মঙ্গলবার ২৩ জুলাই, ২০১৯ ১১:৪৩ এএম


মোবাইলে ‘এক কলরেট’ হচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:৫৪, ১৭ জুন ২০১৮  

দেশে দুই ধরনের কলরেট চালু আছে, অননেট ও অফনেট। অননেট (একই মোবাইল নেটওয়ার্ক) ও অফনেট (এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্কে) তুলে দিয়ে সরকার মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর জন্য ‘একটিই কলরেট’ চালু করতে যাচ্ছে। এমএনপি (মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি) সেবা চালুর আগেই এক কলরেট চালু হতে পারে।যার সুফল পাবে মোবাইলফোন ব্যবহারকারীরা।

মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের ভালো নেটওয়ার্ক ও কম খরচে উন্নত সেবা দিতে আসছে নম্বর না বদলিয়ে অপারেটর পরিবর্তন সেবা বা এমএনপি। কিন্তু হালে এতে প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অননেট ও অফনেট কলরেট।

যদিও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, আমরা এমএনপির দুটো বিষয় নিয়ে কাজ করছি। প্রথমত: আমরা এটা চালুর জন্য ৩১ জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছি। দ্বিতীয়ত: অফনেট ও অননেট বিলুপ্ত করে একটা নির্দিষ্ট কলরেট তৈরি করে দেওয়ার জন্য টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিকে বলে দিয়েছি। বিটিআরসি এরই মধ্যে একটি যৌক্তিক রেট ঠিক করে দেবে।

মন্ত্রী বলেন, নতুন একটি রেট আমাদের তৈরি করতেই হবে। কারণ, যে প্রযুক্তিগত সুবিধার জন্য আমরা এমএনপি চালু করতে চাচ্ছি তা কার্যকর হবে না। মনোপলি (একচেটিয়া প্রতিযোগিতা) থেকেই যাবে। এতে করে বড় প্রতিষ্ঠান আরও বড় হবে অন্যদিকে ছোট ছোট অপারেটররা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

বিটিআরসির নির্ধারণ করে দেওয়া সর্বনিম্ন অননেট চার্জ প্রতি মিনিট ২৫ পয়সা, অফনেট ৬০ পয়সা। সর্বোচ্চ চার্জ প্রতি মিনিট দুই টাকা। মোবাইল ফোন অপারেটররা এই সীমার মধ্যে থেকে নিজেদের অপারেটরের চার্জ নির্ধারণ করেছে। ফলে একেক অপারেটরের চার্জ একেকরকম। মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন অপারেটরে অননেটে ৩০ থেকে ৩৯ পয়সা এবং অফনেটে ৯১ পয়সা থেকে এক টাকা ৪০ পয়সায় কল করার সুযোগ পাচ্ছে বর্তমানে। এক রেট চালু হলে এই পার্থক্য এবং বৈষম্য থাকবে না।

জানা গেছে,একটি অপারেটরে অননেট কলের সংখ্যা ৯০ শতাংশ। আবার কোনও কোনও অপারেটরে অননেট ও অফনেট কলের সংখ্যা যথাক্রমে ৭০ ও ৩০ শতাংশ।

মোবাইল অপারেটরগুলোর ভাষ্য, অফনেট ও অননেট চালু রেখে এমএনপি সেবায় কলরেট চার্জ বেশি হবে। ক্ষেত্র বিশেষে তা কার্যকর নাও হতে পারে। এমনও হতে পারে মোবাইল ব্যবহারকারীর অজান্তে কল চার্জ বেশি হচ্ছে। মোবাইল ব্যবহারকারীর পক্ষে বোঝা সম্ভব হবে না তিনি অননেটে নাকি অফনেটে রয়েছেন। ধরা যাক, গ্রাহক বাংলালিংক ব্যবহার করেন, এমএনপি সেবা নিয়ে তিনি রবি অপারেটরে যুক্ত হয়েছেন। ওদিকে তিনি ফোন করেছেন টেলিটক নম্বরে। দেখা গেল ওই টেলিটক ব্যবহারকারী এমএনপি সেবার বদৌলতে রবির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছেন। তাহলে তার কলচার্জ কোন অপারেটরে হবে? এটা অনেক বড় সমস্যা ডেকে আনতে পারে। সংশ্লিষ্টরা তাই এই সেবা চালুর আগে এক কলরেট চালুর আহ্বান জানান।

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর