরকারি কর্মচারীরা নেবে। আধুনিক বিশ্বের অন্যান্য দেশের সরকারি কর্মচারী আইনে কর্মচারীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেওয়ানি দায় থেকে সুরক্ষা দেয়া হয়েছে, কিন্তু ফৌজদারি দায় থেকে সুরক্ষা দেয়া হয়েছে বলে জানা নেই।

ফৌজদারি কার্যবিধির ওই ধারায় অভিযোগ আমলে নেয়ার ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের সুরক্ষা দেয়া হলেও আমলযোগ্য অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়া হয়নি। তাই গ্রেফতারের হাত থেকে সরকারি কর্মচারীদের রক্ষার উদ্দেশ্যেই সম্ভবত এ আইনে এরূপ বিধান সংযোজন করা হয়েছে। বিধানটি সংযোজনের ফলে দুর্নীতিবাজ কর্মচারীদের সুরক্ষা দেয়ার জন্য তা করা হয়েছে বলে জনমনে ধারণার সৃষ্টি হয়েছে। জনমনের এরূপ ধারণা কি সম্পূর্ণ অমূলক?

মনে হয় না, কারণ ঘুষ নেয়া, দুর্নীতি করা, রোগী দেখতে গিয়ে নারীর শ্লীলতাহানি, দরপত্রে জালিয়াতি, ইত্যাদি ধরনের ফৌজদারি অপরাধ সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধ হিসেবে গণ্য না হলেও বালিশ-কাণ্ড বা পর্দা-কাণ্ড বা দরপত্র দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মচারীরা এ ধারার অপব্যাখ্যা করে বা অপপ্রয়োগ করে গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করবে, অনেক ক্ষেত্রে হয়তো সফলও হবে এবং অনৈতিক প্রভাব বিস্তারসহ দুর্নীতির আলামত বিনষ্টের সুযোগ পাবে।

সরকারি দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত অপরাধের নজির খুব একটা নেই এবং এ ধরনের অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারের নজিরও তেমন নেই।

সাধারণত সরকারি দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক আসামি ধরার ক্ষেত্রে বা সরকারি কর্মচারী কর্তৃক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে যদি কোনো বাড়াবাড়ি ঘটে, তাহলে এ ধরনের অভিযোগে মামলা হতে পারে। ফৌজদারি আইনের ১৯৭ ধারা এবং এ আইনের আলোচ্য ধারাটিও ঘুষ গ্রহণকারী বা দুর্নীতিবাজ বা কোনো ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তকে সুরক্ষা দেয় না। কিন্তু তা সত্ত্বেও ধারাটি সংযোজনের মাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টির আদৌ প্রয়োজন ছিল কি না, তা পর্যালোচনা করে দেখা প্রয়োজন।

এ ছাড়া ধারাটির অপপ্রয়োগ বা অপব্যাখ্যা রোধে যদি দণ্ডবিধিতে যেরূপ অপরাধের ঘটনার উদাহরণ দেয়া আছে, সেরূপ উদাহরণ সংযোজন করা হতো, তাহলে হয়তো এত বিতর্কেরও সৃষ্টি হতো না এবং অপপ্রয়োগ বা অপব্যাখারও সুযোগ থাকত না।

আইনের ৪২ ধারার বিধান বলে দুর্নীতিসহ নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত ব্যক্তিকে চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। অথচ রহিতকৃত পাবলিক সার্ভেন্ট ডিসমিসাল অন কনভিকশন অর্ডিন্যান্স, ১৯৮৫-তে এরূপ সুযোগ ছিল না।

রহিতকৃত অধ্যাদেশ অনুযায়ী কোনো কর্মচারী কোনো ফৌজদারি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা এক বছরের বেশি কারাদণ্ড বা দশ হাজার টাকার অধিক জরিমানা দণ্ডের বিধানসংবলিত অপরাধে যে কোনো মেয়াদে দণ্ডিত হলেই তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত হতেন।

যেমন: চুরির শাস্তি সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড। এ ক্ষেত্রে কোনো কর্মচারী চুরির অপরাধে একদিনের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও চাকরি থেকে বরখাস্ত হতেন। এ ক্ষেত্রে অপরাধটি কী ধরনের তা বিবেচনা করা হয়েছে, প্রকৃত দণ্ডের মেয়াদ বিবেচনা করা হয়নি।

কারণ নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিকে চাকরিতে বহাল রাখা আদৌ সমীচীন মনে না হওয়ার কারণেই এ ধরনের বিধান সন্নিবেশিত করা হয়েছিল। অথচ সরকারি চাকরি আইনে এ বিধানটিকে অযৌক্তিকভাবে নমনীয় করা হয়েছে।

সরকারি চাকরি আইনের ৪২ ধারার বিধান অনুযায়ী কোনো কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় আদালত কর্তৃক শুধু মৃত্যুদণ্ড বা এক বছর মেয়াদের অধিক মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেই চাকরি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত হবেন।

কিন্তু অনূর্ধ্ব এক বছর মেয়াদের কারাদণ্ডে বা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হলে লঘুদণ্ড আরোপ করে ওই কর্মচারীকে চাকরিতে বহাল রাখা যাবে। যেমন: চুরির অপরাধে বা দুর্নীতির অপরাধে বা নৈতিক স্খলনজনিত অন্য কোনো অপরাধে কোনো কর্মচারীর এক বছর মেয়াদের কারাদণ্ড হলে বা যে কোনো পরিমাণ জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত হলেও তিনি চাকরিতে বহাল থাকবেন। এ ক্ষেত্রে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়নি। যা সুশাসনের সহায়ক বিধান নয়।

পত্রিকার সংবাদে জানা যায়, ইদানীং উচ্চ আদালত দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত এক ব্যক্তির কারাদণ্ডের আদেশ বাতিল করলেও পঞ্চাশ লাখ টাকা জরিমানা দণ্ডের আদেশ বহাল রেখেছেন। কোনো কর্মচারীকে আদালত এরূপ জরিমানা দণ্ডে দণ্ডিত করলে এ আইনের বিধানের কারণে ওই কর্মচারী চাকরিতে বহাল থাকতে পারবেন।

আদালত দণ্ড প্রদানের সময় শুধু অপরাধের গুরুত্বই বিবেচনা করে না, সে সঙ্গে ব্যক্তিটি নারী কী পুরুষ, ব্যক্তির বয়স, স্বাস্থ্যগত অবস্থাসহ পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে দণ্ডের মেয়াদ বা মাত্রা নির্ধারণ করে। এ ক্ষেত্রে আদালত দুর্নীতির অপরাধে এক বছরের দণ্ড বা শুধু জরিমানা দণ্ড আরোপ করলে তিনি কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত না হয়ে চাকরিতে বহাল থাকবেন এবং দণ্ড ভোগ শেষে বীরদর্পে চাকরিতে যোগদান করবেন। অর্থাৎ এ আইনে আদালত কর্তৃক দুর্নীতির বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির চাকরিতে বহাল থাকার সুযোগ রয়েছে, যা রহিতকৃত ডিসমিসাল অন কনভিকশন আইনে ছিল না। এ আইনের অধীন দুর্নীতি বা নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিকে চাকরিতে বহাল রাখার সুযোগ সৃষ্টি করায়, তা দুর্নীতি প্রতিরোধের সহায়ক ভূমিকা পালন না করে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেবে। এটা নিশ্চয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির সহায়ক নয়।

মো. ফিরোজ মিয়া : অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব, চাকরি ও আইন সংক্রান্ত গ্রন্থের লেখক

 


এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর