রবিবার ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:০৩ এএম


যেভাবে সাইবার অপরাধে জড়াচ্ছে শিক্ষার্থীরা

শেখ জাহাঙ্গীর আলম

প্রকাশিত: ১১:১৫, ১২ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১১:১৬, ১২ জুলাই ২০১৯

সম্প্রতি রাজধানীর ধানমন্ডির একটি স্কুলের কয়েকজন ছাত্র গ্রুপ স্টাডির জন্য ফেসবুকে একটি পেজ খোলে। সেখানে স্কুলের একজন শিক্ষিকাকে নিয়ে আলোচনা হয় এবং তাকে ব্যঙ্গ করে একটি আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে তারা। এ নিয়ে ওই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝামেলা হয়। এর জেরে ভিডিওর বিষয়টি ভুক্তভোগী শিক্ষিকার নজরে আসে এবং আইনি পদক্ষেপ নেন তিনি। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করে ৩ শিক্ষার্থীকে আটক করে। তবে তাদের সবার বয়স ১৮ বছরের নিচে। মুচলেকা নিয়ে তাদের সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাকার শ্যামপুরের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতের (ছদ্দনাম) সঙ্গে পরিচয় হয় রায়হান উদ্দিন আহমেদের। একপর্যায়ে পরিচয় ভালোবাসায় গড়ায়। তারা নিজেদের অন্তরঙ্গ ছবি দেওয়া-নেওয়াও শুরু করে। কিছুদিন পর তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরে।

এতে ক্ষুব্ধ রায়হান ফেসবুকে একটি ফেক আইডি খুলে জান্নাতকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নিজেদের কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি দেখিয়ে ভাইরাল করার হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে বিকাশের মাধ্যমে কিছু টাকাও আদায় করে রায়হান। কিছুদিন পর আবার রায়হান তার দুই বন্ধুকে দিয়ে একই কাজ করায়। এসময় ভুক্তভোগীর বড় বোনকেও ছবি দেখিয়ে হুমকি দেয় তারা। পরে বাধ্য হয়ে তারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রায়হানসহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

এভাবে প্রতিনিয়ত সাইবার অপরাধীদের শিকার হচ্ছে শিশু-কিশোররা। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা নিজেদের অজান্তেই কৌতুহলের বশে জড়িয়ে পড়ছে সাইবার অপরাধে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে প্রায় ৪০০ শিশু-কিশোর সাইবার অপরাধের শিকার হয়। ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে পরিবারকে জানাতেও ভয় পায়।

সাইবার অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানান, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সামগ্রী সহজলভ্য হওয়ায় সব বয়সী শিশুরাই কমবেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। তবে তাদের অনেকেই নিজেকে সুরক্ষিত রেখে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে জানে না। অনলাইনে যৌন নির্যাতন বা যৌন শোষণ সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা নেই শিশুদের। ফলে অনেক সময় নিজের অজান্তেই কিছু ভুল হয়ে যায়। যেমন, অনলাইনে যৌনতা সম্পর্কিত বই পড়া, কাউকে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, আইডি হ্যাকিং করা, ভাইরাস ছড়ানো, ফাঁদে ফেলা, পর্নোগ্রাফি তৈরি করা ইত্যাদি। অনেক সময় পছন্দের বিষয় খুঁজতে গিয়ে নিষিদ্ধ সাইট সামনে চলে আসে। কৌতুহলবশত এসব নিষিদ্ধ সাইটে প্রবেশ করে শিশুরা। অনেকেই এগুলোতে আসক্ত হয়ে পড়ে।

তারা বলছেন, এছাড়া কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ও ট্যাব দিয়ে শিশুরা ইন্টারনেটে বিভিন্ন গেম খেলে থাকে। সেই সুযোগে শিশুদের টার্গেট করে সাইবার অপরাধীরা। সেখানে নানা প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে শিশুদের নির্যাতনও করা হচ্ছে।


এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর