রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২০ ২৩:১০ পিএম


যথাসময়ে প্রকাশিত হচ্ছে না এসএসসির ফল

শরীফুল আলম সুমন

প্রকাশিত: ০৮:৪৬, ২০ এপ্রিল ২০২০  

নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। করোনার প্রাদুর্ভাবের আগেই এসএসসি পরীক্ষা শেষ হলেও যথাসময়ে প্রকাশিত হচ্ছে না ফল। আর ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা থাকলেও তা নিয়েও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, এবার ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে এই পরীক্ষাসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এমনকি নতুন তারিখও ঘোষণা করতে পারছে না তারা। ফলে অনিশ্চয়তায় আছে প্রায় ১২ লাখ পরীক্ষার্থী। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বীয় এবং ৫ মার্চ ব্যাবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীর। শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে, এক যুগ ধরেই পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হয়। সেই হিসাবে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হওয়ার কথা; কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের কারণে সব কিছু বন্ধ থাকায় যথাসময়ে প্রকাশিত হচ্ছে না এসএসসির ফল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ থেকে সব কিছু বন্ধ হওয়ার পর মাঝপথে এসে নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নোত্তরের অপটিক্যাল মার্ক রিডার (ওএমআর) শিট দেখা স্থগিত করে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এ ছাড়া রচনামূলক উত্তরপত্র দেখায়ও সমন্বয় করতে পারছে না তারা। তবে নানা ধরনের প্রস্তুতি হিসেবে অভিভাবকদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করছে একাধিক বোর্ড; কিন্তু কবে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে তা বলতে পারছে না বোর্ডগুলো।

আন্ত শিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়া করে এসএসসির ফল প্রকাশের সুযোগ নেই। গত ২৬ মার্চ সব কিছু বন্ধ হওয়ার আগেই আমাদের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে আমরা নিয়মিত খোঁজ রাখছি। পরীক্ষকরা খাতা দেখে প্রধান পরীক্ষকদের কাছে জমা দিয়েছেন।’

অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘রচনামূলক অংশের দেড় কোটি ওএমআর আমাদের স্ক্যানিং করতে হবে, যার ৪০ লাখ এখনো বাকি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অর্থাৎ অফিস খুললে, যানবাহন চললে আগে আমাদের হাতে খাতা পৌঁছতে হবে। এরপর যদি ডাবল শিফটে কাজ করি তাতেও স্ক্যানিং শেষ করে নৈর্ব্যক্তিকের নম্বরের সঙ্গে নম্বর সমন্বয় করতে ১৫ দিন লাগবে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ১৫ দিন পর আমরা এসএসসির ফল প্রকাশ করতে পারব।’

জিয়াউল হক আরো বলেন, ‘এইচএসসির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। যেদিনই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেদিনই পরীক্ষার শুরু করার সুযোগ নেই। সেখানেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ১৫ দিন সময় হাতে রেখে রুটিন প্রকাশ করা হবে।’

করোনার প্রাদুর্ভাব রোধ করতে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কয়েক দফা বাড়িয়ে তা এখন ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ঠেকেছে। তবে মার্চ মাসের শেষের দিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর সিটি পরীক্ষার সূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এপ্রিলের শুরুতেই প্রথম সাময়িক পরীক্ষা হওয়ার কথা; কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সিটি এবং প্রথম সাময়িক পরীক্ষা অলিখিতভাবে স্থগিত করতে হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ এপ্রিলের পর যেহেতু শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে রোজা ও ঈদের ছুটি রয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ঈদ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে। এরপর চিন্তা ছিল ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার; কিন্তু দেশে যেভাবে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে ঈদের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ১৫-২০ দিন অবস্থা পর্যবেক্ষণ না করে অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠাবেন না। ফলে ঈদের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর