শনিবার ২৪ আগস্ট, ২০১৯ ২২:১৮ পিএম


এনটিআরসিএ যাদেরকে সুপারিশ করবে তারাই নিয়োগ পাবে

রুহুল আমিন

প্রকাশিত: ১২:৩৪, ২ জুলাই ২০১৮   আপডেট: ১২:৩৬, ২ জুলাই ২০১৮

রায়ের ২নং এ বলা হয়েছে সকল সনদধারীদের নিয়ে যৌথ মেধা তালিকা করতে হবে। আর যৌথ মেধা তালিকা মানেই নিয়োগ নয়। তবে হ্যাঁ যৌথ মেধা তালিকা থেকে শূণ্য পদ সাপেক্ষে এনটিআরসিএ মেধা তালিকা অনুয়ায়ী নিয়োগের সুপারিশ করবে।কিন্তু যদি পদ পর্যাপ্ত শূণ্য না থাকে তাই রায়ের ৪নং শর্তে প্রতি বছর ঐ মেধা তালিকা থেকে নিয়োগ বাকি যেসব সনদধারী থাকবে তাদের মধ্যে আপডেট হবে।
এভাবে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের মেধা তালিকা প্রতি বছর আপডেট হতে থাকবে। আর সনদধারীদের জন্য কোন বয়স নির্ধারন হবেনা।

কারন, রায়ের ১নং শর্তে বলা হয়েছে নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সনদের মেয়াদ থাকবে। তবে বলা যায় রায়ের ৭ নং শর্ত অনুয়াযী যেহেতু কোর্ট বলেছে সরকারের উচিৎ শিক্ষক নিয়োগে প্রথম প্রবেশের ক্ষেত্রে একটি বয়স নির্ধারন করা।

এবার আসুন ২০১৮ সালের নীতিমালার কথা:

২০১৮ সালের নীতিমালা রায়ের ৭ নং শর্তে করা হয়েছে এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএকে পূর্ণ সুপারিশের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তারমানে এনটিআরসিএ যাদেরকে সুপারিশ করবে তারাই নিয়োগ পাবে এবং তাদের বয়স ৫০ বছর হলেও এমপিও পাবে।
এখন বলা যায় ৩৫ বছরের উপরে যারা আছে তাদেরকে এনটিআরসিএ সুপারিশ করবে কি?

অবশ্যই এনটিআরসিএ তাদেরকে সুপারিশ করতে বাধ্য। কারন একই নিয়মে দুই জায়গায় বয়স নির্ধারন হতে পারেনা। শিক্ষক নিয়োগের প্রথম প্রবেশ হল নিবন্ধন পরীক্ষা যারা দিবে তাদেরকে বুঝায়। আর যদি সনদধারীদের জন্য বয়স নির্ধারন হয় তবে যার বয়স ৩৪ বছর ১১ মাস ২৯ দিন হবে সেও কিন্তু সার্কুলারের তারিখ অনুযায়ী নিবন্ধন পরীক্ষার আবেদন করতে পারবে।

তবে তো পরীক্ষা দেওয়ার সময়ই তার ৩৫ বছর ওভার হয়ে যাবে। তাহলে কি তার পরীক্ষা নিবেনা? অবশ্যই নিবে। যেহেতু তাকে দিয়ে আবেদন করা হয়েছে। আর ঐ পরীক্ষা দিয়ে কি কোন ৩৫ বছরের পরীক্ষার্থীদের মেধা থাকলে পাস করানো হবেনা? অবশ্যই নিয়মের মধ্যে সে পাস করবে।

তাহলে ১৫ তম পরীক্ষায় পাস করতেই যার বয়স ৩৫ ওভার হবে তাকে কি নিয়োগ দিবেনা? তাহলে আর কেউ ৩০ বছর হলেও নিবন্ধন পরীক্ষা দিবেনা। কারন ১২ বছর আগে পরীক্ষা দিয়ে অনেক সনদধারী বসে আছে। আর ঐ ৩০ বছরের সনধারীর ৫ বছর অপেক্ষা করতে হবে কিনা তার নিশ্চয়তা কি?

অতএব, আমি বলব কোন সনদধারীর জন্য বয়স ৩৫ নয়। নিবন্ধন পরীক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেই বয়স ৩৫ নির্ধারন হবে।

রিটকারীরা রায়ের ৫ নং শর্তে নিয়োগ পাবে। কারন ২নং শর্তে বলেছে সকলের মেধা তালিকা করে ৪ নং শর্তে প্রতি বছর নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত যারা বাকি থাকবে শুধু তাদের তালিকা শূণ্য পদ সাপেক্ষে আপডেট হবে।

আমি আগে ও বলেছি রিটিকারী ও নন রিটকারী সবাই নিয়োগ পাবে। তবে শূণ্যপদ যত বেশি থাকবে তত তাড়াতাড়ি নিয়োগ পাবে।
আর হ্যাঁ ৫ নং শর্তে ও মেধা তালিকার কথা বলা আছে। এর কারন কোন সাবজেক্টে যদি রিটকারীর সংখ্যা পদ অনুযাঈ কম হয় তবে অন্যান্য প্রত্যাশিতদের থেকে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিবে।

আর যদি কোন সাবজেক্টে রিটকারীর চেয়ে কিছু পদ কম থাকে তবে রিটকারীদের মধ্যে মেধা অনুযায়ী প্রথম নাম্বারধারীদের আগে নিয়োগ হবে। তখন এখানে আর প্রত্যাশিরা আসবেনা। বাকি যে রিটকারী থাকবে তাদের নিয়োগ শেষ হলেই কেবল প্রত্যাশিতরা সুপারিশের তালিকায় আসবে।

কেউ বিচলিত হবেন না। ৫নং শর্তেই কেবল এনটিআরসিএকে প্রথম রিটকারীদের এবং পদ অনুযায়ী অন্যান আবেদনকারীদের সুপারিশের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মেধা তালিকায় থাকা মানে জব নয়। যাদেরকে এনটিআরসিএ সুপারিশ করবে তারাই নিয়োগ পাবে।

সুতরাং ৫ নং শর্তে রিটকারীদের আগে সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ এবং রিটকারীদের নিয়োগ শেষ হলেই কেবল ২নং শর্তে জাতীয় মেধা তালিকা থেকে মেধা এবং শূন্য পদ সাপেক্ষে সুপারিশ করবে। এই জিনিস সবাই মনযোগ দিলেই বুঝতে পারবেন মেধা তালিকা আর সুপারিশ আকাশ- পাতাল ব্যবধান। রায়ের আলোকেই সকল পিটিশনার প্রথম ধাপেই নিয়োগ পাবে। কারন শূণ্য পদ অনুযায়ী আশাকরি কোন সাবজেক্টে রিটকারী বেশি হবেনা।

আর নন রিটকারী সবাই ধৈর্য ধরুন। যদি ২০১৮ নীতিমালা কার্যকর হয় তবে সোয়া লাখ পদ তৈরি হবে এবং (১-১২) সকল নিবন্ধনধারীরী সবাই দ্রত নিয়োগ পাবে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর