মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২০ ১৭:৩২ পিএম


মেস ভাড়ার ভোগান্তিতে অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৫৭, ৩ জুলাই ২০২০  

করোনা মহামারির সময়ে মেস ভাড়া নিয়ে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে কুমিল্লার সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ, মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা ভাড়ার বিষয়ে মেস ও বাড়ির মালিকদের নমনীয় করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে। মেস ভাড়ার কিছু অংশ মওকুফের বিষয়ে করণীয় নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

জানা যায়, শিক্ষা-সংস্কৃতির পাদপীঠখ্যাত প্রাচীন এ জেলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি), ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা সরকারি কলেজ, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড সরকারি মডেল কলেজ, ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, অজিতগুহ মহাবিদ্যালয়, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা সার্ভে ইনস্টিটিউট এবং কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ, ময়নামতি মেডিক্যাল কলেজ, ইস্টার্ণ মেডিক্যাল কলেজ, সেন্ট্রাল মেডিক্যাল কলেজ, কুমিল্লা মেডিক্যাল অ্যাসিসট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল, কুমিল্লা নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় অর্ধলক্ষ শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়া স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করা বেকার আছে আরো অন্তত ৫০ হাজার। যাদের অধিকাংশ শিক্ষার্থী টিউশন-কোচিং করে মেস ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ নির্বাহ করে। আবার অনেকে টিউশন-কোচিং, প্রাইভেট স্কুল-কলেজে পড়িয়ে সংসার, চাকরির আবেদন ও ভাইবোনের খরচ মেটায়। কিন্তু করোনার প্রভাবে অনেকের উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে সন্তানের ব্যয়ভার বহন করার সক্ষমতা নেই কর্মহীন অনেক দরিদ্র অভিভাবকের। ফলে মেস ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থী ও মেস-মালিকদের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটছে।

কুবি লোকপ্রশাসন বিভাগের আবরার জানান, মেস ভাড়া মওকুফের দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গত বুধবার নগরীর কান্দিরপাড়ে মানববন্ধন করে। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দাখিল করে। এদিকে কুবি রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আবু তাহের গত ১৭ মে মেস ভাড়া মওকুফের বিষয়ে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় এমপি, সিটি মেয়র, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. রুহুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘করোনা দুর্যোগে অনেক অভিভাবক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দরিদ্র পরিবারের অনেক ছেলেমেয়ে পড়াশোনা করছে। তাই আমি চাইব মেস ভাড়া ৪০ শতাংশ আদায় হোক।’

কুবি উপাচার্য প্রফেসর এমরান কবির চৌধুরী বলেন, সংকট নিরসনে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে কার্যকর ব্যবস্থা নিব। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের চিঠি এবং শিক্ষার্থীদের স্মারকলিপি পেয়েছি। তবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাদের শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফের বিষয়ে করণীয় কী, তা আগে ঠিক করবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে সেটা আমরা করব।’

সব খবর
এই বিভাগের আরো খবর