মঙ্গলবার ০২ জুন, ২০২০ ১৭:০৬ পিএম


যে কারণে সরকারি চাকরিতেই তরুণদের আগ্রহ বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৩৮, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১১:৩৮, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯

২০১৫ সালে সরকারি বেতনকাঠামো পুনর্গঠনের পর প্রতিটি গ্রেডে বেতন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আর অবসর ভাতাও অনেক বেড়েছে। চাকরির নিরাপত্তা তো আছেই। উল্টো দিকে কথিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সমান তালে বেসরকারি খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হয়নি। বাড়তে থাকা শিক্ষিত তরুণদের জন্য সেখানে যথেষ্ট চাকরি নেই।

বিআইজিডির নির্বাহী পরিচালক ইমরান মতিন ব্র্যাকের যুব-জরিপটির ফলাফল ধরে বলেন, তরুণদের বড় অংশ বয়সসীমা না পেরোনো পর্যন্ত সরকারি চাকরির চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হলে তবেই তাঁরা বেসরকারি চাকরি খোঁজেন। অন্যদিকে, দক্ষ ও শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের বড় অংশ সরকারি চাকরিতে চলে যাওয়ায় বেসরকারি চাকরির চাহিদামতো ছেলেমেয়েদের জোগান থাকছে না।

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ, পদ সীমিত। বেসরকারি খাতেও সুযোগ কম। শিক্ষিত বেকারই বেশি।

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) হিসাব বলছে, ২০০৮ সালে ২৮তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল সোয়া লাখের কিছু কম। ২০১৭ সালে ৩৮তম বিসিএসের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা হয় প্রায় সাড়ে তিন লাখ। ৩৯তম বিসিএসটি ছিল শুধু স্বাস্থ্য ক্যাডারের জন্য।

গত বছর ৪০তম বিসিএসে আবেদনকারীর সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে রেকর্ড গড়ে। বিজ্ঞাপিত পদের সংখ্যা ছিল দুই হাজারের কাছাকাছি। পদপ্রতি পরীক্ষা দেন ২১৬ জন। প্রথম শ্রেণির এই কর্মকর্তারা সরকারি বেতনকাঠামোর নবম থেকে প্রথম গ্রেড অনুসারে বেতন পান। শুরুর ধাপে মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাসহ বেতন দাঁড়ায় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। কর্মস্থলভেদে ভাতায় কিছু বেশি–কম হতে পারে।

বিপিএসসির চেয়ারম্যান মোহম্মাদ আবু সাদিক বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান পরিচালিত নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ব্যাপারে তরুণদের আস্থা বেড়েছে। এ ছাড়া বিসিএস পরীক্ষায় পদের অতিরিক্ত কেউ পাস করলে এবং যোগ্যতায় মিললে তাঁকে ক্যাডারবহির্ভূত চাকরি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

আর প্রতিষ্ঠানটির সাবেক সদস্য সমর চন্দ্র পাল মনে করেন, সরকারি চাকরির একধরনের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আছে। তরুণদের আগ্রহের সেটা একটা বড় কারণ।

সচরাচর বিসিএস, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খাদ্য অধিদপ্তর, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষায় বেশি আবেদন পড়ে। প্রথম আলো গত বছর এই ছয়টি ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপিত পদ ও আবেদনের পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেছে। মোট পদ ছিল সাড়ে ২৩ হাজারের বেশি। আর আবেদন জমা পড়েছিল প্রায় সাড়ে ৬০ লাখ।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর