রবিবার ১৮ আগস্ট, ২০১৯ ৪:৩০ এএম


ময়মনসিংহে পীরের কাছে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রাণ গেল কলেজছাত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮:০৪, ২ জুন ২০১৯  

দীর্ঘদিন হৃদরোগে ভুগছিলেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার তানিয়া আক্তার (১৮)। তাকে নিয়মিত চিকিৎসকও দেখানো হচ্ছিল। কিন্তু নান্দাইল উপজেলার কথিত পীর মো. লিয়াকত আলী খানের নির্দেশে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের নির্দেশনা বাদ দেওয়া হয়। এরপর ওই পীরের নির্দেশে তানিয়াকে পানিপড়া ও দরবারে হাজির হয়ে লাঠির টোকা গ্রহণের মতো অভিনব চিকিৎসা গ্রহণ করতে হতো।

কিন্তু পীরের ফুঁ দেওয়া পানি নিয়মিত পান করার পরও নিজের জীবন বাঁচাতে পারেননি তানিয়া। গত শুক্রবার দুপুরে নান্দাইলের কথিত ওই পীরের দরবারে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তার মৃত্যু হয়। তবে তানিয়ার মৃত্যুটিকে নিয়তির বিধান ধরে নিয়ে পরিবারের লোকজন লাশ বাড়িতে নিয়ে দাফনও করেছেন।


তানিয়া গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের বড়বাড়ি গ্রামের মো. বাচ্চু মিয়ার মেয়ে। তিনি গৌরীপুর সরকারি মহিলা কলেজের প্রথম বর্ষে পড়তেন।

জানা যায়, কথিত ওই পীরের ডেরাটি নান্দাইল উপজেলার মুশুলি ইউনিয়নের তারঘাট বাজারের পাশে অবস্থিত। ওই ডেরায় চিকিৎসার জন্য আসা রোগীদের লাঠিপেটা ও পীরের ফুঁ দেওয়া পানি পান করিয়ে চিকিৎসা করানো হয়। প্রতি শুক্রবারই পীরের ডেরায় দরবার বসানো হয়। প্রকাশ্যে এ ধরনের কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের কোনো তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, তানিয়ার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঝামেলা এড়াতে লাশকে তাড়াতাড়ি গোসল করানো হয়। এরপর তড়িঘড়ি জানাজা পড়িয়ে লাশ বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তানিয়ার চাচা মো. মহসিন আলী বলেন, ‘তানিয়া হৃদরোগে ভুগছিলেন। তাকে নিয়মিত চিকিৎসক দেখানো হচ্ছিল। কিন্তু প্রতিবেশীদের মাধ্যমে জানতে পারেন নান্দাইলের লিয়াকত পীরের কথা। এরপর থেকেই পরিবারের লোকজন তানিয়াকে নিয়ে প্রতি শুক্রবার পীরের দরবারে যেতেন।’

নিহতের স্বজনরা জানান, পীরের নির্দেশে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের নির্দেশনা বাদ দিয়ে তানিয়াকে পীরের পানিপড়া ও দরবারে হাজির হয়ে লাঠির টোকা গ্রহণের মতো চিকিৎসা নিতে হতো। কিন্তু এ ধরনের চিকিৎসায় তানিয়ার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। শুক্রবার সকালে পীরের ডেরার ভেতরে যাওয়ার পর তানিয়ার অবস্থার অবনতি ঘটলে দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে ঘটনা জানাজানির পর কথিত পীর লিয়াকত আলী খানকে তার দরবারে পাওয়া যায়নি। তবে হুজুর (পীর) দরবার শেষ করে কিশোরগঞ্জের বাসায় চলে গেছেন বলে জানান পীরের লোকজন।

এ বিষয়ে দরবারের প্রধান হুজুর গোলাম মো. মাহবুবুল আলম বলেন, হৃদরোগের সমস্যার কারণে তানিয়ার মৃত্যু হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এনামুল কবীর বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের চিকিৎসার কোনো ভিত্তি নেই। এটি প্রতারণার শামিল।

এডুকেশন বাংলা/একে

 

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর