শুক্রবার ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:৫২ এএম


যেভাবে নিয়োগ দেয়া হবে বিদেশ থেকে আসা শিক্ষকদের

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশিত: ১১:১৪, ২৬ আগস্ট ২০১৯  

দেশের স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিদেশ থেকে আসা শিক্ষকদের `চুক্তিভিত্তিক` নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত বাংলাদেশি অধ্যাপকরা অগ্রাধিকার পাবেন। অগ্রাধিকার দেওয়া হবে রোবটিক্স, এভিয়েশন ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো অত্যাধুনিক বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের। বিশেষ করে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বিষয়ে সিনিয়র শিক্ষকের ঘাটতি পূরণে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করা যাবে।

এসব বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অভিন্ন নীতিমালার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল রোববার বিকেলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ, অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিদেশ থেকে আসা শিক্ষক নিয়োগের বিধান যুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বলেন, `চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে আমাদের ভবিষ্যৎ জনবলকে প্রস্তুত করতে হবে। রোবটিক্সের মতো অনেক বিভাগ হয়তো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে সে বিষয়ে হয়তো বিশেষজ্ঞ পাওয়া যাবে না। এমন ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে বিশেষ করে আমাদের যেসব বিশেষজ্ঞ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন, তাদের কেউ যদি যোগ দিতে চান, তাহলে নিয়োগ করা যাবে তাদের। এ ক্ষেত্রে ইউজিসি থেকে অনুমোদন নিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। সাধারণত এমন নিয়োগগুলো চুক্তিভিত্তিক বা খণ্ডকালীন হতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বৈঠকে ইউজিসির পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত খসড়া নীতিমালা পেশ করা হয়। এরপর এর ওপর উপস্থিত সদস্যরা মতামত দেন। বৈঠকের এক সদস্য সমকালকে বলেন, প্রবেশ পদে শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাবিত শিক্ষাগত যোগ্যতা হুবহু রাখা হয়েছে। সহকারী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত পদোন্নতির ক্ষেত্রে চাকরিকাল, ফিডারকাল, গবেষণা ও প্রকাশনার সংখ্যা সামান্য হ্রাস-বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন ইউজিসি দ্রুততম সময়ের মধ্যে খসড়াটি পূর্ণাঙ্গ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পুনরায় দাখিল করবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, `আমরা আশা রাখছি, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করব। আর কোনো মিটিংয়ের প্রয়োজন হবে না।`

অতিরিক্ত সচিব আবদুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী বলেন, `ইউজিসি নীতিমালা দাখিল করলে সেটি মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন হতে পারে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে নীতিমালা জারি করা হবে।`

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই নীতিমালা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ছয় সদস্যের একটি কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, শিক্ষক সমিতি, ফেডারেশনসহ অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে নীতিমালার খসড়া তৈরি করে।

জানা গেছে, নীতিমালায় প্রভাষক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা হিসেবে সিজিপিএ-৩ দশমিক ৫ রাখার প্রস্তাব আছে। এ ছাড়া লিখিত পরীক্ষা এবং প্রদর্শনী ক্লাস (যে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সামনে প্রার্থী লেকচার দেবেন) নিতে হবে প্রার্থীদের। সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য নূ্যনতম ১০ বছরসহ মোট ২২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এর মধ্যে এমফিল প্রার্থীর ক্ষেত্রে থাকতে হবে সাত বছরসহ মোট ১৭ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় শিক্ষকতা। ছুটির সময়টা বাদ যাবে। পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্তদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাসহ নূ্যনতম ১২ বছর সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সহকারী থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে একজন শিক্ষককে কমপক্ষে সাত বছর ক্লাসরুম শিক্ষকতাসহ ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। নূ্যনতম ছয় বছরসহ নয় বছর সক্রিয় শিক্ষকতায় থাকতে হবে এমফিল ডিগ্রিধারী প্রার্থীর ক্ষেত্রে। পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে নূ্যনতম চার বছরসহ মোট সাত বছর শিক্ষকতা করতে হবে। সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেতে একজন শিক্ষককে নূ্যনতম তিন বছরের সক্রিয় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। থিসিসসহ এমফিল ডিগ্রিধারীদের জন্য দুই বছর এবং পিএইচডি ডিগ্রি থাকলে এক বছর। একইসঙ্গে অন্তত চারটি প্রকাশনা থাকতে হবে স্বীকৃত কোনো জার্নালে। খসড়ায় বিজ্ঞান, সামাজিক বিজ্ঞান, কলা, মানবিক, বিজনেস স্টাডিজ, চারুকলা ও আইন অনুষদভুক্ত বিষয়গুলোর জন্য প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক, সহকারী থেকে সহযোগী এবং সহযোগী থেকে অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য একটি অভিন্ন শর্তাবলি যোগ করা হয়েছে। একইভাবে ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিষয়, মেডিসিন ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা আলাদা শর্ত যুক্ত হয়েছে।

অধ্যাপকদের গ্রেড-৩ থেকে গ্রেড-২-তে উন্নীত হওয়ার জন্য অন্তত চার বছর চাকরি এবং স্বীকৃত কোনো জার্নালে বিষয়ভিত্তিক দুটি নতুন গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হতে হবে। একইভাবে দ্বিতীয় গ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের মোট চাকরিকাল অন্তত ২০ বছর এবং দ্বিতীয় গ্রেডের সর্বশেষ সীমায় পৌঁছানোর দুই বছর পর জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রথম গ্রেড দেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়েছে। তবে এ সংখ্যা মোট অধ্যাপকের ১৫ শতাংশের বেশি হবে না।

এডুকেশন বাংলা/এজেড

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর